মুন্সীগঞ্জ: ঈদে বাড়ি যাবার জন্য সবার প্রাণ উন্মুখ হয়ে থাকে। পরিবারের সকলের সাথে সাক্ষাৎ, এটা আসলেই বড় পাওনা।
তবে যারা বোকামি করছেন, চলন্ত ট্রেন, চলন্ত লঞ্চ ধরে ঝুলে যাচ্ছেন, তাড়াহুড়ো করে লাফ দিচ্ছেন- তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করেছেন আসলেই। আবেগের সাথে বুদ্ধি কাজে না লাগালে জীবন চলে যাবে।
জলযানে ঝুলে থেকে অল্পের জন্যে জীবন রক্ষা পেলেন এক যাত্রী। এত দুর্ঘটনা ঘটছে, ঈদের সময় দুর্ঘটনা আরো বেড়ে যায়। তারপরেও নিস্তার নেই।
এবার মুন্সীগঞ্জ ঘাটে ঘটলো অস্বাভাবিক ঘটনা। অবশেষে পানিতেই পরে যান ঝুলন্ত যাত্রী। ঈদ করতে জীবনের মায়া ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননা তাঁরা।
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে ভেড়ার চেষ্টা করছিল একটি লঞ্চ। সে সময় চলন্ত লঞ্চ থেকে ঝুঁকি নিয়ে নামার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। কিন্তু নামতে পারেননি।
লঞ্চের সামনের অংশে বেশ কিছুক্ষণ ঝুলে ছিলেন। একপর্যায়ে না পেড়ে পড়ে যান নদীতে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। ব্যক্তির ঝুলে থাকা দেখে আঁতকে উঠছেন সবাই।
চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী রব রব-৭ নামের লঞ্চ থেকে নামার চেষ্টা করছিলেন ওই ব্যক্তি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. জাহির, তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা।
লঞ্চটি তীরের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই তিনি লাফ দেন। ভারসাম্য হারিয়ে তিনি লঞ্চের সামনের অংশে বেশ কিছুক্ষণ ঝুলেও থাকেন এবং একপর্যায়ে ধলেশ্বরী নদীতে পড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দায়িত্বরত ছিল ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল।
ধলেশ্বরী নদীতে পড়ে যাওয়া ওই ব্যক্তি তলিয়ে যাবার সময় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই যাত্রী সুস্থ আছেন।
