বাংলাদেশের বন্দর এখন থেকে অপারেট করবে বিদেশিরা। সেজন্য তড়িঘড়ি করে অবশ্য চুক্তিও করেছে অবৈধ-অনির্বাচিত-অগণতান্ত্রিক জঙ্গী ইউনুস সরকার।

চুক্তিতে কি আছে তা কিন্তু জানাচ্ছেনা সরকার বা বিদেশী যে প্রতিষ্ঠান বন্দরের ইজারা নিয়েছে তারা। অত্যন্ত গোপনীয় বলে দাবি করা হচ্ছে। আরে বাপু এই বন্দর তো জাতীয় সম্পদ। এর মালিক এদেশের জনগণ। সেই মালিকই যদি জানতে না পারে তাহলে জানবে কে?

প্রশ্নতো সেখানেই। জানবে তারাই যারা চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ারচরে নির্মিতব্য কন্টেইনার জেটি এবং নারায়ণগঞ্জের পানগাঁওয়ের কন্টেইনার টার্মিনাল ছেড়ে দিয়েছেন তারাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেদিন এই অবৈধ সরকারের ক্যাঙ্গারু আদালত মৃত্যুদন্ডের রায় দিলো সেদিনই অত্যন্ত সঙ্গোপনে চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল দেয়ার চুক্তি করে ফেলেছে।

তাও আবার ননডিসক্লোজার মানে জনগনের কাছে প্রকাশ করা যাবেনা। তাহলে দেশের মালিক যে জনগণ সংবিধান অনুযায়ী সেই জনগণের অবস্থাটি কি?

আসলে জনগণকে চরম ধোঁকা দিয়েই নিজেদের আখের গুছিয়েছে চরম সুদখোর-লোভী শান্তিতে নোবেল পাওয়া ইউনুস। শুধু দুটি নয়, খুব সহসা অন্য টার্মিনালগুলোও দিয়ে দেয়া হচ্ছে বিদেশীদেরকে। এ ব্যাপারে যথেষ্ট আশংকা রয়েছে। সে ব্যাপারে বেশ দ্রুতই কাজ করছে ইউনুসীয় গং।

কারণ তাদেরও সময় ঘনিয়ে আসছে সম্ভবত। তাই যাওয়ার আগে বা পালানোর আগে অবৈধভাবে যত পরিমাণ লুটপাট করা যায় সে চিন্তায় মশগুল তারা।

অর্থলোভী সুদী ইউনুস ও তার সাংপাঙ্গরা বাংলাদেশকে কিভাবে লুটেপুটে শেষ করে দেবে এর অর্থনৈতিক ভিত সেই ষড়যন্ত্রেই লিপ্ত।দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করার অপেক্ষায় আছে এরা। রাজনৈতিক ভাবেতো শেষ করেছে অনেক আগেই। এখন তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করা।

দীর্ঘমেয়াদী ইজারার নামে অনেকটা বিক্রিই করে দিলো তারা। স্বচ্ছ কোন দরপত্র ছাড়াই এটি হস্তান্তরের চুক্তি করা হলো। এখন ভবিষ্যতে যদি কোন নির্বাচিত সরকারও এই চুক্তি বাতিল করতে চায় তাহলেও তা পারবে বলে মনে হয়না।

কারণ কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা নেয়া বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তখন আন্তর্জাতিক মামলা ঠুঁকে দিলে সে রায় আর বাংলাদেশের পক্ষে যাবেনা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো যে অন্তবর্তীকালীন ইউনুস সরকারই অবৈধ সেই সরকার কি করে বন্দরের মত অতি সংবেদনশীল একটি বিষয়ে চুক্তি করতে পারে ? প্রশ্ন তোলাই যায়। কিন্তু তার কোন সমাধানতো পাওয়ার উপায় নেই জাতির সামনে।

শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন এই দুটি কন্টেইনার টার্মিনালই নয় বন্দরের আরো কন্টেইনার টার্মিনালও বিদেশী কোম্পানীকে ইজারা দেয়ার জন্য অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

