ঢাকা: কড়াইল বস্তির মানুষগুলো বুঝে উঠতে পারছে না কী থেকে কী হয়ে গেলো। স্বপ্নগুলো কীভাবে এক নিমেষে পুড়ে ছাই করে দেয়া হলো! কষ্টের শেষ নেই জীবনের।

ছোট ছোট বাচ্চাগুলো চুপ করে আছে, খেলাধূলা করা এই সময় উচিৎ নয় এটা তারা বুঝেছে।

ছোট্ট মেয়েটার ঘর কড়াইল বস্তিতে।তার বাবা নেই, মারা গেছে,তার মা ও তার সাথে ছিলো না,কাজে গেছে ফেরে নাই তখনো।

মেয়েটা ভয়ে কাতর, তার আর তার মায়ের একমাত্র সম্বল ঘর আর ঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,এখন কোথায় থাকবে তার জানা নাই।

গভীর রাতে বাচ্চাগুলো বাইরে দাঁড়িয়ে। সরকার নেই।

কড়াইল বস্তির আগুন পরিস্থিতির ভয়াবহ অবস্থা। অনেক গুলো পরিবার তাদের সব কিছু হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। মানুষগুলোর পুনর্বাসন দরকার,কিন্তু তাদের দায় দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নেয় না।

রাজধানীর কড়াইল বস্তি প্রায় ১ লক্ষ অসহায় মানুষের মাথা গোঁজার আশ্রয়স্থল ছিল যা পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হলো!

এদেরকে পুঁজি করে ঢাকার বহু মানুষ এমপি-মন্ত্রী হয়, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়।এই বস্তিবাসীই জুলাই-আগস্টে হাতিয়ার হিসেবে সামনের সারিতে ছিল যার ফল আজকে পেল।

খুব দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে দেশে।

কড়াইল বস্তিতে আগুন লেগে (আগুন লাগানোতে না) ১ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে আজ।

মানুষগুলোকে দেখে কান্না আসে। খোলা মাঠে নিঃস্ব অবস্থায় তাদের রাত কেটেছে। সঙ্গত কারণেই প্রচুর বাচ্চা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হবে। হয়তো মারাও যাবে।

রাজধানীর এক পাশে প্রায় এক লাখ মানুষের বেদনা কোথাও কাউকে স্পর্শ করছে বলে মনে হলো না।

আজকে যে কয়টা মানুষ খোলা আকাশের নিচে, আজকে যে কয়টা বাচ্চা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হবে…তারা ঠিক কোন দায়ে সভ্য মানুষের সাথে সদ্ভাব করবে? কেন আলাদা জাত ভাববে না? বলতে পারেন?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *