ঢাকা: নিজের পৈত্রিক জেলায়, বিশাল ব্যবধানে জয় পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। বগুড়া-৬ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দেশে সরকার গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে বিএনপি। বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
দেশের ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে ১৫১টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এগিয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে।
শেখ হাসিনার আমলে, একাধিক মামলায় দীর্ঘ দিন দেশের বাইরে ছিলেন তারেক রহমান। তবে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি।
তার পরেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন তারেক।
বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া–৬ আসন। এই আসনের ১৫০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। জানা যায়, সেখানে ভোট পড়ে প্রায় ৭১ শতাংশ।
ওই আসনে তারেক রহমান পেয়েছেন মোট ২ লক্ষ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামির বগুড়া শহর শাখার নেতা আবিদুর রহমান সোহেল।
তিনি ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়েছেন। ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোটের ব্যবধানে বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি দলের চেয়ারম্যান।
বগুড়া-৬ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও ঢাকা-১৭ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে পড়েন তারেক রহমান। তবে জয় পেয়েছেন সেখানেও। প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয় পেয়েছেন ৪৩৯৯ ভোটে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের তথ্য বলছে, এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট।
এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন। বলা হয় এর মধ্যে ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
এদিকে, দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের উপরে নজর রাখছে নয়াদিল্লিও।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমার মনে হয় ফলাফলের জন্য আমাদের প্রতীক্ষা করা উচিত। জনমতের প্রতিফলন দেখার পরেই বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করব।’
‘নয়াদিল্লি সব সময়েই প্রতিবেশী দেশটিতে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে থেকেছে।’
উল্লেখযোগ্য যে, এ বারের ভোটে বাংলাদেশে কোনও ভারতীয় পর্যবেক্ষক আসেননি। এ প্রসঙ্গে জয়সওয়ালের বক্তব্য, ‘পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও আমন্ত্রণ আসেনি।’
