ঢাকা: টোকাই এনসিপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, ছিলোও না। এটি এক ব্যর্থ ও অপরিণত রাজনৈতিক প্রকল্প; যার জন্মেই ছিল ত্রুটি, যার শরীরেই ছিল পচন।

বিনাশকারী একটি দল।

এবার এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

আজ, শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শীর্ষ নেতৃত্বকে ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পদত্যাগের কথা জানান তিনি।

তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।

সমাজমাধ্যমে তাসনিম জারা জানান, তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের ও দেশের সেবা করার।

তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে তিনি কোনও নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তাসনিম জারা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে গণচাঁদার মাধ্যমে ৪৭ লাখ টাকা তুলেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন।

জারা ফেসবুক পোস্টে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন। যারা তাঁকে নির্বাচনের জন্য চাঁদা দিয়েছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী,

আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা।

তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম যে আপনাদের জন্য ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়বো। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করবো।

একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সাথে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোন দলের সাথে থাকছি না, তাই আমার সে সব কিছুই থাকবে না।

আমার একমাত্র ভরসা আপনারা। আপনাদের মেয়ে হিসেবে আমার সততা, নিষ্ঠা, এবং নতুন রাজনীতি করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রেক্ষিতে আপনারা যদি স্নেহ ও সমর্থন দেন, তবেই আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাবো।

দুইটি বিশেষ বিষয়:

এক. নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আমাদের ঢাকা-৯ আসনের ৪৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর একটি নির্দিষ্ট ফর্মে প্রয়োজন।

আগামীকাল এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করবো…।

দুই. কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় আপনারা অনেকে ডোনেট করেছেন। আমার এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে (স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা) যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা…।

আপনাদের ট্রাঞ্জাকশন আইডি ও ডিটেইলস ভেরিফাই করার পরে অর্থ ফেরত দেয়া হবে। আর যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাদেরকে শীঘ্রই জানাবো কী প্রক্রিয়ায় আপনাদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *