মার্কিন ডিপস্টেট আর ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের ফলে সেই ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্ট থেকে বাংলাদেশে যে খুন-জ্বালাও পোড়াও-মবসন্ত্রাস-ধর্ষণ-মুক্তিযোদ্ধাদর ওপর হামলা-মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধ্বংসসহ নানা ধরনের সন্ত্রাস চলছে তা কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা সরকার।
সেই সাথে চলছে হিন্দু ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন। অবশ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা বলা ভুল হবে। আসলে সামরিক-জঙ্গী-পাকি পেট্রোনাইজারি ইউনুস সরকার সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতেই চাইছেনা।
কারণ তারাতো টিকে আছে সন্ত্রাস করেই। সুতরাং এই বাংলাদেশে (যদিও অনেকে এটিকে বাংলাস্থান নাম দিয়েছে) সন্ত্রাস বন্ধ হবে তা আশা করাই দুরাশা।
কিছু ঘটনা একটু আলোচনা করলেই বোঝা যায় যে কি অবস্থা চলছে দেশে। ভারত ইতিমধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সম্ভাব্য নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত।
অর্থাৎ, আপাতত বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সেখানে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বলছি এ কারনে যে, আদৌ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট আশংকা রয়েছে। আর পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে তাতে ইলেকশন নয় হলে হবে ‘সিলেকশন’।

সন্ত্রাস-খুন-ইলেকশনের নামে সিলেকশন সবই চলছে মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে। তাই পাঠকদের জন্য সবিনয়ে বলতে চাই, আর কয়েকটি দিন যাক তারপরে মিলিয়ে নেবেন আমার এ মন্তব্য।
কারন সরকারি প্রশাসনযন্ত্র হ্যাঁ ভোট জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারমানে হ্যাঁ ভোট জিতিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানরেকই বাতিল করার সর্বাত্মক ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারি সব ধরনের মেশিনারিজ সেভাবেই কাজ করছে ও করানো হচ্ছে।
আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একধরনের ‘সিলেকশন’ চলছে জোরকদমে।
ইউনুস-জামায়াত-এনসিপির যৌথ প্রয়াসে এই সিলেকশন বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। যদিও বিএনপি এখনো খোয়াব দেখছে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে মনে করে। কিন্তু তাদের সেই খোয়াব যে দুঃস্বপ্ন হচ্ছে তা হয়তো বুঝতে পারছেনা তারা।
কথিত ইলেকশনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। গত মাসে তফসিল ঘোষণার পরদিনই ঢাকায় দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে নিহত হন ( মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ) ইনকিলাব মঞ্চের মূল নেতা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লোগান বিশারদ জঙ্গী শরিফ ওসমান হাদি। তার পরিবারের সদস্যদেরকে ইউনুস সরকার পারছেনা শুধু সারাক্ষণ মাথায় তুলে রাখতে।

তার ভাইকে ইতিমধ্যে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে কূটনীতিকের চাকরি দেয়া হয়েছে।এমনকি তাদের পরিবারের জন্য ঢাকায় এক কোটি টাকা দামের ফ্লাট কেনার জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকার থেকে।
বুঝতে অসুবিধে হয়না যে এই শান্তির দূত (!) ড. মুহম্মদ ইউনুস কাদের হয়ে, কাদের পক্ষে, কাদের দ্বারা কাজ করছেন।
হিউম্যান রাইট সাপোর্ট সোসাইটি বা এইচআরএএস এর প্রতিবেদন বলছে, গত বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালেই সারাদেশে ৯১৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে সাড়ে সাত হাজার মানুষ।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “সহিংসতা যে কারণেই হোক এটা যেভাবেই হোক থামাতে হবে। সহিংসতা থাকলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ”।
২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দিন সারাদেশের পুলিশি থানায় অস্ত্র ও গুলি লুটের ঘটনা ঘটে। এসব অস্ত্রের কিছু উদ্ধার করা গেলেও এখনো অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা যায় নি। অপর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, লুট হওয়া সে সব অস্ত্রের ১৫ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ গুলি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বলতে গিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নিরাপত্তার নিরিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১টি । তন্মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮,৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬,৫৪৮টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র ১৭,৪৩৩টি।
গত সোমবার অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তো বোঝাই যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশন হবে নাকি সিলেকশন হবে।
আরো একটি ভয়ংকর বিষয় সামনে এসেছে। তাহলো- বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘কালা পাঁঠা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জঙ্গী এনসিপি’র জঙ্গী নেতা গুণধর(!) হাসনাত আব্দুল্লাহর অতি গুণধর পিতা ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি বলেন, আমার ছেলেকে জেতানোর জন্য আমি দশটা মার্ডার করাবো। আমরা কোনো বিচার আচার মানি না। আমি আমার ছেলেরে আল্লাহর নামে ছাইড়া দিছি। আমরা ১০টা মার্ডার করাবো, ১০ টা..!

