ঢাকা: জাহাঙ্গীর আলম আপনিই না বলেছিলেন আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে?
পুলিশকে তো আপনিই নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী? তাদের আইনের আওতায় না আনলে পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আপনিই তো?
তা আজ কী করে কথা ঠিক পাল্টে ফেললেন? আজ যখন ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী আর বাচ্চা মারা গেলো, নেতা বিনা অপরাধে জেল খাটছে, জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে- তখন আপনি বললেন সরকার আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নয়, অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে!
তা কী অপরাধ করেছিলেন সাদ্দাম? কী অপরাধ করেছিলো তার ৯ মাসের শিশুটা?
আজ যদি সাদ্দামের কিছু হয়, তাতেও তো অবাক হবার কিছু নেই। কারণ এই জঙ্গীরাই তো হত্যা করছে কারাগারে লীগ ধরে ধরে।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষির সার্বিক বিষয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেশ কিছু মিথ্যা মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকরা স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুতে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলার বিষয়ে উপদেষ্টার কাছে জানতে চান। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছে সাধারণ মানুষ।
কিন্তু কৃষির বাইরে অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি ছিলেন না উপদেষ্টা।
সাংবাদিকরা সাদ্দামের প্যারোলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘না, আমি কৃষি ছাড়া কোনো উত্তর (দেব না)।’
একজন সাংবাদিক তখন বলেন, ‘আপনি তো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও।’ এসময় উপদেষ্টা বলেন, ‘না, স্বরাষ্ট্রের সময় আমি ডাকবো।’
‘আপনি তো দায়বদ্ধ’—আরেকজন সাংবাদিক এ কথা বললে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘না, আমি দায়বদ্ধ না। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। আমি কৃষি ছাড়া বলবো না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করবেন। যেহেতু কৃষকদের সমস্যাগুলো আপনারা বলেন না। এগুলো হলো সমস্যা।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নয়, সরকার ক্রিমিন্যালদের (অপরাধী) জামিন দেওয়ার বিরুদ্ধে।’
প্রকারান্তরে সাদ্দাম তথা আওয়ামী লীগকেই ক্রিমিনাল বানিয়ে দিলেন তিনি।
