ঢাকা: ২০২৪, ৫ আগস্টের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। এখন যেন উত্তেজনা আরো বাড়ছে।
অবশ্য দুই দেশের সম্পর্কে এই অবনতির জন্য ভারত দায়ী নয়। দায়ী বাংলাদেশের ভারতবিদ্বেষী ভাবনা। এবং শুধু তাই নয়, এই দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের যে বর্বরভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে তা নিয়ে ভারতে তীব্র প্রতিবাদ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এতকিছুর পরেও ইউনূস আমলের বাংলাদেশ নমনীয় নয়।
সবমিলিয়ে ভারতীয়দের মধ্যেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে ধীরে ধীরে। এমন পরিস্থিতিতে আইপিএলে বাংলাদেশি পেসারকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। আর তার পর থেকে মুস্তাফিজুরকে নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ চলছে। এবং তাঁকে বাদ দেয়া হয়েছে।
মুস্তাফিজুরকে বাদ দিতেই ভারতকে পাল্টা চাপ বাংলাদেশের। আবারো মৌলবাদীদের দাঁত নখ বেরিয়ে আসছে।
মুস্তাফিজুরকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া না হলে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না, জানিয়ে দিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার কথাও ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ক্রীড়া মন্ত্রণকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে বলেছি, বাংলাদেশের ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যদি ভারতে খেলতে না পারে, তা হলে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ বলে মনে করতে পারে না।”
মোস্তাফিজকে নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আসিফ নজরুলের আবারও ফাঁকা আওয়াজ শোনা গেলো। অবশ্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সামনে কথা বলার সময় তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কেমন ছিলো তা তো দেখাই গেছে।
২৬ লাখ ভারতীয়ের কথা তো তাঁর মনে আছে!
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে বিসিবি।
বিসিবি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের একটি জরুরি সভা ৪ জানুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’
পর্ষদ ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে এবং ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের অংশগ্রহণ ঘিরে সৃষ্ট সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমান অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয় দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ভারতে ভ্রমণ করবে না।
এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, টুর্নামেন্টের কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অনুরোধ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সব ম্যাচ যেন ভারতের বাইরে কোনো ভেন্যুতে স্থানান্তর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।’
বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, আইসিসিকে পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার শঙ্কার কারণে ভারতে বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয়। সে কারণেই ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানানো হয়েছে।
