ঢাকা: মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাক্ষাৎকারের পর বলা যায় টনক নড়েছে সরকারের। যুক্ত হলেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে ফের নিয়োগ পেয়েছেন মো. সরওয়ার আলম। তাঁকে চুক্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ধারা-৪৯ অনুযায়ী অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিনি এই নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে সরওয়ার আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যে কর্ম করেছেন জঙ্গী ইউনূস, তার বিচার হয়তো হতে চলেছে বলে আশা করা যায়। কার্যত অন্ধকারে রাখা হয়েছিল তাঁকে যাতে তিনি সাংবাদিকদের সাথে দেখা করতে না পারেন।
সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো প্রেস উইং। পঙ্গু করে দেয়ার এক অপচেষ্টা চালানো হয় এই দেড় বছরে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রেসসচিব নিয়োগ পেয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব সরওয়ার আলম।
তাঁকে সচিব পদমর্যাদায় এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরে তাঁকে সরিয়ে দেয় ষড়যন্ত্র করে। এখন নতুন করে আবার তিনি নিয়োগ পেলেন।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের প্রেসসচিবের আক্রোশের কবলে পড়ে বঙ্গভবনের প্রেস উইং। বঙ্গভবন থেকে প্রেস উইং সরিয়ে দেয়া হয়।
ওই সময় এখান থেকে গোটা প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেয়, জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি জানান, তাঁকে অপমান ও একঘরে করে রাখার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বঙ্গভবনের প্রেস উইং কার্যত অচল করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে বিজয়ের পর নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাতে বঙ্গভবনে আসেন। সাংবাদিকবান্ধব মানুষ হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়, সেটি ছিল একেবারেই সাধারণ একটি সাক্ষাৎ, সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা ও একটি ফটোসেশনেই তা শেষ হয়।
কিন্তু পরদিন কয়েকটি পত্রিকায় সেই খবর ছবিসহ প্রকাশ হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি।
রাষ্ট্রপতি জানান, এরপর জোর করে খোঁজা শুরু হয় বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের কে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁর ভাষায়, বাস্তবে প্রেস উইংয়ের কেউই এই কাজ করেননি; তিনি নিজেই সাংবাদিকদের চিঠি পেয়ে তাদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্লজ্জভাবে প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিসহ তিনজনকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা দুইজন ফটোগ্রাফারকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পুরো প্রেস উইং ভেঙে দেওয়া হয়।
আর এর ফলে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া বন্ধ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় ক্রিকেট দল কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতলেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি সাধারণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।
এতটাই স্বৈরাচারী শাসন, আর সংবিধানবিরোধী কাজ করেছেন ইউনূস গং।