তাদের যুক্তি হলো এতে করে বন্দরের কাজের গতিশীলতা বাড়বে।অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি আসবে তাতে। কিন্তু এসব কিছুই ছেলে ভোলানো উক্তি। দেশের বারোটা বাজিয়ে তারা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার ফালতু যুক্তি দেখাচ্ছে মাত্র। গায়ের জোরে সবকিছুইতো শেষ করে দিচ্ছে এই জঙ্গী ইউনুস সরকার।

এই যে বন্দরের ইজারা দেয়ার চুক্তি হলো তাকে অনেকেই সেই তৎকালীন ভারতবর্ষে ‘ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী’র চুক্তির সাথে তুলনা করেছেন। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ৩০ বছরের জন্য এবং ঢাকার নিকটবর্তী পানগাঁও নদীবন্দর ২২ বছরের জন্য পরিচালনার চুড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হলো বিদেশি দুই অপারেটরকে। অবশ্য এগুলো আরো ১৫ বছর নবায়নযোগ্য চুক্তি। তাহলে কত বছর দাঁড়ালো এবার হিসেব করুন।

গত ১৭ নভেম্বর ঢাকায় একটি হোটেলে আয়োজিত পৃথক দুই অনুষ্ঠানে চুক্তি দুটি সই হয়েছে। স্বাক্ষর প্রকাশ্যে হলেও চুক্তিতে বিস্তারিত কী কী শর্ত রয়েছে এবং কী কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সাধারণভাবে আমাদের অনেকের কাছে মনে হতে পারে এসব নেহায়েত বাণিজ্যিক চুক্তি, এর সঙ্গে দেশের অখণ্ডতা বিনষ্টের কোনও সম্ভবনা নেই।

একটু পেছনের দিকে সেই সময়কার ভারতবর্ষের কথা স্মরণ করা যাক। ১৬০০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানী প্রথম এলিজাবেথের কাছ থেকে সনদ লাভের পর।

১৬০৮ সালে তাদের প্রথম জাহাজ সুরাটে এসে পৌঁছায় এবং তারা মসলা, রেশম, তুলা ও চা ইত্যাদি ব্যবসার মাধ্যমে লাভজনক বাণিজ্য শুরু করে। পরবর্তীকালে কোম্পানিটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে এবং পলাশীর যুদ্ধের পর (১৭৫৭ সাল) তাদের শাসনামল শুরু হয়।

বাণিজ্যের নামে এসে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ছদ্মাবরণে ইংরেজরা পুরো ভারতবর্ষ ২০০ বছর শাষণ-শোষণ করে গেলো। সে ইতিহাস নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি এ অঞ্চলের মানুষজন ?

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল চুক্তির সঙ্গে আবার সেই ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিষয়টিকে টানছি কেন বা সে উদাহরন কেন আসছে? এটি কি শুধুই বানিজ্যিক চুক্তি? একটু ভূ-রাজনৈতিকভাবে চিন্তা করে দেখুনতো কাংলাদেশের অবস্থানটি- তাহলে সবকিছুই পানির মত স্বচ্ছ হয়ে যাবে।

যদি বলি এই চুক্তি শুধুই ব্যবসা নয় বরং ভূ-রাজনৈতিক স্ট্রাটিজিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতই দখলদারিত্বে প্রাথমিক সোপান।

যার সম্ভাব্য পরিণতি-বিশ্ববাণিজ্যের যুদ্ধকেন্দ্র হয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হারানোর পরিণতিও ডেকে আনবে নির্ঘাত। চট্টগ্রাম বন্দর নানা কারণে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগরে ভারত– চীন– মিয়ানমারসহ মালাক্কা প্রণালী হয়ে আসিয়ান কানেক্টিভিটি, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা তথা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।

চট্টগ্রাম বন্দর এই অঞ্চলের একমাত্র প্রাকৃতিক সমুদ্রবন্দর যাকে বলা যেতে পারে বঙ্গোপসাগরকে নিয়ন্ত্রণের গেটওয়ে। মালাক্কা প্রণালী হয়ে ইন্দোপ্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্য রুটের সাঙ্গে জড়িত।

বাণিজ্যতো রয়েছেই, কিন্তু তারচেয়ে বেশি সামরিক দিক থেকে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই অঞ্চলটি যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তারাই পুরো এশিয়া-ওসেনিয়া-ভারত মহাসাগরে কর্তৃত্বের ছড়ি ঘোরাবে।

