ঢাকা: ঢাকা তেজগাঁও কবর থেকে মানুষের কঙ্কাল বিক্রি! না এটা কোনো ভৌতিক সিনেমা নয়, বাস্তবে এই বাংলাদেশের ঘটনা।
এই ঘটনায় মনে পড়ে যাচ্ছে মোশাররফ করিম অভিনীত ‘কঙ্কাল চোর’ নাটকটির কথা।

একদিকে চাঁদাবাজ, হত্যা, ধর্ষণ,লুন্ঠন শেষ অবধি মানুষের কঙ্কালটাও বিক্রি।জাতি ভিতরে ভিতরে কতটা অভিশপ্ত, কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
জীবিত অবস্থাতে তো শান্তি নেইই দেশে, মরলে কবরেও শান্তি নেই। এই জাতি নাকি আবার মুসলমান! ধর্মের নামে হাতে দা উঠাতেও দ্বিধা করে না।
একবার ভাবুন তো… আপনি মারা গেছেন, পরিবারের কান্না, দোয়ার মধ্য দিয়ে আপনাকে কবরস্থ করা হয়েছে। সবাই শোকসন্তপ্ত।
সবাই জানে, ধর্মীয় মতে তাই বিশ্বাস করা হয় যে এখন আপনি কবরে শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন। এটাই শেষ ঠিকানা। মাটির নিচে।
কিন্তু আপনার পরিবার যখন আপনার কবরের সামনে এসে চোখের পানি ফেলছে, তখন কিন্তু আপনি আর কবরে নেই। যে কঙ্কালটা ছিলো মাটির ভেতর, সেটা সেখানে নেই। নিয়ে গেছে বিক্রির জন্য।
এই দেশটায় কি এত অভাব, এত অমানবিকতা দেখা দিয়েছে যে কঙ্কালও ছাড় পায় না?
এমনই একটি চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চক্রে তো আর চারজন নেই। আরো আছে।
রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড়সহ সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র তেজগাঁও থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ, ফয়সাল আহম্মেদ।
অর্থের লোভে ধর্ম বিক্রি করে এরা। এখন অবশ্য দোষের কিছু না।
গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্র। গ্রেপ্তারের সময় ক্যাম্পাসের হোস্টেলের একটি রুম থেকে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ও বিভিন্ন ব্যাগ-বস্তা থেকে ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়।
কঙ্কালগুলো তারা ক্রেতাদের কাছে অনলাইনে বিক্রি করতো। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া রাস্তার উপর অবৈধ উপায়ে কবরস্থান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে।
সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
তারই দেয়া তথ্য মতে সকাল অনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মো. আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
এরপর ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রটি গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে চড়া দামে বিক্রি করতো।
তারা মোটামুটি কঙ্কালগুলো ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনে তারপর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
তারা যে এইভাবে কঙ্কাল বিক্রি করে, এটা তাদের ক্যাম্পাসের অনেকেই নাকি জানে।
জানা যাচ্ছে, তাদের কাস্টমার বেশির ভাগ মেডিকেল স্টুডেন্ট।
লাশগুলো যখন কবর দেয়া হয় তখন ওরা দেখে রাখে। এক বছর পর কঙ্কাল উঠানোর চেষ্টা করে।
আর যে কবরগুলো এমনি আছে, পাহারা নেই, নির্জন সেগুলো তাদের টার্গেটে থাকে।
তাদের যে এজেন্ট আছে বা তাদের যে লোক বলা আছে, তাদের দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে। সেটা কেমিক্যাল দিয়ে প্রসেস করে তারপর ফিটিং করে।
ভাবুন একবার দেশটার ব্যবস্থা!
