ময়মনসিংহ: দীপু চন্দ্র দাশ—একজন গরিব, নিরস্ত্র, হিন্দু—শুধু তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পিটিয়ে, গাছে ঝুলিয়ে, জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো পাশবিকতা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। হাজার হাজার মুসলমানের সামনে জ্বালিয়ে দেয়া হলো তাঁকে।
বাংলাদেশে আজ ‘ হিন্দু ‘পরিচয় অপরাধে পরিণত হয়েছে।
এছাড়াও ময়মনসিংহে দীপু দাস এবং লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে তার শিশু কন্যা আয়শাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
এই ‘সন্ত্রাসের’ বিচারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বিক্ষোভ মিছিলটি এদিন, রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো প্রদক্ষিণ করে এবং টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দীপু দাস পুড়ে মরে প্রশাসন কি করে’, ‘মব সন্ত্রাসের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
ছাত্রদল ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা যে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম—যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই তার ধর্ম পালন করবে, মতাদর্শ চর্চা করবে এবং কর্মস্থলে থেকে দেশকে এগিয়ে নেবে—সেই বাংলাদেশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে গুজব, উসকানি ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল আমাদের সহযোদ্ধা উসমান হাদির দাফনস্থল নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়েছিল, কিন্তু সচেতন ছাত্রসমাজ ও জনগণ তা রুখে দিয়েছে। এই গুজব থেকেই ধীরে ধীরে মব তৈরি হয়।”
