বাগেরহাট: বাগেরহাটের মর্মান্তিক ঘটনা কাঁদাচ্ছে গোটা দেশকে।

ছাত্রলীগ দেশের করুণ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলো। বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রলীগ।

“বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পরিবারে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের গভীর মানবিক বিপর্যয়কে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

একজন রাজনৈতিক কর্মীর পরিবারকে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব ও মানসিক চাপে বন্দি করে রাখার পরিণতিই এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।

দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি থাকা একজন কর্মীর পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত অবস্থায় দিনের পর দিন ভেঙে পড়ছিল।

জামিন প্রক্রিয়ার পথ রুদ্ধ থাকা, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক নিঃসঙ্গতা তাদের চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দেয়। এই ঘটনায় আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন কেবল একজন কর্মীকেই আঘাত করে না; তার পরিবার, তার সন্তান, তার অস্তিত্বকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়”।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে এই ঘটনা কোনো ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়, এটি একটি দখলদার রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত সহিংসতার ফল।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে কর্মীদের কারাগারে বন্দি রেখে, পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেওয়াই এই অপশাসনের নিয়মিত চর্চা।

গত দেড় বছর ধরে এ ধরনের নির্যাতন চলছে, যার নীরব শিকার হয়ে উঠছে অসংখ্য পরিবার।

৫ আগস্ট ২০২৪ থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই অবৈধ, অসাংবিধানিক অপশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে সংগ্রাম করে আসছে।

আমাদের লড়াই কোনো সহানুভূতি বা দয়ার জন্য নয়; আমাদের লড়াই একটি গণতান্ত্রিক, শান্তি-সমৃদ্ধ, আইনের শাসনভিত্তিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আদর্শিকভাবে বলীয়ান বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য।

এই শাসনব্যবস্থা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ইচ্ছাকৃতভাবে বিপন্ন করছে। বিচারকে স্তব্ধ করে, মানবিকতাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে এবং রাষ্ট্রকে ভয় ও নিপীড়নের যন্ত্রে পরিণত করাই তাদের শাসনের মূল বৈশিষ্ট্য।

এই বাস্তবতা আমরা জানি, দেখছি এবং এর বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শপথ করে ঘোষণা করছে, এই দখলদার অপশাসনের ক্ষমতার মসনদ ভেঙে না পড়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম থামবে না।

প্রতিটি নিপীড়িত পরিবার, প্রতিটি হারানো জীবন আমাদের লড়াইকে আরও দৃঢ় করে। একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার, এই অঙ্গীকার থেকে একচুলও বিচ্যুতি হবে না”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *