বাংলাদেশ জন্মের আগে থেকেই এদেশের রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতা ছিল অন্যতম রাজনৈতিক হাতিয়ার। অথচ ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় ও তার পরিবর্তিত বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে।

কিন্তু একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি তাদের সেই ভারত বিরোধিতা ছাড়তে পারেনি। শুধু একাত্তরের পরাজিত অপশক্তিই নয়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন এমন অনেক রাজনৈতিক দল ও মানুষও কোন কারণ ছাড়াই ভারত বিরোধিতা করে এক ধরনের আত্মিক সুখ খোঁজেন।

তবে বাংলাদেশের এই মনোভাবাসম্পন্ন নাগরিকদের মননে যে বিষয়টি কাজ করে তা হলো মূলত হিন্দু বিরোধিতা। আর সেই হিন্দু বিরোধিতা থেকেই তাদের ভারত বিরোধিতা অনেক গভীরে প্রোথিত।

ওই যে ভারত বিরোধিতা ও হিন্দু বিরোধিতার কথা বলছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতি ও নাগরিক মানসে তা শুধু এখনকার প্রেক্ষাপটে নয়।

এটি সেই পাকিস্তান আমল থেকেই মানে ’৪৭ এর দেশ ভাগ মানে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় থেকেই চলে আসছে। কিন্তু ভারতের তেল,নুন, পেঁয়াজ, মরিচ,শাড়ি-কাপড় থেকে শুরু করে হেন কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নেই যা ব্যবহার করছেনা এ বঙ্গের মানুষেরা।

হাঁচি কাশি হলেও এখানকার মানুষ চিকিৎসার জন্য দৌড় দেয় ভারতে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হতে না হতেই ভারত আর হিন্দুদের গালি দেয়া শুরু করে। ব্যাপারটি শুনতে বা বলতে মন্দ লাগলেও এটিই হচ্ছে এখানকার বাস্তবতা।

গত ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে আমেরিকান ডিপষ্টেট আর ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে হওয়া কথিত আন্দেলনের সময় বেশ কিছু শ্লোগান এ দেশের জনগণ শুনেছে।

তারমধ্যে .. হেই..দিল্লি না ঢাকা .. ঢাকা ঢাকা এ ধরনের শ্লোগান শুনতে শুনতে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার দশা হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামী, হিযবুত তাহরীরসহ তাদের বাই প্রোডাক্ট নতুন গজায়মান দল এনসিপি, ইনকিলাব মঞ্চসহ আরো কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিনিয়ত ভারত বিরোধীতা ও ভারত বিদ্বেষ ছড়িয়ে রএদেশের মানুষকে ইসলামী বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত বা প্রলুব্ধ করা হয়েছে। সে প্রলুব্ধকরণ প্রক্রিয়া সমানভাবেই বিদ্যমান।

ভন্ড-প্রতারক-অবৈধ ইউনুস সরকারের প্রচারে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল ভারত বিদ্বেষ ও নানাভাবে ভারতের বিরোধিতা করা।

এমনকি নিজের নাক কেটে হলেও ভারতের বদনাম , হিন্দুদের বদনাম করতে হবে এসব দল ও রাজনৈতিক নেতাদের। শুধু বদনামই নয় চরম বিদ্বেষ ছড়ানোও যেন মুখ্য কাজ এই গোষ্ঠীর।

সম্প্রতি টি টুয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে বারোটা বাজিয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ ইউনুসীয় গং তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এদেশের ক্রিকেট খেলোয়ার ও ক্রিকেটবোদ্ধারা।

এতে তো ভারতের কোন সমস্যা বা ক্ষতি হয়নি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে এই বাংলাদেশের।অথচ তখন টি টুয়েন্টি খেলতে ভারতে না যেতে বাংলাদেশকে তাল দিয়েছে পাকিস্তান।কিন্তু তারা ঠিকই খেলেছে।

আমরা সেই ’৪৭ এর ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার বিষয়টি খানিকটা যদি একটু আলোচনা করি তাহলেই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে আমাদের কাছে।

তখন দেশ ভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। মানে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের ভিত্তিতে।। ভারতকে বলা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্র। যার নাম হিন্দুস্তান।

