ঢাকা: সাক্ষাৎ নরক দর্শন যাকে বলে। সরকার যদি গুন্ডামি খুন, রাহাজানি ধর্ষণ, লুটতরাজকে প্রশ্রয় দেয় তবে সেই দেশ তো নরক হবেই।

কেউ মারা গেলে তার অনুসারীরা তার জন্য দোয়া করে, ভালো কাজ করে। রাজনীতিবিদ হলে স্মরণ সভা করে। খুন হলে বিচার দাবি করে। মিছিল করে।

কিন্তু ওসমান হাদির বেলায় কী দেখা গেলো? তার অনুসারীরা সারা দেশে একযোগে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট করা শুরু করেছে, গণমাধ্যমের কার্যালয় ভাঙচুর করছে, ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর করছে, হিন্দু পোড়াচ্ছে।

ভাঙা ৩২ যখন কয়েকদিন আগে আবার ভাঙতে গেল তখন সেনাবাহিনী চায় নাই তাই টাচ করতে পারে নাই।

সেনা ও পুলিশ মিলে ফায়ার পর্যন্ত করেছে, কিন্ত ৩২’এর একটা ইটও টাচ করতে দেয় নাই।

অথচ একরাতে যে এতগুলো ঘটনা ঘটে গেলো, সেগুলো রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করে নাই। একটা ধমক পর্যন্ত দেয় নাই।

এর কারণ কি?

উদ্দেশ্য তো পরিষ্কার! নির্বাচন ঠেকানো। জামাত শিবির ইউনূস তো তাই চায়।

যারা হাদিকে হত্যা করেছে তারা ১২ ঘন্টার মধ্যে দেশ থেকে পালিয়েছে। এই ব্যর্থতা কি ধানমন্ডি ৩২ এর? খুনিদের গ্রেপ্তার করতে না পারার দায় কি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের?

খুনিদেরকে ফিরিয়ে আনতে না পারার দায় কি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর? নাকি ঐ হিন্দু যুবকটির?

এই ইউনূস এখন বাঁশি বাজাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

একদিনে এতোকিছু! এসব মববাজি বাংলাদেশে একসময় কল্পনাও করা যেতো না। সম্ভবত শেখ হাসিনাকে এই কারণে স্বৈরাচার বলা হয়।

এক রাতের দেশ:

১) খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারতের হাইকমিশনের কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা।

২) প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ঢাকার প্রধান কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ।

৩) ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে আবারো অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর।

৪) ছায়ানটের কার্যালয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ।

৫) ইন্দিরাগান্ধী কালচালার সেন্টার ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ।

৬) উত্তরাতে ৩২টি দোকান ভাংচুর ও আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।

৭) রাজশাহীতে ডেইলিস্টার-প্রথম আলোর কার্যালয় ভাংচুর।

৮) ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবক-কে গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা!

৯) চট্টগ্রামের প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় পুনরায় অগ্নি-সংযোগ, ভাংচুর।

১০) সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।

১১) নিউজ এজ সম্পাদক নুরুল কবীরের উপর হামলা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *