ঢাকা: চিন্ময় কৃষ্ণ দাস যিনি প্রাণী হত্যা করেননা, তিনি মানুষ হত্যা করবেন? এই রাষ্ট্র যে কতটা দুর্বল হয়েছে বিচারিক দিকে, কতটা জিম্মি হয়েছে ইউনূসের হাতে তা প্রমাণিত।
এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্রভুকে ১৯ জানুয়ারি চট্রগ্রাম আদালতে তোলা হয়, কার্যক্রম শেষে আবার কারাগারে নিয়েও যাওয়া হয়েছে। এক বছর তাঁকে আদালতে তোলা হয়।
অথচ, এডভোকেট আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন পুলিশ হেফাজতে পুলিশেরই প্রিজন ভ্যানে!
বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে একজন নিরপরাধ হিন্দু সন্ন্যাসীকে এভাবে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা আর দ্বিতীয়টা নেই। ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কোনো ভাষা আছে?
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সম্পূর্ণ নিরপরাধ বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী। তিনি জানান, এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেসব ব্যক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের কারও বক্তব্যেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
আইনজীবীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। সে ক্ষেত্রে পুলিশ হেফাজতে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হতে পারেন—তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। দ্রুত এই মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইনজীবী পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের আওতায় আনা জরুরি। নিরপরাধ কাউকে জড়িয়ে প্রকৃত অপরাধীরা যেন আড়ালে থেকে না যায়—সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:
“চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যে মামলা। তিনি নাকি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা টাঙিয়েছিলেন।
আমরা তো জানি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইসিসের পতাকা তোলা বৈধ, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা। কিন্তু সেই গেরুয়া পতাকাও চিন্ময় তোলেননি। এক বছরের বেশি সময় এই হাস্যকর কারণে তিনি জেল খাটছেন।
এখন তাঁকে জামিন তো দেওয়া হলোই না, তাঁকে আবারও জেলে পাঠানো হলো আরও একটি মিথ্যে মামলা দিয়ে, আলিফ খুনের আসামী করে। আলিফ খুন হয়েছিল চিন্ময় যখন পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
পর পর মিথ্যে মামলা রুজু করে কেন একজন নিরপরাধ মানুষকে হেনস্থা করছেন ইউনুস? চিন্ময়কে কেন ভয়? তিনি নির্যাতিত হিন্দুদের মনে সাহস দিয়েছিলেন বলে? তাঁর ডাকে লক্ষ হিন্দু পথে নামতো বলে? তিনি মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতেন বলে?
জিহাদি সরকারের শাসন চলছে। হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে। নিরীহ হিন্দুদের মেরে ফেলা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এই মিছিলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন। তাঁকে বিনা অপরাধে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে।
আমার ভয় হয়, কখন একদিন শুনবো চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি তো মরবেন না, তাঁকে মেরে ফেলা হবে। পলিটিক্যাল মার্ডার তো বাংলাদেশের জেলগুলোয় অহরহই ঘটে”।
