ঢাকা: নারীকে গণিমতের মাল মনে করা জামায়াত নারীদের সুরক্ষার কথা বলে! সব ভণ্ডামি এই রাজাকারদের।

জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর যখন ড. ইউনুস ক্ষমতায় বসেছেন, তখন তাঁর সমর্থকরা বলেছিলেন এবার নাকি নতুন বাংলাদেশ হবে। গণতন্ত্র ফিরবে, নারীর ক্ষমতায়ন হবে, সব কিছু হবে। কিন্তু বাস্তবতা কী?

যে নির্বাচন তিনি আয়োজন করতে যাচ্ছেন, সেখানে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র তিন শতাংশ।

ইসলামপন্থী দলগুলোর কাছ থেকে যে সমর্থন নিয়ে ইউনুস ক্ষমতায় এসেছেন, তার মূল্য এখন চুকাতে হচ্ছে। জামায়াত, হেফাজত ও অন্যান্য মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছে নারীর রাজনীতি করা তো দূরের কথা, ঘরের বাইরে বের হওয়াটাই গুণাহ।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনো তার দলের আমির হতে পারবেন না, কেননা তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।

তার দাবি, আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলই ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ এটা ‘বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’ এবং বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার এমন বক্তব্য আসে। সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার সম্প্রচার করা হয়।

ঢাকায় জামায়াত আমিরের বাড়িতে বসে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।

জবাব দিতে গিয়ে নারীদের বিষয়ে তাদের পুরনো অবস্থানই তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। নারীদের নিয়ে এদের ধ্যান ধারণা অত্যন্ত ঘৃণ্য।

প্রশ্ন করতে গিয়ে শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, “আপনি নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কারণ কোরআনের নীতিমালা অনুযায়ী তারা সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ২১ শতকে কেন আপনি এমন একটি প্রস্তাব দেবেন?

উত্তর দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান দাবি করেন, এরকম কোনো কথা তিনি বলেননি।

অস্বীকার করেন তিনি।

শ্রীনিবাসন বলেন, জামায়াত আমিরের দেওয়া ওই প্রস্তাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

শফিকুর রহমান তখন বলেন, “আমি বলেছি—একজন মা, একই সঙ্গে যখন তিনি শিশুর দেখভাল করেন, শিশুর যত্ন নেন এবং একই সময়ে যদি তাকে একজন পুরুষের মত একই দায়িত্ব, একই সময় ধরে কাজ করতে হয়, তাহলে সেটা ন্যায়সঙ্গত হয় না।

“অন্তত স্তন্যদানকালীন সময়ের জন্য। যখন তিনি সন্তান ধারণ করছেন বা সন্তানের যত্ন নিচ্ছেন—এই সময়ে তাদের সম্মান দেখানো উচিত। আমরা আসলে দেখেছি, কিছু বোন, কিছু নারী যখন মনে করেন, যে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তখন তারা চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মঘণ্টা কমানো হয়… এটা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এটা একটি ঐচ্ছিক সুযোগ।”

শ্রীনিবাসন তখন বলেন, “আপনি বলতে চাইছেন, আপনি কেবল স্তন্যদানকালীন সময়ের জন্যই কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলছেন?”

জামায়াত আমির তখন বলেন, “মূলত সেটাই। তবে যদি কোনো নারী সিদ্ধান্ত নেন, ‘না, আমি আট ঘণ্টাই কাজ করব’, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। এটা তার জন্য একটি বিকল্প।”

কোনো নারী জামায়াতের আমির হতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন রাখা হয় শফিকুর রহমানের সামনে।

জবাবে তিনি বলেন, “এটা সম্ভব না। এটা সম্ভব না। কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে নিজস্ব সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আপনি কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবেন না, আর আমরা কখনো শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারব না। এটা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া পার্থক্য। নারী ও পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে, যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সেগুলো আমরা পরিবর্তন করতে পারি না।”

শ্রীনিবাসন জৈন তখন বলেন, কেউ যদি মা হন, সন্তান লালন-পালন করেন, তবু কেন তিনি জামায়াতের মত একটি সংগঠনের প্রধান হতে পারবেন না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

শফিকুর রহমান বলেন, “এটা পরিবর্তনযোগ্য নয়। তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। শারীরিক অসুবিধা থাকে, আপনি জানেন।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *