ঢাকা: বাংলাদেশে নারকীয় অবস্থা চলছে। হিন্দুদের জন্য মনে হয় না আর এই দেশটা গ্রহণযোগ্য।
গত ১৫ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে অন্তত ৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঠিক নেই, কখন কার পালা আসে। রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা চোখে দেখা যাচ্ছে।
অবৈধ জামাতি ইউনুস সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছে।
এই ব্যর্থতার রাজনৈতিক দায় কি অবৈধ জামাতি ইউনুস সরকার এড়াতে পারে?
বরাবর এর প্রতিবাদ করে আসছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি আবারো আওয়াজ তুললেন। বলেছেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ দুই আমলই ব্যর্থ হিন্দুদের নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে।
“সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করে, আর ভুক্তভোগী মানুষের নিরাপত্তা সেই দোষারোপের নিচে চাপা পড়ে যায়।
বিএনপি–জামায়াত আমল (২০০১–২০০৬) ও শেখ হাসিনার আমল (২০০৯–২০২৪) তুলনা করলে দেখা যায়—দুই আমলই ব্যর্থ।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছিল ব্যাপক ও প্রকাশ্য। এটি কেবল সামাজিক সহিংসতা ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক সহিংসতা।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় ছিল—
প্রশাসনের নীরবতা
পুলিশের মামলা নিতে অনীহা
অপরাধীদের প্রকাশ্য দায়মুক্তি (impunity)
এখানে রাষ্ট্র তার মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে অর্থাৎ আইনের সামনে সমতা আনতে ব্যর্থ হয়।
শেখ হাসিনার সরকার নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবাধিকারবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে।
তুলনামূলকভাবে এই সময়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক নিধন হয়নি—এটি সত্য। কিন্তু সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়মিত ঘটেছে।
ভূমি দখল, মন্দির ভাঙচুর, নারী নির্যাতন অব্যাহত থেকেছে। এই সময়ের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো দায়মুক্তির সংস্কৃতি।অপরাধীরা জানতো তারা রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত হলে শাস্তির ঝুঁকি কম”।
তিনি বলেন, “বিএনপির আমলে রাষ্ট্র অনেক সময় চুপ ছিল। শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্র কথা বলেছে, ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, পুনর্নির্মাণ করেছে। কিন্তু মানবাধিকার কেবল পুনর্নির্মাণ নয়—মানবাধিকার মানে নিরাপত্তা, বিচার ও মর্যাদা।
এই তিনটির মধ্যে বিচার ও প্রতিরোধ—দুই আমলেই দুর্বল ছিল।
সংখ্যালঘু নারী নির্যাতনের প্রশ্নটি দুই আমলেই প্রায় অদৃশ্য থেকেছে। ধর্ষণ, অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে—এসবকে “সাম্প্রদায়িক” বা “পারিবারিক” সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্টতই নারীবিরোধী রাষ্ট্রীয় আচরণ।
এই তুলনার লক্ষ্য কোনো দলকে “ভালো” বা “খারাপ” প্রমাণ করা নয়। লক্ষ্য হলো এই সত্য তথ্য তুলে ধরা যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন দল বদলালেও থামেনি, কারণ রাষ্ট্র কখনোই মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়নি।
গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্র সেটিই, যেটি —
ধর্ম দেখে নাগরিক বিচার করে না
রাজনৈতিক পরিচয় দেখে অপরাধ মাফ করে না
সংখ্যাগরিষ্ঠের আবেগের কাছে সংখ্যালঘুর অধিকার বিকিয়ে দেয় না
সেই রাষ্ট্র গড়ার লড়াই মানুষ কবে থেকে শুরু করবে”?
