ঢাকা: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরবিহীন বর্বরতা মঞ্চস্থ হলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. আ. ক. ম. জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া এবং অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদসহ অন্যান্য শিক্ষকদের উপর অবৈধ সরকারের মব-সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলা পরিচালিত হয়।
এই মব সন্ত্রাসীরাই আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রপ্রতিনিধি সেজে শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা ধ্বংস করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে শিক্ষককে হেনস্তা করেন তিনি।
একপর্যায়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন দৌড়ে পালাতে গেলে তাঁকে ধাওয়া করেন এ বি জুবায়ের। কতটা জঘন্য হয়েছে এদের মানসিকতা!
দুপুর দুইটার দিকে এ ঘটনার পর এ বি জুবায়ের এক ফেসবুক পোস্টে দম্ভের সাথে লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ পাঁচজন শিক্ষক ক্যাম্পাসে গোপন বৈঠকে যুক্ত হয়েছিলেন। খবর পেয়ে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তবে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে তাঁরা পালিয়ে গেছেন।
এই এ বি জুবায়ের গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।
ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার দিতে হবে বলা আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার শিক্ষক আ ক ম জামাল, নীল দলের পোস্টেড নেতা জিনাত হুদাসহ ৫ জন ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষক আজকে ক্যাম্পাসে এসে গোপন মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করি।
কিন্তু আনফরচুনেটলি আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় কুলাঙ্গারগুলো! ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা এদের ক্লাস-পরীক্ষা সব বয়কট করেছে। তারপরও এরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সাহস কীভাবে পায়! প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে। খুনিদের সাথে কোনো সহাবস্থানের সুযোগ নেই। সবগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে শীঘ্রই।’
শিক্ষকদের উপর এই হামলা কেবল ব্যক্তি আক্রমণ নয়; এটি জ্ঞান অর্জন ও মুক্তবুদ্ধির তীর্থভূমিখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণকে অপমান করে জাতির মেরুদণ্ডে আঘাতের ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রচেষ্টা।
৫ আগস্টের পর থেকেই শিক্ষকরা ক্রমাগত অপমান, লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হচ্ছেন।বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে টর্চার সেলে।
