ঢাকা: এরা নাকি ধার্মিক? কোনোদিন অন্যায় করে না? তা একজন মৃত ব্যক্তিকে কুকুরের সাথে তুলনা করা কোন ধর্মের পরিচয়?
জামাতের মুফতী আমির হামজা বেগম জিয়ার ছোটো ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম নিয়ে মাহফিলে ব্যাঙ্গ করে বলেন, “যদি কোকো না ডেকে কেউ ‘উ’ দিয়ে কুকু আর শেষে যদি ‘র’ লাইগা যায় তবে ডাকবে কুকুর!”
কেমন ধার্মিক ভাবুন মুফতী?
প্রার্থীর মুখের ভাষা যদি এমন হয়, মানুষকে যদি এই দৃষ্টিতে দেখেন, তিনি আর জনসেবা কী করবেন?
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আমির হামজার এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তবে আমির হামজা দাবি করেছেন, আলোচিত বক্তৃতাটি ২০২৩ সালের। এটা নিয়ে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ভোটের আগে এই এক বিষয় নিয়ে পারদ চড়ছে। কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে ক্ষমা না চাইলে আমির হামজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার আলটিমেটাম দেন।
লিখিত প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটি ইতর প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এরূপ অশালীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামী বক্তার নিকট থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তাঁর বক্তব্য উসকানিমূলক ও চক্রান্তমূলক, যা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল।
এদিকে আবার দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আমির হামজা বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে তাঁর দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের।
তিনি বলেন, ‘আমি সেই সময়ই একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণটি দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি।’