জঙ্গী পিতা-পুত্রের উগ্র আচরণ ও কথাবার্তায় মনে হচ্ছে তাদেরকে আমাদের শান্তির দূত (!) ড. ইউনুস সন্ত্রাস ও খুন করার জন্য অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছেন। যদি তাই না হবে তাহলে এমন আস্কারা আর ঔদ্ধত্য তারা কোত্থেকে পেয়েছেন ?
১০ দলীয় ইসলামী জোট মনোনীত কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বাবা যা বলেছেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এই নির্বাচন যে কোন নির্বাচন হতে চলেছে তা জঙ্গীগোষ্ঠীর প্রাণনাশের হুমকিতেই বোঝা যাচ্ছে।
এই যদি বাস্তবতা হয় ছেলে এমপি হলে বাবা কয়টা মার্ডার করবেন বাকি সময়ে? এই যদি হয় বাংলাদেশ আইন কানুন কোথায় যাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ? এটার মূল ইন্ধনদাতা জামাত ইসলাম কারণ এতদিন তো হাসনাত আব্দুল্লার বাবা ফেসবুকে আসেননি? এখন এত সাহস পেল কোত্থেকে পেলেন?
বাংলাদেশের আইন কি জুলাই যোদ্ধাদের বাবার হাতে চলে গেছে ?
একটু যদি বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের দিকে নজর দিই আমরা তাহলে সেখানে কি দেখি? খুন-সন্ত্রাস-রাহাজানি যেন নিত্যদিনকার ঘটনা।
গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শহরের লাগোয়া সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কয়েকজন ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে’ গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে র্যাবের একটি দল অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন র্যাবেরই একজন কর্মকর্তা। র্যাবের ডিএডি (ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) মো: আবদুল মোতালের নামে ওই কর্মকর্তাকেই শুধু খুন করেনি সন্ত্রাসীরা সেই সাথে আরো চারজনকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শেষ পর্যন্ত র্যা ব সদস্যরাই সেখানে হামলার শিকার হয়ে ফেরত চলে আসে।

অনেকেই বলছেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর, যেটিকে অনেকেই ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মূলত, এর দুর্গম ও পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এখানে তুলনামূলকভাবে কঠিন। তাই, কার্যত এটি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ওই কর্মকর্তার নামাজে জানাজায় গিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান নিজেও বলেছেন, “জঙ্গল সলিমপুর, যা একটি সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। তবে দেশের আইন অনুযায়ী এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি সেই গতানুগতিক ধারায়।
যেখানে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র্যাবের অফিসার নিহত হন, আহত হন আরো কয়েকজন। তারপর সেই এলিট ফোর্স ভেজা বিড়ালের মত সেখান থেকে পলায়ন করে জীবন হাতে নিয়ে সেখানে যে আর কি হবে বা করতে পারবে র্যাব বা অন্যরা তা বোঝাই যাচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে এখানে অবস্থানরত ভারতীয় কূটনীতিক মিশনের কর্তাব্যক্তি ও তাদের পরিবার পরিজনের নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত। এরই মধ্যে বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনৈতিক পোস্টিং ‘নন-ফ্যামিলি’ ঘোষণা করা হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ, আপাতত বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সেখানে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার প্রেক্ষিতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে একটি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কোনো কূটনৈতিক উত্তেজনা হিসেবে নয়।
নন-ফ্যামিলি পোস্টিং সাধারণত সেইসব দেশে করা হয়, যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাই দায়িত্ব পালন করেন, পরিবারকে অন্য নিরাপদ পোস্টিংয়ে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর বাড়ছে। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নানা আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত মূলত কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হলেও, এটি বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির বাড়তি সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
