ঢাকা: গোটা বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয়েছে উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব। এনসিপি, জামাত শিবির, জামাতের গুপ্ত ঘাতকরা দেশে নৃত্য শুরু করেছে। মানুষ মারার নৃত্য। এতে সমর্থন দিচ্ছেন খোদ ইউনূস। কারণ তাঁর গদি চাই।

এই ৮৫ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির পাহাড়সমান লালসা আর সহিংসতা দেখছে সারা বিশ্ব।

লাশের পোড়া গন্ধ কেবল বাংলাদেশে এখন। ৫ আগস্টের পর থেকে তো দেশ শেষ, এখন তার ভয়াবহ রূপটা যেন আরো প্রকট। হিন্দুদের প্রকাশ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে!

এইসব ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন:

“গত দেড় বছরে কত যে নিরপরাধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের এবং সমর্থকদের পোকামাকড়ের মতো খুন করা হচ্ছে।খুনের উৎসব চলছে চারদিকে।

তাদের বাড়িঘর লুঠ করা হচ্ছে, ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের আত্মীয় স্বজনদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের কোনও বিচার হচ্ছে না।

ময়মনসিংহের মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর মোর্শেদকে হেনস্থা করতে পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল না।

পুলিশের ভয়ে নিজেকে বাঁচাতে মোর্শেদ তখন বাড়ির দোতলা থেকে নিচে লাফ দেন। পালানো আর হলো না তাঁর, মাথায় আঘাত লেগে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে মৃত্যুকেই বরণ করতে বাধ্য হন।

পুলিশকে তাঁর ভয় পাবার কারণও অমূলক নয়। নিরপরাধ অনেককে লীগের সমর্থক হওয়ার কারণে পুলিশই তো হাতকড়া পরিয়ে জেলে ভরেছে।

আওয়ামী লীগ বিরোধী লোকেরা ক্ষমতায় বসে এই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একটি গণতন্ত্রে কোনও দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না।

দেশের হিংস্র জনগণ ভেবে নিয়েছে নিষিদ্ধ দলের যে কোনও সদস্য বা সমর্থককে হত্যা করা তাদের অধিকার।

আসলে শান্তির ইউনুস আকারে ইঙ্গিতে জনগণকে বলে দিয়েছিলেন নিজ নিজ এলাকা নিরাপদ রাখার জন্য লীগের সবাইকে নিশ্চিহ্ন করার অধিকার শান্তিপ্রিয় জনগণের আছে। এ কারণে লীগ হত্যার কোনও বিচার হয় না।

দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলে সৎ লোক যেমন ছিল, অসৎ লোকও ছিল। আর সব রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক দলে যেমন থাকে। হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের অনেক লোকই অন্যায় করেছে, দুর্নীতি করেছে, সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করেছে। সেই লোকগুলোর সুষ্ঠু বিচার হতে পারতো।

কিন্তু বিচার না করে মেরে ফেলাটাই নর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের সৎ লোকদেরও নির্বিচারে মেরে ফেলা হচ্ছে। এই অরাজকতা, এই বর্বরতা কবে শেষ হবে কে জানে”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *