ঢাকা: তারেক রহমান কি ভুলে যাবেন সেই কথা? সেই মতিউর রহমানের কথা? প্রথম আলোর সম্পাদকের কথা?

মতিউর রহমান কলাম লিখে প্রথম আলোতে লিখেছিলেন যে হলফনামায় তারেক রহমানের স্বাক্ষরও আছে, এবং তারেক রহমানের বিচার হতে হবে যেখানে তিনি বলেছেন, ‘গিয়াসুদ্দিন আল মামুনের প্ররোচণায় তার বহু অবৈধ আয় সম্পর্কে জ্ঞাত হইলেও তা থেকে তাকে বিরত হইতে নিষেধ করি নাই। যা পরোক্ষভাবে তাকে সমর্থন দেয়া হয়’…..!

মানে মতিউর রহমানের নিজ নামে প্রকাশিত ঐ মন্তব্য প্রতিবেদনের লাইনে লাইনে তারেক রহমানের যে গুণপনার সুষ্ঠু বর্ণনা মূলত মতিউর সাহেব তুলে ধরেছেন- তা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে সময়ে মতিউর রহমানকে ক্ষমা করতে পারবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

তা এখন যে দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান বিএনপির কাছ ঘেঁষে কথা বলছেন, তারেক রহমানের সুনাম করছেন, তা কী প্রথম আলোর কার্যালয়ে আক্রমণ হবার জন্য?

যদিও কোথাও কোনো জঙ্গী হামলা আমরা সমর্থন করি না।

আরো একটি কথাও মনে করিয়ে দেই, আওয়ামী আমলে কোনোদিন পত্রিকা কার্যালয়ে হামলা হয়নি।

আজীবন আওয়ামী বিরোধী ভূমিকা রাখায় সোচ্চার কন্ঠস্বর ছিলো প্রথম আলো। তাদের মূল শত্রু যেন আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনা।

কিন্তু সেই শেখ হাসিনার সময় কিন্তু কখনো এ ধরনের বা অন্য কোন হামলাই হয়নি।

সমালোচনা করতেন অবশ্যই আওয়ামীলীগ নেতা- কর্মীরা, তবে হামলা কখনোই নয়।

স্বাধীনতার অপব্যবহার শেখ হাসিনা করেননি।

মতি-মাহফুজ গং যে অপপ্রচার করেন, আওয়ামীলীগ আমলে তারা স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে পারেননি।

তাহলে তারা কি বিএনপি বা এখনকার জঙ্গী সমর্থিত ড. ইউনুস এর সময়কালে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে? আর সেই স্বাধীনতার সুফল তো গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন লাগানোর পরে ভোগ করেছেন?

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন তো কম হলো না ৫ আগস্টের পর, তা নিয়ে এই ‘মতি-মাহফু’ নেতৃত্বাধীন ‘প্রথম আলো-ডেইলি স্টার’ তেমন কোন অবদানই রাখেননি।

অথচ তারা প্রভাবশালী সম্পাদক- সংবাদমাধ্যম হিসেবে ভালো ভূমিকা রাখতে পারতেন। যেহেতু তারা গণ্যমান্য না।

তা তারা করেননি। কিন্তু এখন যখন নিজেরাই আক্রান্ত হয়েছেন, অফিস জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, তখন তাদের আবেগ উথলে উঠেছে। জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন নির্লজ্জভাবে।

দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারের আমলে গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি। বিএনপির সময়ে গণমাধ্যম তুলনামূলকভাবে অধিকতর স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে গণমাধ্যমকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন, চাপ ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

তিনি বোধহয় ভুলে গেছেন, সর্বোচ্চ স্বাধীনতা তারা ভোগ করেছেন আওয়ামী লীগের আমলেই।

জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

তিনি বলেছেন, এত বিরোধ, এত বিভেদ ও এত সংকট নিয়ে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারে না, একই সঙ্গে কোনো সরকারও কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মতিউর রহমান। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও-টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করে ‘তারেক রহমান-স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি’।

এখন হঠাৎ নিজের গায়ে খাঁড়ার ঘা পড়ার পর তিনি উপলব্ধি করছেন কী হচ্ছে ইউনূস আমলে? তাছাড়া কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া তাদের স্বভাব নয়।

মতবিনিময় সভায় মতিউর রহমান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান আরও আগে দেশে ফিরতে পারলে বিএনপি এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বিএনপির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি করেছে।

আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টি হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময।

রহমান সাহেব বলেন, এই বাস্তবতায় বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহনশীলতা এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা প্রত্যাশিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি এসব বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবে।

মতিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এখনো দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে শুধু সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই হবে না; সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে একটি জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। এত বিভক্ত সমাজ নিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না।

মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘এই সময়টাতে শুধু প্রথম আলো নয়, পুরো গণমাধ্যমকেই ভয়াবহ চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছিল ভয়ংকর।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *