ঢাকা: কোথায় রাস্তাঘাট যেখানে নোংরা সেখানে তো পরিষ্কার করতে গেলোনা, কিংবা যেখানে রাজাকারের ছবি সেখানে জুতা মারতে গেলোনা! পাগলেও নর্দমা চেনে!

বাংলাদেশের পাগল যায় শুধু দুর্গা পুজোয় গণেশের পায়ের নিচে কোরান রাখতে, মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত স্থাপনা, ভাস্কর্য, চিন্তা চেতনা ধ্বংস করতে! বুঝতে পারছেন এই দেশের পাগল কত উচ্চ মানের? যারা জানে কোথায় ভাঙতে হবে!

তা নাহলে বেছে বেছে মধুর ক্যান্টিনে হামলা কেন?

এই মধুর ক্যান্টিনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস। ৪৮-সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে নুরুল আমীন সরকার আরোপিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সভা, ৪৯-এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, ৫২-র আগুনঝরা দিন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী যুদ্ধ, ১৯৫৮-৬০ সালের প্রতিক্রিয়াশীল বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এ সবকিছুর সঙ্গে এর নাম জড়িয়ে আছে গভীর ভাবে।

তা মুক্তিযুদ্ধের সাথে নাম জড়িত যদি আছে, তাহলে সে জায়গা তো এই পাকিস্তান হতে চলা দেশে ভাঙচুর হবেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর চালিয়েছে এক ব্যক্তি। তাঁর গায়ে ইসলামী ধর্মীয় পোশাক। তবে ধর্মীয় ব্যক্তি এত উগ্র মনোভাব পোষণ করেন কীভাবে?

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ব্যক্তি নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হঠাৎ করে ওই ব্যক্তি ক্যান্টিনের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার–টেবিলসহ ছাত্রদলের ব্যানার ভাঙচুর করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে থাকা চারটি টেবিল ভেঙে পড়ে আছে। পাশাপাশি ক্যান্টিন এলাকায় টাঙানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একটি ব্যানারও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মধুর ক্যান্টিনের মালিক অরুণ কুমার দে বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে কর্মচারীদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছেন। লোকটি কোথা থেকে এসেছে, তা তিনি বলতে পারেননি। ভাঙচুরের পর প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে গেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *