ঢাকা: আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হবে না। গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন করতে গেলে সব দলকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তাছাড়া এটি হবে প্রহসনের নির্বাচন।
নির্বাচনই জনপ্রিয়তা পরিমাপের মাপকাঠি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী দল। আওয়ামী লীগ জনগণের সামনে দাঁড়ানোর মতো শক্তি, সাহস, সামর্থ্য রাখে।
তবে বর্তমান দেশের পরিস্থিতি একদম পাল্টে গেছে। নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ-সহ অন্যান্য সমমনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দল, অর্থাৎ জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে বাইরে রেখে নির্বাচনের আয়োজন আসলে সমগ্র দেশ ও জাতিকে একটা গভীর সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত।

এর আগে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা-সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি এবং বর্তমান বর্ণচোরা দখলদার সরকার বাদ দিয়ে নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’’
আন্তর্জাতিকভাবেও চাপ বাড়ছে ইউনূসের ওপর।
বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের চার ব্রিটিশ এমপি।
তাঁরা বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলে কোনো নির্বাচনকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলা যায় না।
হাউস অব কমন্সের চারজন এমপি হলেন- বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জ্যাস আথওয়াল ও ক্রিস ল।
এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা সাফ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, “নৈতিক বিবেচনাবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই আশা করেন, এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে তখনই সেটা সম্ভব হবে, যখন নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ।”
চার ব্রিটিশ এমপি বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন যে, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তারা আরও বলেন, “মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তারা ভোট দিতেই যাবেন না।”
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। বাংলাদেশের ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হয়নি, যারা নিজেরাই অনির্বাচিত।”
“থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আবার গতিশীল করতে ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।”
তাঁরা আরও বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিরোধী দলগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে।”
বহু গুরুত্বপূর্ণ কথা তাঁরা তুলে ধরেন বিবৃতিতে।
শেষাংশে বলা হয়, “আমরা ব্রিটিশ সরকারসহ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই—ড. ইউনূস যেন গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের নাগরিক অধিকার রক্ষা করেন এবং একটি মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করেন।”
