বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখলো একটি ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচার। দেখলো সেই কোর্টের বিচারক, প্রসিকিউশন আর কথিত বিচারব্যবস্থা।

তবে এই ক্যাঙ্গারু আদালত যে অবৈধ ও এর বিচার প্রক্রিয়াও যে পুরোপুরি অবৈধ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এতে করে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের অনাস্থা আর ঘৃণা আবারো প্রমাণিত হলো।

একটি পূর্বপরিকল্পিত ও লিখিত রায় যে তোতাপাখির মতো আউড়ে গেছেন ওই আদালতের বিচারকরা তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। এ দেশবাসী আগে থেকেই অনুমান করে নিয়েছিল যে জামায়াত-ইউনুস জঙ্গী বাহিনী কি রায় রেডি করে রেখেছে।

সুতরাং তা নিয়ে তেমন কোন উদ্বেগ উৎকন্ঠাও দেখিনি আওয়ামী সমর্থিতসহ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। তবে এই রায়কে ঘিরে ইউনুস সরকার ও জঙ্গী বাহিনীর যেসব কর্মকান্ড ও নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে বা এখনো হচ্ছে তাতে বোঝা যায় যে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই শেষ করে দিয়েছে ইউনুস।

তবে যে কথিত বিচার ও রায় নিয়ে জঙ্গী ইউনুস সরকার ও তার তল্পিবাহক রাজনৈতিক দল যেসব নাচাগানা করছে তা কিন্তু সাধারণ জনগণ গ্রহণ করেনি।

কারণ গত বছরের জুলাই-আগষ্ট থেকে এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এদেশের জনগণ। তাই এখন আর তাদের সাজানো নাটক, নাটকে অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কৌতুকাভিনেতাদের কেউ দেখতে চায়না।

দেশবাসী চায় ইউনুসীয় অপশাসন থেকে মুক্তি। এ জন্য ভেতরে ভেতরে ফুঁসছে। একটু সুযোগের অপেক্ষায় আছে তারা। সঠিক নির্দেশনা পেলে যেকোন সময় এই বিক্ষুব্ধ জনতা কিন্তু মাঠে নেমে পড়বে। সেই আতংকে রয়েছে জামায়াত-ইউনুস-এনসিপি ও তাদের সমমনা জঙ্গী দলগুলো।

যার বিরুদ্ধে এই ক্যাঙ্গারু কোর্ট ঘিরে টান টান উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল ইন্টেরিম সরকার তা যে ফ্লপ করেছে সেটিই দেখলো জনগণ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই সাজানো রায়কে ঘিরে কোন উত্তাপই ছিলনা তাঁর। অবিচল থেকেছেন, আছেন এবং থাকবেন এমন প্রত্যয় নিয়েই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্ম হয়েছিল সম্ভবত। যদি তাই না হবে তাহলে তিনি অডিও বার্তায় বলেছেন, আই ডোন্ট কেয়ার!

একবার ভাবুনতো আপনার আমার কারো বিরুদ্ধে যদি এমন একটি মৃত্যুদন্ডাদেশ হতো আমাদের হৃৎকম্পন কেমন হতো! আর শেখের বেটি বলে কিনা- ‘আই ডোন্ট কেয়ার।’ সঙ্গে তাঁর বার্তা, ‘আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই জীবন নেবেন।’

আওয়ামীলীগ নেত্রী বলেছেন, নোবেল জয়ী মহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁর দলকে শেষ করে দিতে চায়। কিন্তু এটা এত সহজ নয়, আওয়ামী লিগ তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছে, ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে নয়।’

তিনি কর্মী সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ওদের রায়ে আমার কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, সময় হলে আল্লাহ তা কেড়ে নেবেন। কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আমি আমার বাবা-মা, ভাইবোনদের হারিয়েছি এবং আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।’

গণভবন লুট নিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভবন আমার সম্পত্তি নয়, এটি সরকারি সম্পত্তি। তারা বলছে এটি একটি বিপ্লব। গুন্ডা এবং সন্ত্রাসীরা বিপ্লব আনতে পারে না।’

রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ভারতে নির্বাসিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এই-বিচার আচারকে খুব বেশী পাত্তা দিচ্ছেন বলে মনে হয় না। তিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বের খ্যাতনামা ও প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে সাক্ষাৎকারে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ হত্যায় ’ নির্দেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ” ৭.৬২ স্নাইপার ” কারা ব্যবহার করেছে সে প্রসঙ্গে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তদন্তের কথা বলেছেন।

স্নাইপার ও ৭.৬২ ব্যবহারকারী ‘কারা’ সেই প্রশ্ন ঝুলিয়ে রেখেই “রায় ” লেখা হয়ে গেছে। তো ক্যাঙ্গারু আদালতের বিনোদনমূলক এই রায়ের পর কি হবে? শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারপোল’ এর মাধ্যমে দিয়ে ভারত থেকে ধরে আনবে!?

এটিই শেখ হাসিনা। তিনিই বঙ্গবন্ধু কন্যা। এখনো এদেশের মুক্তির জন্য, এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য আশা-আকাঙ্খার জীবন্ত প্রতীক হয়ে আছেন। একাত্তরে যেমন ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এবারও এই চরম সংকটে আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনাই ভরসা এ বঙ্গদেশের নাগরিক ও দেশের।

যাঁকে অন্ততপক্ষে ২৪ বার হত্যাপ্রচেষ্টা হয়েছে এই বাংলাদেশেই নানা সময়ে। সর্বশেষ গত চব্বিশের ৫ আগষ্ট করা হয়েছিল। তবে তাঁর ভাগ্য এতটাই সুপ্রসন্ন যে প্রতিবারই কোন না কোন উছিলায় তিনি রক্ষা পেয়ে যান।

হতে পারে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, আবার কারো কারো মতে আশপাশের নানা পরিস্থিতিই তাঁকে রক্ষা করেছে। আবার স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা বলেন- স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই তাঁকে রক্ষা করেন নানা উছিলায়। তবে গত চব্বিশের জঙ্গী-মিলিটারি ক্যু এর সময় ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স তাঁকে রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা অনেক আগেই প্রমাণিত।

ইউনুস-জামায়াত সরকারের গঠিত ক্যাঙ্গারু আদালতের রায় নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো। কারণ ইতিমধ্যেই সবাই জেনে গেছেন কি কি হয়েছে সেখানে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। অনেকেই ধরি মাছ না ছুঁই পানি এমন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

অথচ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল বা আদালতটি গঠন করা হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খুন,ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট,গণহত্যাসহ নানা অপরাধের বিচার করার জন্য। সেই আদালতে এসবের কিছু বিচারও হয়েছিল।

মূলত সেময় মানবতাবিরোধী এধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গসংগঠন, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামীসহ আরো কিছু দলের নেতা-ক্যাডাররা জড়িত ছিল। সেই বিচার ও ফাঁসি, যাবজ্জীবন সহ নানা অপরাধে দন্ড দেয়া হয়েছিল মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী, দেলোয়ার হোসেন সাইদী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ আরো বেশ কয়েকজনকে।

সেই আদালতে আরো বেশ কয়েকটি মামলা চলমান ছিল। কিন্তু চব্বিশে সরকার পতনের পর ইউনুস- জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা সেই যুদ্ধাপরাধীদের আদালতকে উল্টো অপব্যবহার করা শুরু করেছে।

বিচারক থেকে শুরু করে, প্রসিকিউটর সবইতো জামায়াতী ও জঙ্গী। যে চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তিনিতো আগে এই আদালতে জামায়াতী অপরাধীদের পক্ষে লড়েছেন। তাকেই করা হয়েছে চীফ প্রসিকিউটর।

অসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে আসামীদের কোন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে, তাদের পক্ষে কোন আইনজীবী নিয়োগ করতে না দিয়ে যে বিচার ও রায় ঘোষিত হলো তো সেই আদালতকে ক্যাঙ্গারু আদালত না বলে কি বলা হবে বলুন?

যখন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মামলা চলছিল মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠকের নানা আকুতি দেখেছি আমরা।

কিন্তু এবার শেখ হাসিনাসহ অন্যদের অপরাধ বিচারের জন্য যে আদালতেরই বৈধতা নেই তা নিয়ে তারা প্রমাণ তুলছেনা। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলছেনা। শুধু পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত রায়ের পর এক একটি মানবাধিকার সংগঠন দায়সারা গোছের বিবৃতি দিচ্ছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বলেছে, তারা ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না।

গত ১৭ নভেম্বর রায়ের পর জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, সব ধরনের জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমে, বিশেষ করে এ ধরনের মানবতাবিরোধী অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বরাবরই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের কথা বলে এসেছি।”

শেখ হাসিনার রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলেছে এবং আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। “আমরা মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় ‘দুঃখ প্রকাশ’ করছি, যা যেকোনো প্রেক্ষাপটেই আমরা সমর্থন করি না।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, দুজনেরই অনুপস্থিতিতে এ বিচার করা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাননি। আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, যা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, হাসিনার দমনমূলক শাসন নিয়ে বাংলাদেশে এখনো ক্ষোভ ও বেদনা বিদ্যমান।

তবে সব ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মেনে চলা আবশ্যক। এইচআরডব্লিউ বলেছে, বিচারকাজ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ এবং নিজের পছন্দের আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।’

এমন আরো কিছু কিছু মানবাধিকার সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে যতটুকু জানি।

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে গত ১৭ নভেম্বর এই রায় দেয়ার আগেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের দিকে এক্সাভেটর নিয়ে গিয়েছিল জঙ্গী কিছু লোক। ১০ মাস আগে জ্বালিয়ে দেওয়া ওই ভবনে তারা ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দেন পুলিশ, সেনাসদস্যরা। একপর্যায়ে লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।– এমনটাই দেখা গেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেকেরই মনে হতে পারে- ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ’ জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে।আসলে এই সেনা পুলিশ দিয়ে একধরনের আই ওয়াশ করা হচ্ছে মাত্র।

আরে ভাই একটি জিনিষ কেন বুজছেন না যে, সেনাবাহিনীর প্রহরাতেই সেই ১০ মাস আগে যখন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম সূতিকাগার এই ৩২ নম্বরের বাড়িটি জঙ্গী বাহিনী ভাঙ্গছিল, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল তখন কি মব সন্ত্রাস হয় নাই?

অথচ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ যামান বার বার বলেছিলেন কোন মব সন্ত্রাসকে বরদাশত করা হবেনা। কিন্তু সবই যে ইউনুস- ওয়াকার- জামায়াত- জঙ্গীদের মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে ঘটেছে তা আবারো কি নতুন করে বুঝিয়ে বলতে হবে?

যারা মনে করছেন “সেনাবাহিনীর” মস্তিষ্ক বদলেছে, তারা ভুল ভাবছেন। অসাংবিধানিক “রাজাকার -মিলিটারী- এনজিও সরকারের বাহিনী”র কর্মকর্তা কত মোলায়েম স্বরে আইনভঙ্গকারী জঙ্গি “সন্তান” কে “যুক্তি” দিয়ে যাচ্ছেন—এমনটি নিশ্চয়ই আপনারা দেখে থাকবেন নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

দঙ্গলবাজদের সঙ্গে যুক্তি খাটে না তা “বাহিনী” জানে না। ৩২ নম্বর ঘিরে নতুন “জোশ” জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন ওয়াকার-ইউনুস-জামায়াত জঙ্গী গোষ্ঠীও।

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, সেনাবাহিনী, পুলিম, বিজিবি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনটি ঠিক আছে? সবইতো এই জঙ্গী ইউনুস সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে- যাতে এই দেশটি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। আর দাঁড়াতে গেলেও যাতে বার বার হোঁচট খেয়ে পড়তে হয় সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে।

দেশটিকে একটি ব্যর্থ-জঙ্গী ও পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। সে দিকেই টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইউনুস ও তার জঙ্গী-লটিপাটের সহযোগীরা হাজার হাজার কোটি টাকা নানাভাবে লুটপাট করে একসময়ে দেশটি থেকে সরে পড়বে অবস্থা বেগতিক দেখে।

সাংবাদিক-লেখক মনজুরুল হকের ভাষায় – “ বাংলাদেশের বাঙালি একটি নিকৃষ্ট জনগোষ্ঠী। আত্মমর্যাদাহীন। পরাধীনতাকে ভাগ্যের ফের বলা মুর্খ। তুলনায় ক্রমশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়া আফগান জাতিও মুসলমান বাঙালির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তিনি এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে দৃশ্যমান হতো দেশের প্রায় সকলেই লীগের সমর্থক।

২৪-এর ৫ আগস্টের পর সেই তাদেরই মনে হচ্ছে প্রায় সকলেই লীগের বিপক্ষ। এমন ভালনারেবল নেশনকে সুবিধাভোগী, মতলববাজ, ধান্ধাবাজ ইতর বদমায়েশরা যা-খুশি গেলাতে পারে। গেলাচ্ছেও। ভগ্ন স্বাস্থ্য, ক্রিমিনাল মগজ, সুবিধাবাদী লালচের একদল পরগাছা মানুষ গত ষোল মাস ধরে এই জাতির নাকের ডগায় মুলো ঝুলিয়ে ছিদিম চক্কর খাওয়াচ্ছে।

এদেরই স্যাঙাত পাকি প্রেতাত্মা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিরোধী জামাতি পরিচালিত ‘বিচারালয়’, তারাই পক্ষ, তারাই বিপক্ষ। সেখানে সুচারুভাবে মঞ্চায়িত এক ‘নাটকে’ ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বাঙালি নেত্রীকে। ৫৪ বছর ধরে পরাজিত পাকি প্রেতাত্মারা এই দিনটির অপেক্ষা করছিল।”

অনেকের মনের কথাই বলেছেন মনজুরুল হক। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। ২০১৩ সালে যখন মুজাহিদ-কাদের মোল্লাসহ আরো কয়েকজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর সাজা হলো তখনই জামায়াত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- গিয়েছিল এরা কখনও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারলে তার চরম প্রতিশোধ নেবে।

২৪ এর আগষ্টের পর এবার ২০২৫ এর ১৭ নভেম্বর সেটি নিয়েছে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি।

প্রশ্ন উঠতে পারে-এরপর কি করবে সরকার বা জামায়াত-এনসিপি গোষ্ঠী? নিশ্চয়ই এবার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ফেরত পাওয়ার জন্য নানাভাবে ভারতের কাছে ধর্না দেবে।

চিঠি-দূতিয়ালি সব কিছুই ফেল মারবে এক্ষেত্রে। সেটাই স্বাভাবিক। ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরৎ দেবে না জানা কথা। তখন জনগণকে আরও বেশি করে ভারত তথা হিন্দু বিদ্বেষী বানানো হবে এই বলে যে “ভারত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ফেরৎ দিচ্ছে না”। ‘চলো চলো দিল্লি চলো’, এবার দিল্লি দখল করো এমন শ্লোগানে রাজপথে নামতেও হয়তো আর বেশি দেরি নেই এসব জঙ্গীদের।

যেদিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হচ্ছে সেদিনই ঢাকায় বসে চট্টগ্রামের লালদিয়ার চর ও নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশীদের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে ৫০ বছরের জন্য। এই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন থেকে ইউনুস গং কত হাতিয়ে নিয়েছে সেটাও নিশ্চয়ই একদিন প্রকাশ পাবে।

তো এখন কই গেল তেল-গ্যাস-বন্দর সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি? সেসব সুশীল-রাজনীতিবিদ-পেশাজীবীরা কই আজকে ? তারা যে বলে বেড়ায়-শেখ হাসিনার আমলে তারা কোন কথা বলতে পারেনি, কথা বলার স্বাধীনতা ছিলনা, গণতন্ত্র ছিলনা, মানবাধিকার ছিলনা ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো সে সময়কার পত্রিকাগুলো একটু ঘাটলেই দেখা যাবে লাল লাল পতাকা, ফেস্টুন , ব্যানার নিয়ে বন্দর-তেল–গ্যাস রক্ষার জন্য আনু মাহমুদ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সুশীল বুদ্ধিজীবী এম এম আকাশ, সাংবাদিক-সুশীল আবুল মোমেনসহ আরো বেশ কিছু “পেইড সুশীল-প্রগতিশীল” দের ভূমিকা।

বাংলাদেশের এমাথা থেকে ওমাথা তারা তখন “লংর্মাচ করে দেশরক্ষা” য় অত্যন্ত ব্যস্ত।

হায়রে বাম! হায়রে সুশীল! হায়রে প্রগতি! এখন কেনো অধোগতি আপনাদের? নাকি সব রক্ষা করে ফেলেছেন আপনারা? তো নোবেল লরিয়েট আপনাদেরকে একেবারে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে!? সেটি হলে নিশ্চয়ই ভালো কথা নয়।

তিনিওতো সুশীল, আপনাদের চেয়ে আরো কয়েককাঠি বেশি সুশীল। আপনারা লোকাল, আর তিনি আন্তর্জাতিক। আপনাদেরকে এখন আর পাত্তা দেয়না। তাইনা? বলতে বা স্বীকার করতে লজ্জা লাগে?

# রাকীব হুসেইন, লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *