ঢাকা: বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে ধাবিত হয়। আসলে কোটা উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্যই ছিলো আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করা।
আন্দোলন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের দিকে পরিচালিত করে। এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে, তার মূল পরিকল্পনাকারী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির (আইসিএস)। এই সংগঠনটির পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের অনেক ক্যাডার ভর্তি হয়েছে। সূত্র বলছে, এখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল।
এই সংগঠনটির পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সাথে খুব গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এবং এর অনেক ক্যাডার পাকিস্তানেও চলে গেছে।
বহু তথ্য রয়েছে এই আন্দোলনকে ঘিরে। একটা সরকার পতন শুধু শুধু শিক্ষার্থীরা করতে পারে না। এর পেছনে যদি বড় শক্তি না থাকে।
সূত্র জানায়, আইএসআই সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ভুয়া ডিপি ব্যবহার করে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের উস্কানি দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিল।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের শিক্ষার্থীরা আইএসআইয়ের খপ্পরে পড়ে এবং আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে।
এই মদতদাররা এখনো আরো বড় ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
এই অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন যে জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভকে কাজে লাগাচ্ছে এবং সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে।
একাধিক তথ্য থেকে জানা যায় যে, শেখ হাসিনার পরবর্তী আমলে জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান শক্তি হিসেবে পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বাংলাদেশে একটি টেকসই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগে দলটি একটি বিস্তৃত বিরোধী জোটের মূল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
সূত্রগুলি বলছে যে গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার অনেক আগেই এই অভিযানটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সক্রিয় করা হয়েছিল।
এই তথ্য অনুসারে, সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে জামায়াত নেতাদের প্রাথমিকভাবে জনসমক্ষে কম পরিচিতি দেয়ার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এনসিপিকে ঠেলে দেয়া ছিলো কৌশলগত উদ্দেশ্য। যাতে আন্তর্জাতিক তদন্ত ঠেকাবে।
২০২৪-র তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থান ছিলো একটি ষড়যন্ত্র, আরো পরিষ্কারভাবে বলা যায়, এটি একটি পাকিস্তানপন্থী, স্বাধীনতাবিরোধী, কট্টর ইসলামপন্থী ষড়যন্ত্র।
তুরস্ক, পাকিস্তান, আইসিস, তালেবানী ষড়যন্ত্র আসলে।
পরাজিত শক্তি ২০২৪-র আগষ্টে দেশীয় দোসরদের সাথে নিয়ে ‘মেটিক্যুলাস’ ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করে।
এদিকে মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠী শক্তি অর্জন করেছে। আইএসআই’র বিভিন্ন গোষ্ঠী ঢাকা রয়েছে।
জামাত এনসিপি-এলডিপিকে নিয়ে ১০দলীয় নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। ২৪-র ভুয়া আন্দোলনের অনেক নেতানেত্রী এখন প্রকাশ্যে বলছে, তাদের ভুল বোঝানো হয়েছিলো অথবা তাঁরা ভুল বুঝেছিলো। সবার এখন প্রাণে ভয়ে।
এনসিপি জামাতের অবৈধ সন্তান, জামাত ১৯৭১-র মতই বাংলাদেশ বিরোধী-এদের কারো হাতেই দেশ নিরাপদ নয়।
হাসিনার বিদায়ের আগ পর্যন্ত জঙ্গী গোষ্ঠীর সংযমের পর্যায় অব্যাহত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর, জামায়াত-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলি দ্রুত প্রকাশ্যে চলে আসে, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং দলকে প্রান্তিক থেকে বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রে পুনঃস্থাপন করে।
ভারতের কাছে, জামায়াতের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসাকে দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত লাল পতাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াত দেশদ্রোহী। এর প্রমাণ দেশবাসী জানে। জানে ভারত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে জামায়াত এবং নয়াদিল্লিকে একটি আধিপত্যবাদী প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
শেখ হাসিনার আমলে জঙ্গীবাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ছিলো না। ভারত ও বাংলাদেশ অভূতপূর্ব নিরাপত্তা সমন্বয় অর্জন করেছে, বিদ্রোহীদের জায়গা ধ্বংস করেছে এবং জঙ্গিবাদ দমন করেছে।
