ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এর আগেও
‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ওপর হামলা, নাশকতা-ধ্বংসযজ্ঞের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে’ মানববন্ধন করেছে।
এবার এই প্রহসনের নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান জানালো। এবং এই ভোট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নীল দল।
এই নিয়ে সোমবার প্রেস বিবৃতি দিয়েছে তারা।
সেখানে বলা হয়েছে, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত জাতীয় নির্বাচন জাতির কাছে কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
এবং সরাসরিভাবে এটি জাতির সাথে প্রহসন এবং প্রতারণার শামিল।
বিবৃতিতে বলা হয়:
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সম্ভব নয় এবং এই নির্বাচনে সকল জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে না বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের শিক্ষকবৃন্দ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নীল দল মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল – গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া এবং এদেশের সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় সকল জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা।
কিন্তু বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বহু রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন দেশে গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ গঠন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
নীল দল মনে করে, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তথা দেশের গণতান্ত্রিকে প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অপরিহার্য।
দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে একটি ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন না হলে দেশের সাধারণ জনগণের নিকট এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না।
উপরন্তু, এ ধরনের অন্যায্য ও ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে এবং চলমান রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতাকে দীর্ঘায়িত করে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নতি ব্যাহত করবে।
ইতোমধ্যেই সিপিডি, টিআইবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ইউনিয়নসহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় থিংক ট্যাংকসমূহ আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ তথা অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন।
আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আদর্শে উজ্জীবিত নীল দল বর্তমান সরকারকে এ ধরনের একতরফা নির্বাচন আয়োজন থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই এবং অবিলম্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি করছি”।
