ঢাকা: বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চাপের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি শিকার করল ক্রিকেট বোর্ড।

নাজমুলকে বিসিবি থেকে সরানোর দাবি উঠেছিলো জোরালোভাবে।

সম্প্রতি তামিম ইকবালের এক মন্তব্যের জেরে তাঁকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেন, বিসিবি কর্তা এম নাজমুল।

এই নিয়ে তীব্র বিতর্কের পরও তিনি ক্রিকেটারদের নিয়ে আরও এক পোস্ট করেন।

ক্ষোভে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব নাজমুলের ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেছিলো। তাতে সায় ছিল না নাজমুলের। পরবর্তীতে দাবি ওঠে, নাজমুলকে বিসিবি থেকে সরাতে হবে।

সেই চাপের কাছে বিসিবি এবার বোর্ডের সব দায়িত্ব থেকে নজমুলকে সরিয়ে দিল।

প্রসঙ্গত, নাজমুলকে সরানো নিয়ে বেশ বড়সড় হুঁশিয়ারি এসেছিলো।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোর্ড কর্তা এম নাজমুলকে পদ থেকে সরানো না হলে, কোনও ধরনের ক্রিকেট দেশে খেলা হবে না, এমন কঠোর হুঁশিয়ারি আসে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের থেকে।

তবে এই হুঁশিয়ারির পরেও বিসিবির পদে বহাল ছিলেন নাজমুল।

কোয়াবের তরফে একটি প্রেস কন্ফারেন্স হয়। সেখানে ক্রিকেটার মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন,’ আমরা সবসময় বলি, বোর্ড আমাদের অভিভাবক। তারা এমন মন্তব্য করলে আমাদের জন্য দুঃখজনক।’‌‌

মিরাজ বলেন,’আমরা যে টাকা আয় করি, সেটা বেশিরভাগ আইসিসি ও স্পন্সর থেকেই আসে। আজ বিসিবির যে টাকা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে একটা ম্যাচও যে খেলেছে, তারও এখানে অংশ আছে। প্রতিটি মানুষের কষ্টের বিনিময়ে আজকের বোর্ডের টাকা। এতে প্রত্যেক মানুষের হক আছে।’ মিরাজের সাফ কথা,’খেলা হচ্ছে বলেই বোর্ড ভালো জায়গায় আছে। খেলাই যদি না হয়, স্পন্সরও আসবে না, আইসিসি থেকে লভ্যাংশও আসবে না।’ টাকা প্রসঙ্গে মিরাজ বলছেন,’অনেকের ধারণা, সরকার থেকে আমরা টাকা পাই। না, আমরা মাঠে খেলেই সম্পূর্ণ টাকা পাই। আমরা যে আয় করি, আমরাই সবচেয়ে বেশি আয়কর দেই, ২৫–৩০ শতাংশ সরকারকে টাকা দিই।’

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বোর্ডের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে সভাপতি আমিনুল ইসলাম তার ওপর অর্পিত বিশেষ ক্ষমতাবলে (গঠনতন্ত্রের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নিজেই অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *