ঢাকা: ছায়ানটে হামলা, উদীচিতে হামলা! সারা বাংলাদেশ জঙ্গীদের লাগানো আগুনে জ্বলছে। উদীচী এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ, মৌলবাদী অপশক্তিসহ বিভিন্ন মহল থেকে সুস্পষ্ট হুমকি দেয়ার পরও উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

জুলাই অভ্যূত্থানের চেতনার বাইরে গিয়ে এই সরকার মূলত মৌলবাদী অপশক্তির তাঁবেদারি করছে বলে অভিযোগ করেছেন উদীচীর নেতৃবৃন্দ।

উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ২০ ডিসেম্বর শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদী সমাবেশে এই অভিযোগ করেন তাঁরা।

২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা।

মিছিলটি তোপখানা রোডে সত্যেন সেন চত্বর (উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে- জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে) গিয়ে শেষ হয় সেখানে শুরু হয় সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটতরাজ ঘটে। এরপর থেকেই উদীচীর উপর হামলার সরাসরি হুমকি দেয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টেও উস্কানি দেয়া হয়। তখন থেকেই সবার শঙ্কা ছিল যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়। তারপরও সেটির নিরাপত্তায় কোন ধরনের ব্যবস্থাই নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার বা প্রশাসন।

আর এ কারণেই ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিনা বাধায় অগ্নিসংযোগ করতে পারে মৌলবাদী, অন্ধকারের অপশক্তি। আগুনে উদীচীর ৫৭ বছরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়”।

অমিত রঞ্জন দে আরো বলেন,

“স্বাধীনতার আগে থেকেই এদেশের মুক্তিকামী মানুষের যেকোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে উদীচী। মহান মুক্তিযুদ্ধেও উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। যখনই জাতীয় জীবনে কোন দুর্যাগ নেমে এসেছে, যখনই সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়েছে, যখনই শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেছে, তখনই সাংস্কৃতিক হাতিয়ার নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে উদীচী।

কিন্তু, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীর বিজয়নগরে আততায়ীদের হামলায় ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় যে ঘৃণ্য রাজনীতি ও মৌলবাদী অপশক্তির আস্ফালন শুরু হয় তার শিকার হতে হয়েছে উদীচীকে।

হাদির মৃত্যুসংবাদ প্রচারের পরপরই রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ছাত্র-জনতা নামের আড়ালে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী অপশক্তি।

হেনস্থা করা হয় বরেণ্য সাংবাদিক নুরুল কবিরকেও। শুধু তাই নয়, ষাটের দশকে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করা সাংস্কৃতিক শিক্ষালয় ছায়ানট ভবনেও তাণ্ডব চালায় অন্ধকারের অপশক্তি।

সেখানে থাকা বাদ্যযন্ত্র ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। নষ্ট করা হয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। ছিঁড়ে ফেলা হয় গুণীজনদের চিত্রকর্ম। ভাংচুর করা হয় শিশু বিদ্যালয় নালন্দাতেও”।

উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ বলেন, তারা ওসমান হাদির হত্যার বিচার চায় না, এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *