ঢাকা: সেফ এক্সিট নিয়ে টাকা পয়সা হরপ করে পালাচ্ছে সব রাজাকার, দেশ ধ্বংসকারীরা। শোনা যাচ্ছে আসিফ মাহমুদও তার পরিবারের লোকজনকে পাঠিয়ে দিয়েছেন এখন নিজের পালা।
সবাই পালাচ্ছে।
এবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। শনিবার সকাল ১০ টার সময় জার্মানির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ইমিরেটস এয়ারলাইন্স–এর ফ্লাইটে (ইকে ৫৮৩) তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেন। তবে তাঁর সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। স্বচ্ছভাবে দেশ ছাড়েননি তিনি।
দেশের টেলিকম সেক্টর থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দেশ লুটপাট করে এখন পরিস্থিতি বুঝে ঠিক পালাচ্ছে এরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের প্রযুক্তি খাত নিয়ে কাজ করার জন্য নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ফয়েজ তৈয়্যবকে নিয়ে আসে অন্তবর্তী সরকার।
তবে যুক্তি কিন্তু ভীষণ কঠিন দেন এরা।
ফেইসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, কর্মস্থল থেকে ‘যথাযথভাবে’ বিদায় নিয়েই নাকি তিনি ঢাকা ছেড়েছেন।
ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে এরা খুব ভালো জানে। ফয়েজ আহমদ ফেইসবুকে লেখেন, “ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি (পোস্ট ও টেলিকম বিভাগ) ও বিটিআরসি থেকে। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি।
“১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্ম দিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।”
ফয়েজ লিখেছেন, “একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায় সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কী করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।”
ফয়েজ বলছেন, “ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।
“অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সাথে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব। পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তাম, বিগত সময়ে আমারসহ লেখকরা যেসব মৌলিক লেখা লিখেছেন সেগুলোও পড়তে হবে।”
তিনি নাকি কোনো কোনো দুর্নীতি করেননি এই দাবি করে ফয়েজ লিখেছেন, “আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলা পুরানা আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মত খেটেছি। এগুলা প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিয়েন। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি।
আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারসি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুতসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি।
“দ্রুত একটা চাকরি খুঁজবো। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্ত করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি।”
