ঢাকা: মব ভায়োলেন্সের হোতারা বলছে মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসতে হবে।
মন্থরার মুখে এ কী অদ্ভুত কথা শোনা গেলো?
মির্জার কথা শুনে জনগণ হতবাক।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির দলবদ্ধভাবে হেনস্থার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিলো।
বিশেষ করে বিএনপির একটি সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মীর এ ধরনের ‘মব সন্ত্রাসের’ সাথে জড়িত হবার ঘটনা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো।
এ সব জনগণ ভুলে যায়নি।
দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসতে তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রায় দেয়া হচ্ছে, আর অন্যদিকে মবক্রেসি বা ভায়োলেন্স তৈরি করা হচ্ছে। এটা কিসের আলামত জানি না।
তবে আমার মনে হয়, ওই রায়ের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে বিশেষ একটা মহল ভিন্নদিকে দৃষ্টি দিতে কাজ করছে। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ, বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার। সেখানে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
অন্যের মত ‘সহ্য করা’কে গণতন্ত্রের প্রধানতম কথা বর্ণনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাকে অন্যের মত সহ্য করতে হবে…টলারেন্স আমি কথা বলব, আপনার কথা সহ্য করব না, পিটিয়ে দেব, মব ভায়োলেন্স তৈরি করব, কিছু মানুষ জড়ো করে বলব যে ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, তাকে মেরে ফেল পিটিয়ে…দিস ইজ নট ডেমোক্রেসি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেসির মূল কথাটা হচ্ছে, আমি তোমার সঙ্গে একমত না হতে পারি কিন্তু তোমার মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা তাকে আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব। দ্যাট ইজ ডেমোক্রেসি।
দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এখানে অন্যের মতকে সহ্য করতে চাই না, আমরা তাকে উড়িয়ে দিতে চাই…এই জায়গা থেকে আমাদেরকে সরে আসতে হবে।’
