ঢাকা: রাজাকার, পাকিস্তানি, জঙ্গীর দল ২৩শে মার্চ বাংলাদেশে পাকিস্তান দিবস পালন করেছে। তারেক জিয়া সরকারের অনুমতি ছাড়াই কি পাকিরা এইসব নিকৃষ্ট কর্মসূচি পালন করতে পারে?
ঐতিহাসিক প্রতিরোধ দিবসে প্রকাশ্যে বাংলাদেশে মাটিতে (ঢাকায়) পাকিস্তান দিবস পালন পালন করেছে খোমেনী এহসান – জেহাদী এহসান গং এবং তাদের জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ – যেটা মূলত হচ্ছে জামাতের দোকান।

জামাত তো চারদিকে এধার ওধার দোকান খুলে রেখেছে। ওষুধের দোকান, ধর্মের দোকান, আরো হাজার হাজার দোকান দেশে জামাতিরা পরিচালনা করছে।
পাকিস্তান দিবস পালন করার পরেও স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে তারা বহাল তবিয়তে আছে। কোনো সমস্যা নেই? কেউ কোনো কথা বলছে না।
জাতি হিসাবে বাঙালির জন্য লজ্জার। এ লজ্জা কোথায় রাখি!
সরকারের উচিত হবে পাকিস্তান দিবস পালনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার দায়ে আইনের আওতায় আনা এবং এদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার বিচার করা। করবে কি?
ঢাকায় পাকিস্তানের জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনে এক আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সোমবার (২৩ মার্চ) পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সদস্য, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে হাই কমিশনার ইমরান হায়দার পতাকা উত্তোলন করেন।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তাঁর ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আজ প্রতিরোধ দিবস। খুব সকালে বাড়িসুদ্ধ সবাই মিলে ছাদে গিয়ে কালো পতাকার পাশে আরেকটা বাঁশে ওড়ালাম স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন পতাকা।
বুকের মধ্যে শিরশির করে উঠল।’
অথচ, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের দিন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে “প্রতিরোধ দিবস” পালিত হয়েছিল। এটাই বাস্তব ইতিহাস।
এই দিনে পাকিস্তান দিবস ঢাকায় পালন করতে দিয়ে বিএনপি সরকার কী প্রমাণ করলো?
বাংলাদেশে বসে পাকিস্তান দিবস উদযাপন
মানে হলো ইতিহাসকে অস্বীকার করা।
যে পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে বুকের রক্ত দিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই পাকিস্তানের দিবস পালন করা মানে শহীদের আত্মত্যাগকে অপমান করা।
এবং বোঝাই যাচ্ছে বিএনপি সরকার এতে সায় দিয়েছে। না পায় দিলে তাদের অবস্থাও খারাপ হবে, জামাতকে ভয় পেয়েই চলছে সরকার।
১৯৭১ শুধু একটা সাল না, এটা অস্তিত্ব, পরিচয়, স্বাধীনতার মূল্য। এই ধরনের আয়োজন স্পষ্ট করে দেয়, কেউ কেউ এখনো মানসিকভাবে স্বাধীন হতে পারেনি।
বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের দিবস উদযাপন করার সাহস দেখানো মানে দেশের সার্বভৌমত্ব ও চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এই অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে, ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি রুখে দিতে হবে।
