ঢাকা: কাজীর পাশে হাদি? কাঁঠালের আমসত্ত্ব যাকে বলে। কার সাথে কে? এ তো সরাসরি কাজী নজরুল ইসলামকে অপমান?

একজন শুধু সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে গেলেন আরেকজন মব সৃষ্টির উস্কানি দিয়ে গেলেন! চরম ভারতবিরোধী, কথাবার্তায়, ভাষায় লাগামছাড়া হাদিকে কেন সেখানে দাফন করা হবে সে নিয়ে মুক্তমনাদের মধ্যে আপত্তি উঠেছে!

শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লীগ বিরোধিতার পাশাপাশি ছাত্র নেতার অন্যতম এজেন্ডা ছিল চরম ভারত বিরোধিতা।

উত্তরপূর্ব ভারতের বেশ কিছু অংশ জুড়ে ‘গ্রেটা’র বাংলাদেশের ম্যাপ প্রকাশ করে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন এই হাদি।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই শেষ ঠিকানা হচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তথা বাংলাদেশের কট্টোরপন্থী তরুণ নেতা, তীব্র ভারতবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদির।

শুক্রবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠকের পর এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নজরুলের সমাধির পাশাপাশি যেখানে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রথিতযশা শিক্ষকের সমাধি রয়েছে, সেখানেই এই মৌলবাদী, উস্কানিদাতা হাদিকে সমাধিস্থ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়েই চলছে বিতর্ক।

আভ্যন্তরীণ রাজনীতি তোলপাড়।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভায় প্রয়াত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির দাফনস্থল হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধি প্রাঙ্গণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি অনলাইন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমদ।

তিনি জানান, ওসমান হাদির পরিবার, ডাকসু এবং ক্যাবিনেট সদস্যদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নজরুল সমাধি প্রাঙ্গণে খালি থাকা নির্দিষ্ট স্থানে ওসমান হাদির দাফনস্থল নির্ধারণ করা হয়।

কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর জন্যেই যেন অপেক্ষা করছিলো জামাত শিবিরের দল।

মৃত্যু ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয় দেশজুড়ে। হিংসা ও অরাজকতা চলছে এখনো।

যা করা হয়নি তা করে ছেড়েছে জঙ্গীর দল। নীরব সরকার। ধানমন্ডি ৩২ দুইদিন ধরে ভাঙা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে ‘জিহাদিস্তান’ বলে উল্লেখ করেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, একজন ‘জিহাদির’ মৃত্যুর পরেই গোটা দেশে তাণ্ডব নেমেছে।

তসলিমা নাসরিন লিখেছেন ফেসবুকে:

“অশ্লীল গালিবাজ ভারত-বিরোধী হাদিকে নাকি ভারতের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ইসলামের কবরের পাশে কবর দেওয়া হবে? এভাবে কাজী নজরুল ইসলামকে অসম্মানিত না করলেই কি নয়”?

এদিকে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে দেহে আগুন লাগানোর ঘটনা দেশজুড়ে শোরগোল ফেলেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তসলিমা ফেসবুকে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন।

তিনি লেখেন, ‘যারা হাদি হত্যার বিচার চাইছে, তারা কি দীপু হত্যার বিচার চাইছে? না চাইলে কেন চাইছে না’?

হাদিকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে নির্বাচন না করার জন্যে। তাঁর মৃত্যুর চেয়েও, দীপু দাসের মৃত্যুটি ছিল গত দেড়বছরের সবচেয়ে বর্বর ও ভয়ংকর একটি মব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা!

অথচ ‘মব হাদি’র মৃত্যুতে, পুরো দেশের ‘মব সর্দার’ ইউনূস একদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ ঘোষণা করেছেন! জাতির উদ্দেশ্যে কান্নার ভান করে, হাদির স্মরণে ভাষণও দিয়েছেন!

কিন্তু দীপু দাসকে পিটিয়ে আধমরা করে, পরে পুড়িয়ে হত্যার মতো মধ্যযুগীয় পৈশাচিক ঘটনা ঘটানোর পরেও, ‘জঙ্গিনুচ’ কিংবা তার সরকারের পক্ষ থেকে, একটি ‘ছোট্ট বাক্য’ও বলতে দেখা যায়নি!

তবে কি আমরা ধরে নেবো? এই ‘দেশদ্রোহী’ জামাতি মবিনুচ গং ক্ষমতার আসনে বসে আছে, শুধু ‘রাষ্ট্রীয় মদতে’ দেশের সংখ্যালঘু ‘হিন্দু’দের নির্মূল করার ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করতে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *