ঢাকা: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তথা ৫ আগস্টের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে ভাষণ দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। যদিও অডিও ভাষণ দিয়েছেন নেত্রী।
ভারতের নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অবৈধ, সহিংস’ প্রশাসনের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
বক্তব্যে তিনি ড. ইউনূসকে ‘দখলদার’, ‘অর্থ পাচারকারী’ এবং ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বারবার উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ আজ ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।”
তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশ বর্তমানে “একটি বিশাল কারাগার, একটি বধ্যভূমি এবং মৃত্যু উপত্যকায়” পরিণত হয়েছে।
মানবাধিকারের কথা শোনা যায় শেখ হাসিনার মুখে।
আলোচনায় শুক্রবার উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত প্রাক্তন মন্ত্রী ও শিল্পীরা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন নির্বাসনে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গলা টিপে খুন করা হচ্ছে, মানবাধিকার পদদলিত, সর্বত্র হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তোলাবাজি চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।”
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের কাছে তাঁর আবেদন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠুন।
দেশের শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন হাসিনা।
সেগুলি হল,
১. বর্তমান ইউনূস প্রশাসনকে অপসারণ করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করুন। ভয় দেখিয়ে ভোটারদের যাতে প্রভাবিত না করা হয় তা নিশ্চিত করুন।
২. অবিলম্বে হিংসা বন্ধ করে বেসামরিক সংস্থাগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি দিতে হবে যাতে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায়।
৩. সংখ্যালঘু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ হিংসার কবলে না পড়েন।
৪. সাংবাদিক এবং বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো বন্ধ করুন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনুন।
৫. গত বছরের ঘটনাবলীর পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানান।
সবশেষে তিনি আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ‘একমাত্র বৈধ অভিভাবক’ হিসেবে দাবি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে সংবিধান পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষণের এক পর্যায়ে ইউনূসকে যে কোনো আসনে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার চ্যালেঞ্জও জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