অপরদিকে তখনকার পূর্ব পাকিস্তান মানে এখনকার বাংলাদেশসহ বাংলাদেশ থেকে ১০০০ মাইল দুরে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তান মিলে একটি রাষ্ট্র। যার নাম হলো পাকিস্তান। বৃটিশদের কি সুদুরপ্রসারি ষড়যন্ত্র ছিল তখন ভেবে দেখুন।

তো সেই যে ধর্মের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান তথা ভারতের সৃষ্টি করা হলো তাতে কি সমস্যার সমাধান হয়েছে? ধর্মের নামে বা ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলিমদের বাস হওয়ার কথা ছিল শুধু পাকিস্তানে।

মানে এখনকার পাকিস্তান ও বাংলাদেশে। আর ভারতে শুধু হিন্দুদের বসবাস করার কথা ছিল। কিন্তু তাতো হয়নি। ভারতে থেকে অনেক মুসলিম তৎকালীন পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়নি। তেমনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মানে একাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশ থেকেও কিন্তু অনেক হিন্দু রয়ে গেছে এই বঙ্গে।

দেশ-মাতৃভূমিকে ভালোবেসে সেই পাকিস্তানে রয়ে যাওয়া হিন্দুদের কপালে কিন্তু লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। যদিও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এই হিন্দুদের রক্ত ঝড়েছে অনেক বেশি।

সবচেয়ে বেশি নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে হিন্দুদেরকেই। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যখন প্রথম আক্রমন করে তখন মূল নিশানা কিন্তু ছিল এই হিন্দুরাই।

যে এক কোটি নাগরিক বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে, শরণার্থী হয়েছিল তাদের শতকরা ৯৮ ভাগই ছিল কিন্তু হিন্দু। একাত্তর সালের শরণার্থীদের পরিসংখ্যান ও ইতিহাস কিন্তু তাই বলে।

আর পাকিস্তানীরা তখন এই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাযুদ্ধকে হিন্দুদের ষড়যন্ত্র ও ভারতের ষড়যন্ত্র বলেই আখ্যায়িত করেছিল ও সেই প্রচার-প্রপাগান্ডাই চালিয়েছিল।

অবশ্য সে ধরনের অপপ্রচার এখনো চলছে, একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ও ভিন্ন কৌশষল ও মাত্রায়। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসররা নানাভাবে-নানা কৌশলে হিন্দু ও ভারত বিরোধীতা করে গেছে।

’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার আগে চরমভাবে ভারত বিরোধীতা-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছিল অত্যন্ত সফলভাবে। সামরিক ক্যু এর মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে ভারত বিরোধীতাকে আরো চরমে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আপনাদের অনেকেরই হয়তো মনে থাকার কথা। জিয়ার আমলে বঙ্গোপসাগরে তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে একধরনের ভারত বিরোধিতার জিগির তোলা হয়েছিল।

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ভারতবিদ্বেষ-ভারত বিরোধিতার নামে অসংখ্য পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল।

তার মানে হিন্দু মানেই ভারত , আর ভারত মানেই হিন্দুদের দেশ। অথচ এই ২০২৬ সালে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ।

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ কোটি যা এখন ৩০ কোটির উপরে পৌঁছেছে বলেই বিভিন্ন সূত্রের পরিসংখ্যান বলছে। কারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্মহার হিন্দুদের চেয়ে বেশি।

বিভিন্ন সূত্রমতে ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠী তাদের জনসংখ্যা অধিকহারে বাড়ানোর জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। কৌশলে তারা জনসংখ্যা বাড়িয়ে ভারতে দিল্লীর মসনদ দখল করার সুপরিকল্পনা করেছি বলেই নানা গোয়েন্দা সংস্থা জানাচ্ছে।

বাংলাদেশে মোট যে জনসংখ্যা তার চেয়ে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা কয়েক কোটি বেশি।

এরই মধ্যে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য সেখানকার জনমিতির স্বাভাবিক ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে বলে সেখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজবিদগণ জানিয়েছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় এলাকাগুলোর জনমিতিতেও এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, এসব এলাকাতে মুসলিমদের সংখ্যা হিন্দুদের চেয়ে বেশি। এই সংখ্যা কিন্তু গত ২৫ বছরে অনেক বেশি পরিমানে বেড়েছে।

মানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সেখানে মুসলিম জন্মহার বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশে শুধু জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামী, হিযবুত তাহরীর বা অন্য ইসলামী দলই হিন্দু বিদ্বেধী বা ভারতবিদ্বেষী নয়।

আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি যে আওয়ামীলীগ এদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই দলের অনেক নেতাকর্মী সমর্থকও চরম হিন্দুবিদ্বেষী ও ভারতবিদ্বেষী।

কুমিল্লার সাবেক এমপি ( আওয়ামীলীগের আ ক ম বাহাউদ্দিন ) বাহার সেখানে যেভাবে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার ও বিদ্বেষ ছড়িয়েছে তা আর নতুন করে কিছু বলার নেই। শুধু কুমিল্লার বাহার নয় এরকম আরো অনেক বাহার আওয়ামীলীগের মধ্যে রয়েছে।

আর বাংলাদেশে বাম রাজনৈতিক দলগুলোও ভারত বিরোধিতা করে আসছে অনেক আগে থেকেই।

বিগত ইউনুস আমলে আমরা দেখেছি ইউনুসের বশংবদ সেই কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা পরে ছাত্রশক্তি বা এনসিপিতে রুপান্তরিত টোকাই-জঙ্গী রাজনৈতিক দলটির নেতারা চরমভাবে ভারতবিদ্বেষ ও ভারতবিরোধিতা করেই তাদের রাজনীতি টিকিয়ে রাখছে।

ইউনুস নিজে সব ধরনের শিষ্টাচার ভেঙ্গে সরকারপ্রধান হিসেবে ভারতের সেভেন সিস্টারস মানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি নিয়ে চরম উষ্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন দেশে ও বিদেশে ।

অপরদিকে হাসনাত- সারজিস-‌হাদি- মাহফুজদের মত টোকাই জঙ্গীরা ভারতের চিকেন নেক দখল ও সেভেন সিস্টারস দখল করার নানা হুংকার দিয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। যা সত্যিকারভাবেই এই দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে বিরাট দূরত্ব তৈরী করেছে।

তখন শুধু যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা বা ইউনুসগং ভারত বিরোধিতা করেছে তা কিন্তু নয়। বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মীও একই অবস্থানে ছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী তার গায়ে দেয়া ভারতীয় শাল ও তার স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন।

একধরনের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি করে নিজেদের রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন হাস্যকরভাবে।

আসলে এতসব বলার কারণ হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রকৃত সম্পর্ক সেটিকে বোঝানোর জন্য।

কয়েকদিন আগেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আশ্রয়গ্রহণকারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি জেলার সভাপতি ভারতের মাটিতে বসেই চরম ইসলামী জোশে সেখানকার সাম্প্রদায়িক ইসলামী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে প্রকাশ্যে শ্লোগান দিয়েছে।

যার ফলে সেখানকার লোকজনের বিরাগভাজন হয়েছে সেই নেতা। এটি স্বাভাবিক। কারণ এই ভারতই কিন্তু আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের দেশত্যাগী নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়েছে।

যেটি সে তার ফেইসবুকে শেয়ার করে প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

ইউনুসীয় জঙ্গী-জামায়াত-সেনা অপশাসনের ১৮ মাসে যে পরিমাণ হিন্দু জনগোষ্ঠী নানা অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়েছে তা এর আগে হয়েছে বলে মনে হয়না।

কিন্তু সেই সংক্রান্ত অনেক অনেক খবর প্রকাশিত হয়নি এদেশের মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে। ফলে এ সংক্রান্ত সঠিক পরিসংখ্যানও নেই কারো কাছে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরাইল-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও এলপিজি, এলএনজি’র চরম সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।

তাই এখনকার তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ভারতের কাছে জ্বালানী তেল সরবরাহ করার সাহায্য চেয়েছে। অবশ্য ভারত তার সেই পুরনো বন্ধুত্বের ও সহযোগিতার হাতকে কিন্তু গুটিয়ে বসে থাকেনি।

এরই মধ্যে ৫ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরবরাহ করেছে। বাংলাদেশ আরো অধিক পরিমাণ তেল পাওয়ার জন্য ভারতের কাছে আবেদন করেছে।

কিন্তু এখন আর ঢাকায় সেইসব জঙ্গী-টোকাই রাজনৈতিক নেতা হাসনাত-সারজিস গং শ্লোগানে আকাশ-বাতাস ও রাজপথ কাঁপায় না- হেই দিল্লী না ঢাকা .. বলে।

