ঢাকা: ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। শহীদদের প্রতি জানানো হচ্ছে শ্রদ্ধা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনুষ্ঠানিক ভাষণ—সব মিলিয়ে বিজয়ের এক উৎসবমুখর আবহ।

তবে এত আয়োজনেও ভিতরে ভিতরে একটা গভীর ক্ষত, চাপ।

এক গভীর প্রশ্ন চাপা পড়ে যায়—আমরা কি প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছি?

কী হলো দেশের অবস্থা?

এই প্রশ্ন যেমন আবেগের, তেমনি রাজনীতির।

আসলে বিজয় বা যেকোনো দিবস তো কেবল একটি দিন নয়, সেটা আমরণ ভিতরে ধারণ করা।

১৯৭১ সালের বিজয় ছিল কেবল যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; এটি ছিল একটি রাজনৈতিক দর্শনের বিজয়—গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্রের জন্ম, তার ভিত্তি ছিল প্রশ্ন করার অধিকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস।

কিন্তু আজ সেই প্রশ্ন করাই যেন ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।আজ মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই গর্দান দেয়া হয়।

আজকের বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই অনেক সময় সতর্ক হতে হয়। ইতিহাস বিশ্লেষণ, সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা—এসবকে অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

আজকে এই সময় এসে মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরানো হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না।

রাজবাড়ীর পাংশায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফজরের আজানের সময় যখন মানুষ নামাজে যাচ্ছিল, তখন তারা দেখল পুরো সীমানা বেড়ায় আগুন জ্বলছে।

ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে তীব্র পেট্রলের গন্ধ। কবরস্থানের কোথাও বিদ্যুতের লাইন নেই। পরিষ্কার যে এটা পরিকল্পিত হামলা।

যে দেশের জন্য লাখো মানুষ প্রাণ দিয়েছিল, সেই দেশে আজ তাদের সমাধিতেও আগুন লাগানো হচ্ছে।

একাত্তরে যাদের হাত রক্তে রাঙা ছিল, যারা পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর ছিল, যারা এদেশের মা-বোনদের সম্ভ্রম লুটেছিল, তাদের উত্তরসূরিরাই আজ আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনুসের তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রাজাকার-আলবদরদের মানসিকতা আবার জেগে উঠেছে।

পাকিস্তান সম্পর্কে শিবির বলছে, পাকিস্তানের সাথে একটা মিউচ্যুয়ালে চলে আসছি…!

কী দুঃখজনক ঘটনা।

একদিকে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করছে রাষ্ট্র আর অন্যদিকে সেই রাষ্ট্রই নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশে সীমা ধরে দিচ্ছে !

এই দ্বৈততা স্পষ্ট করে দেয়—আমরা হয়তো বিজয় স্মরণ করছি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিজয় ধারণ করছি না।

একদিকে এই সরকার বিজয় দিবস পালন করছে, আর অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলার ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে—এই দুটি বাস্তবতা একসাথে টিকে থাকতে পারে? আমাদের সময় এসেছে সত্যিকার অর্থে বিজয়ী হবার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *