মানিকগঞ্জ: বাউলরা হত্যা করে না, মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে না। তাঁদের কাজ কারো ক্ষতি করা নয়।
বাংলার আধ্যাত্মিক জগতে বাউল হলো উদার, মানবতাবাদী এক দর্শন। তাঁদের কাছে ধর্ম কোনও প্রতিষ্ঠান নয়; ধর্ম মানে মানুষের ভেতরের সত্য অনুসন্ধান। শরীর–মন–প্রেমের মিলনে তাঁরা ঈশ্বরকে খোঁজেন।
বাউল বয়কট, হামলা, সাধনালয় ভাঙচুর ও নারী বাউলের ওপর নির্যাতন চলছেই। হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মীয় গোষ্ঠীই বাউলদের সন্দেহের চোখে দেখে।
অথচ এই মানবতার জয়গান করা মানুষগুলোর ওপর হামলা চলছে। সরকার প্রতিরোধ করে না ইচ্ছে করেই।
মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেফতার ও শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে অংশ নেয়া তার সমর্থকদের ওপর সংঘটিত মব-হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি দাবি করেছে, এ ঘটনা দেশের ধর্মীয় সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর আশঙ্কাজনক হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক বিবৃতিতে টিআইবি অভিযোগ করেছে, বাউলদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চলার সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় ছিল এবং সরকারও ঘটনার বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে।
এ অবস্থান আইনের শাসন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারকে পদদলিত করছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনার একক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। এ ধরনের হামলা একটি সুসংগঠিত কৌশলের অংশ।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, লোকঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক চর্চা ও সংখ্যালঘু বিশ্বাসের ওপর চাপ বাড়ছে। গত বছর কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের পর এ প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।’
