ঢাকা: বাংলাদেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ করে ফেলেছে এই সরকার। ইউনূস গং দেশটাকে জঙ্গী আস্তানায় পরিণত করেছে।
ইউনূস ক্ষমতায় বসার পর থেকেই পাকিস্তান সুযোগে নিজেকে গলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশকে জঙ্গীস্তান বানানোর জন্য তৎপর এরা।
এর মধ্যেই মাদ্রাসায় বোমা বানানোর ঘটনাটি সামনে এসেছে, যা দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের।
মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিন শেখ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। রাজীব তামিম–সারোয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত।
তবে পুলিশ তাকে এখনো ধরতে সক্ষম হয়নি। ঘটনার পর থেকে আল আমিন পলাতক। ইতিমধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আওয়ামি লীগ জমানায় একাধিক বিস্ফোরণ এবং ব্লগার হত্যাকাণ্ডে জেএমবির সক্রিয় সদস্যরা যোগ সামনে এসেছে।
ধর্মের আড়ালে দেশে এইগুলো হচ্ছে তা কি জানতো না প্রশাসন? এতদিন কেন চুপ ছিলো? আশ্রয় আর প্রশ্রয় দিচ্ছিলো অন্তর্বর্তী সরকার? এখন সামনে আসায় উপায়হীন হয়েই কি গ্রেপ্তারি?
কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় গত শুক্রবারের (২৬ ডিসেম্বর) ভয়াবহ বিস্ফোরণের আগে সারা রাত জেগে হাতে তৈরি শক্তিশালী বোমা (আইইডি) তৈরি করেছিলো প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তথা জঙ্গী শেখ আল আমিন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকার একটি আদালতকে এই তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় গতকাল রিমান্ড শুনানিকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের আগের রাতে আল আমিন নিজেই ওই মাদ্রাসায় বোমাগুলো তৈরি করেছিলেন।
মামলায় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত এই ছয় আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শুনানিকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আল আমিন এর আগেও উগ্রবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলো। পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় নব্য জেএমবি-র সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং কারাবাস করে সে।
তবে ইউনূসের তৎপরতায় তো জঙ্গীরা এখন কারাগারের বাইরে। কারাগারের ভিতরে আছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
গত শুক্রবার সকাল ১০টার পর ওই মাদ্রাসায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর আল আমিন তার আহত স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। তবে তাদের সেখানে রেখে সে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল ও পরবর্তী অভিযানে পুলিশ বিপুল পরিমাণের বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—২টি হাতে তৈরি বোমা (আইইডি), ৫টি বৈদ্যুতিক বোমাসদৃশ যন্ত্র, ৩৯৪ লিটার তরল রাসায়নিক, ২৭ কেজি পাউডারজাতীয় পদার্থ, লোহার বল, তারযুক্ত পেরেক এবং দুটি শটগানের কার্তুজ। এ ছাড়া একটি টাকা গণনার মেশিন, হ্যান্ডকাফ, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল এবং কিছু ধর্মীয় ও ‘জিহাদি’ বই জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে:
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) পুলিশ আল আমিনের স্ত্রী আসিয়া বেগম (২৮), তার ননদ ইয়াসমিন আক্তার (৩০) এবং আসমানী খাতুন ওরফে আসমাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও বাগেরহাট থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা—শাহীন ওরফে আবু বকর ওরফে মুসা ওরফে দিবা সুলতান (৩২), আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন (৫০) এবং শফিয়ার রহমান ফকির (৩৬)।
তবে মাস্টারমাইন্ড আল আমিন পলাতক।