একটু দেখে আসি এখনকার জ্বালানী তেল সংক্রান্ত বিষয়ে। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে- বাংলাদেশ–ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন (Bangladesh–India Friendship Pipeline )হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নির্মিত প্রথম আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন।

এর মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হয়।

১. রুট (Route)
শুরু: Siliguri, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
শেষ: Parbatipur, দিনাজপুর, বাংলাদেশ

উদ্দেশ্য: ভারত থেকে ডিজেল সরাসরি উত্তর বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়া।

২. যার মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ১৩১.৫ কিলোমিটার। ভারতের অংশ: প্রায় ৫ কিমি ও

বাংলাদেশের অংশ: প্রায় ১২৬ কিমি

৩. পরিবহন ক্ষমতা: বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন (1 million metric tonnes) ডিজেল পরিবহন করা সম্ভব।

৪. প্রকল্পের খরচ: প্রায় ₹৩৭৭ কোটি ( যা ৪৫ মিলিয়ন ডলার সমপরিমান )।
বাংলাদেশের অংশের বেশিরভাগ খরচ ভারত অনুদান (grant) হিসেবে দিয়েছে।

৫. চুক্তি ও উদ্বোধন

২০১৭: ডিজেল সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর

২০১৮: ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

১৮ মার্চ ২০২৩: উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina।

৬. সরবরাহ ব্যবস্থা: এই পাইপটলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করে ভারতের Numaligarh Refinery Limited। যা গ্রহণ করে বাংলাদেশের Bangladesh Petroleum Corporation।

চুক্তির মেয়াদ: ১৫ বছর।

৭. সুবিধা: উত্তর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হয়েছে।
আগে জাহাজ, ট্রেন বা ট্রাকে ডিজেল আনতে অনেক সময় লাগত, এখন পাইপলাইনে দ্রুত পৌঁছে যায়। পরিবহন খরচও কমেছে। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ১৬টি জেলায় এর সুবিধা পৌঁছায়।

অপরদিকে বিএনপির একসময়কার আবাসিক নেতা রিজভী সাহেবও ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করতে ভরসা পান না।

বেহায়া-অবৈধ ইউনুস সরকারের সময় যত খুশি ভারতকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে গেছে এদেশের রাজনীতিবিদরা। ভারতীয় পতাকা পায়ে দলে চরম অপমান করেছে।

ভারতীয় দূতাবাসে হামলা, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে হামলা অগ্নিসংযোগসহ নানা অপপ্রচার করেছে। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, ভারতের সরকার অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বিচক্ষণতার সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে কূটনৈতিকভাবে।

যদিও ভারতের কিছু কিছু মিডিয়া অতি উৎসাহী হয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রচার করেছে। অবশ্য বাংলাদেশের মিডিয়াতেও তার চেয়ে কম কিছু হয়নি অপপ্রচার ভারতের বিরুদ্ধে।

ইউনুস সরকারতো চিকিৎসা-শিক্ষার জন্য ভারতের বদলে পাকিস্তান-চীনের ওপর অনেক বেশি সাহায্য পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলো। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত মানে ইউনুসীয় শাসনামলে উন্নত চিকিৎসা বা শিক্ষার জন্য কাউকে যেতে শুনিনি।

সেই আমলে বিভিন্ন ভোগ্যপন্যসহ নানা পন্য ভারত থেকে না এনে অন্য কোন কোন দেশ থেকে আমদানীর বাগাড়ম্বর করতে শুনলেও তা কিন্তু বাস্তবিকভাবে কোন কাজে আসেনি।

এত ভারত বিরোধিতা ও ভারত বিদ্বেষ ও পাকিস্তান ও তুরষ্কপ্রেমের মধ্যেও সেই ভারত থেকে চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ নানা ভোগ্যপণ্য আমদানী করতে দেখেছি।

এমনকি চরম শত্রু ভারতের সরকার পরিচালনাকারি নেতৃত্বের কাছে আম ও ইলিশ পাঠিয়ে বরং তৈলাক্ত নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মানসিকতারই পরিচয় দিয়েছিল ইউনুস গং।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও কথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে যে হিন্দু বিদ্বেষ-ভারত বিদ্বেষ ও বিরোধিতা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকেছে তা আর শত চেষ্টা করেও বের করা যাবেনা। কারণ এদের মননে এখনো সেই ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান ( যদিও তা টেকেনি) কাজ করে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে।

# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *