ঢাকা: আসলে বাংলাদেশের এখন ভারত বিরোধিতাটাই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসিফ নজরুল হিরো বনলেন, বুলবুল হিরো বনলেন রাজাকারদের কাছে। আর দেদার হাতে তালি দিচ্ছেন।

একটি কথা আসিফ না জানলেও সঠিক বুদ্ধি থাকা লোকেরা জানেন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না যাওয়ায় আইসিসি কিংবা বিসিসিআইর কোন ক্ষতি হবে না, ক্ষতিটা হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের। এখন গলা অবধি পানিতে পড়েছে ক্রিকেটাররা। তাদের ভবিষ্যৎ প্রায় শেষ।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের কবর রচনা করার জন্য বুলবুল ও আসিফ নজরুলের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে। ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের শেষ অর্জন হয়ে থাকবে সো কল্ড সম্মান , যা ক্রিকেট বিশ্ব ২ পয়সা দিয়েও পাত্তা দেয় না।

বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। আর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাছে আত্মঘাতী হয়ে উঠবে।

এরা এখন মনে করছে কী হনু রে!! অথচ নিজের নাক নিজেরাই কাটলো। পরের কোনো ক্ষতি হবে না।

কারণ, পেশাদারিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে হয়তো দাঁড় করাবে তাদের। যদিও এই সার সত্য হয়তো বুঝতে পারছেন না বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

উল্টো তাঁরা মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতি ভারত ও আইসিসি’র।

তাঁদের অহংকারের শেষ নেই। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বিসিবি’কে। তবে এইসব কোনো ব্যাপার না।

উল্টো ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “আর্থিক ক্ষতির চেয়েও দেশের ক্রিকেটার, সমর্থক সংবাদমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু জেনে যে দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেখানে তো আর খেলোয়াড়দের পাঠাতে পারি না। কোনও দেশে দল পাঠাব কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সরকারের। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে আমরা খেলতে যাব না।”

বুধবারের বৈঠকে আইসিসি পরিষ্কার করে দিয়েছে, বাংলাদেশ বোর্ড যদি নতজানু না হয়, যদি ইউনুস প্রশাসন ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসায় সম্মতি প্রদান না করে, তা হলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা তাদের হবে না।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা আবার আইসিসি’কে বিষয়টা জানাব। আশা করি তারা আমাদের কথা শুনবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা সন্দিহান। আইসিসি যদি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি না দেয়, তাহলে তো ২০ কোটি দর্শক হারাবে ওরা। আশা করি আইসিসি এত বড় ঝুঁকি নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ বিশ্বকাপ না খেললে সেটা আইসিসি’র জন্য সুখবর নয়। ক্রিকেট বড় হচ্ছে। ২০২৮-এ অলিম্পিকে যাচ্ছে ক্রিকেট। ২০৩২-এ ব্রিসবেন হোস্ট করছে। ২০৩৬-এ অলিম্পিক বিড করতে চলেছে ভারত, সেখানে কমনওয়েলথ গেমসও হবে।

বাংলাদেশ না খেললে সেটা আয়োজক দেশের ব্যর্থতা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করে যাব, যাতে আমাদের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমরা হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমাদের একটাই দাবি। বিশ্বকাপ খেলতে চাই আমরা। কিন্তু ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে চাই।”

কিন্তু ২০ কোটির হুমকি তিনি কাকে দিলেন তা বোধহয় তার আন্দাজের মধ্যেও নেই।

কী হবে তাহলে বাংলাদেশের? যা হবার তাই হবে।

নিয়মমাফিক বিশ্বের আরও ২০টা দেশ এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে, একটি জমজমাট টুর্নামেন্ট হবে কিন্তু বাংলাদেশ খেলবে না।

ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি করে বাংলাদেশেও খেলতে আসবে না বড় কোন দল। আইসিসি ইভেন্ট তো দূরের কথা, এসিসি’র টুর্নামেন্টগুলোও বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। সিরিজ কমিয়ে দেয়া হবে। এগুলো হলে অবাক হবার কিছু নেই।

তখন পাকিস্তানের সাপোর্টে বাংলাদেশ কী করবে? এখনই বা কী করলো?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *