ঢাকা: বাউল শিল্পীরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশে। তাঁদের ওপর চলছে মারপিট। পিটিয়ে, মেরে বাউলকে তাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
মানিকগঞ্জের ঘিওরে একটা মেলায় গান গেয়েছিলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার। তিন সপ্তাহ পরে হঠাৎ মামলা, গ্রেফতার, জেলে পাঠানো।
অভিযোগ তিনি নাকি ধর্ম অবমাননা করেছেন। তবে এই সরকারের আমলে তো কোনো অভিযোগের ব্যাপারে স্পষ্টতার দরকার নেই।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলাটাই যথেষ্ট। এটাই প্রমাণ।
জুলাইয়ে যে রক্তাক্ত ক্যু ঘটিয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে, তার পরবর্তী ধাপ এগুলো।
ইউনূসকে শুধু সামনে রাখা হয়েছে মুখোশ হিসেবে। আসল ক্ষমতা এখন জামায়াতে ইসলামী আর তাদের ওহাবি মতাদর্শের অনুসারীদের হাতে।
তাদের উপদেষ্টা পরিষদে বসে আছে কারা? তা অজানা নয় দেশবাসীর।
জামায়াতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থকরা, হেফাজতের সহানুভূতিশীলরা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল চাওয়া লোকজন। এদের কাছ থেকে বাউল শিল্পীদের সুরক্ষা আশা করা মূর্খতা।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বাড়াবাড়ি রকমের কথা বললেন।
তিনি বলেছেন, ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে ভন্ড বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন।
অবশ্য তারা দাবি করলেই সব হয়।
আবুল সরকারকে ভন্ড বাউল উল্লেখ করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভন্ড বাউল আবুল সরকার প্রকাশ্যে আল্লাহকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মিথ্যাচার করে স্থানীয় সচেতন মুসলমানদের প্রতিবাদের মুখে গ্রেফতার হয়েছেন, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি কাম্য নয়।
ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের কেউ স্থানীয় প্রতিবাদী আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনতাকে হয়রানি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে আমরা কঠোরভাবে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।
মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে আমরা উসকানিদাতা আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
