ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘এই সরকার কিন্তু কোনো দলের পক্ষে নয়। এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি।’

আদৌ কি তাই? অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ? উপদেষ্টা যাই বলুন, বাস্তবতা তা বলে না।

দেশের আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের আচরণ তো সে কথা বলে না।

সরকারের ভিতর সরকার চালাচ্ছে জামায়াত শিবির।

দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচি কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতের কার্যক্রম তুলনামূলক নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হচ্ছে।

এইযে স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস ও অবমাননার ঘটনায় রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা, এগুলো কী প্রমাণ করে?

সরকার মুখে নিরপেক্ষতার কথা বললেও, সিদ্ধান্ত এবং নীরবতার মধ্য দিয়ে যে পক্ষপাত প্রকাশ পাচ্ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট।

শুধু বক্তব্য দিলেই কি নিরপেক্ষ হয়? কর্মে নিরপেক্ষ না হলে?

আজ শনিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কী বললেন দেখি, তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০৮ সালে। এর পরে আসলে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। যাদের বয়স ৩০ বা এর আশেপাশে তারা সত্যিকার অর্থে কখনো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।’

বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা পর্যবেক্ষকদেরকে আহ্বান করেছি সমস্ত পৃথিবী থেকে। ইইউ, আমেরিকার রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট তারা প্রত্যেকেই কিন্তু পাঠাবে এবং নেতৃত্বে যারা আসবে তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।

আমরা বলেছি সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দেবো। একটি কথা আরও বলেছি, আগেরবারেও বলেছিলাম যখন প্রতীকী নির্বাচন হয়েছিল, সরকার আপনাদেরকে কোনো সাহায্য করতেও যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা না চাইবেন।

কারণ সরকার যদি এগোয় তাদের ব্যাপারে, তাহলে মনে করা হবে যে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা সেটা এক বিন্দুও করব না। আমরা দেখব তাদের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়। এরপর তারা যদি কোনো ক্ষেত্রে সহায়তা চান, সে ক্ষেত্রে আমরা সেই সহায়তা দেবো। সরকারের এই হচ্ছে ভূমিকা।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *