ঢাকা: বাংলায় কথা একটা আছে না সর্প হয়ে দংশে ওঝা হয়ে ঝাড়ে? প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ঠিক সেইরকম।
জনগণের সামনে বলে যাচ্ছেন একরকম কথা, আর কাজ করছেন একদম নিজেদের মতো দেশীয় স্বার্থ বিরোধী।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের উপদ্রব বেড়েছে বাংলাদেশে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, নিজেদের ইসলামের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করছে।
গোটা দেশজুড়ে নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। দমবন্ধকর পরিস্থিতি চারপাশে। এবং ২০০-র বেশি মাজার ভেঙে ফেলা হয়েছে। কবর থেকে উঠিয়ে দেহ পোড়ানো হয়েছে।
রাস্তায় বাউল, ফকিরদের চুল জোর করে কেটে দেওয়া, মহিলাদের চলাফেরা ও পোশাক নিয়ে হেনস্থা, নাচ, গান, থিয়েটার সব বন্ধ করে দেয়া- এইগুলোর কয়টার বিচার হয়েছে? কয়জনের কারাগার হয়েছে? বলতে পারবেন ডাস্টবিন শফিক?
এই সব দেখে তো মনে হচ্ছে ভিন্ন মতের ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের সমাজ থেকে সরিয়ে দেওয়াই এদের উদ্দেশ্য।
নাম খোয়াস্তে কথাবার্তা যে এরা কেন বলেন?
মানিকগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জায়গায় বাউলদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম এই বাহুল্য কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্দিষ্ট আলোচ্য সূচির বাইরে বিবিধ আলোচনায় সমসাময়িক বিষয়, বিশেষ করে বাউল ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে সেটি এবং আসন্ন নির্বাচন ও উপদেষ্টাদের মধ্যে যাঁরা নির্বাচন করতে চান, তাঁরা চলে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন কি না বা এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়েছে কি না।
এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন বা বাউল বিষয়ে কোনো আলাপ হয়নি। তবে তিনি যেটা জানেন, সেটা হচ্ছে যাঁরা বাউলদের ওপর হামলা করেছেন, তাঁদের খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সে অনুযায়ী মানিকগঞ্জের পুলিশ কাজ করছে। অন্যান্য যে জায়গায় হামলা হয়েছে, সেসব জায়গায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। সাংবাদিকেরা দ্রুত ফলাফল জানতে পারবেন।