ভারত তার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টারস রাজ্যগুলির নজরদারির জন্য সমুদ্রপথের সবচেয়ে কাছে হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। যদিও ভারত তার পণ্য রফতানি-আমদানিতে এই বন্দর থেকে আপাতত সুবিধা নিতে পারে না, তাই তারা মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দর থেকে মিজোরাম পর্যন্ত স্পেশাল হাইওয়ে নির্মাণ করেছে।

যেখান থেকে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে লজিস্টিক সাপ্লাই দেবে। এখানে বর্হিশক্তি ঘাঁটি গাড়লে ভারতের জন্য তা হুমকি স্বরূপ।

অপরদিকে চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে করিডর, চীনের মেরীটাইম বেল্ট এন্ড রোড গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম চীনের বানানো কর্ণফুলী টানেল ও বিনিয়োগনির্ভর শিল্পাঞ্চলের প্রবেশ মুখ, এই অঞ্চলে চীনের সামুদ্রিক সক্ষমতা সীমিত করার জন্য মার্কিনীদের কাছে তাই চট্টগ্রাম বন্দর ও মালাক্কা প্রণালী নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সে অনেকদিন আগে থেকেই।

মার্কিনীরা তো তক্কে তক্কে ছিল কবে তারা কৌশলৈ ঢুকবে চট্টগ্রাম বন্দরে। সে সুযোগটি তাদের কাছে এসে গেলো। ইউনুস সরকারের মাধ্যমে একটু ঘুরিয়ে তারা অন্যদের মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে এই চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার টার্মিনাল বানিজ্য চুক্তির মাধ্যমে তাদের স্বার্থটি ঠিকই হাসিল করে নিয়েছে ও নেবে।

এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমেরিকান এসএসএ কোম্পানীর মাধ্যমে সেটি তারা করতে চেয়েছিল পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমি সংলগ্ন এলাকায়।

কিন্তু তখন আওয়ামীলীগ সরকার অনেকটা রাজী থাকলেও চট্টগ্রামের তৎকালীন দেশপ্রেমিক-সংগ্রামী মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধূরী ও তখনকার বাম রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের তীব্র আন্দোলনের কারণে তা আর বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

এজন্যতো বটেই আরো অনেক বীরত্বসূচক আন্দোলন সংগ্রামের জন্য চট্টগ্রামেই শুধু নয় সারা দেশেই মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রাজনীতিবিদেরা সমীহ করতেন।

 

এমনকি তার রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধীতাকারিরাও। এজন্য তাকে উপাধি দেয়া হয়েছিল “ চট্টলবীর”।

তিনি তখন তার দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে ছাড়েননি। কিন্তু তাই বলে কি তাকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল ? তা হয়নি কিন্তু। ন্যায্য দাবি ও জনগওেনর দাবি তথা দেশের স্বার্থ রক্ষার যে দাবি ও আন্দোলন হয় তা কখনো বৃথা যায়না।

কিন্ত এখন আর সেই মাপের সেই সাহস নিয়ে রাজনীতি করার নেতা নেই। রাজনীতিবিদ নেই। শ্রমিক সংগঠন নেই। শ্রমিক নেতা নেই। সবাই এখন বিক্রি হয়। কেউ তোলা হিসেবে , আবার কেউ কেজি হিসেবে।

যারা বোঝার বুঝে নিন। বিভিন্নভাবে দেখছি কিছু শ্রমিক সংগঠন বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলনের কিছু কর্মসূচী দিচ্ছে। কিন্তু তা একান্তই লোক দেখানো। কোন ফলপ্রসু আন্দোলন নেই। আর ওই যে জাতীয় তেল-গ্যাস-বন্দর সম্পদ রক্ষার জন্য যে “পেইড সংগঠন” ছিল বা রয়েছে তারাতো ধোঢ়া সাপ হয়ে গেছে। এরা যেহেতু “পেইড” ছিল সেই টাকার ‘ফ্লো’ যখন বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আন্দোলনও বন্ধ হয়ে গেছে।

কিছু সুশীল দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হতে পারে। টাকার লেনদেন হতে পারে। স্বার্থের বেচাকেনা হতে পারে। তবে এই সুশীলদের দিয়ে আন্দোলন হবেনা। কারন এসব সুশীলদের ৯৫ ভাগের বেশিতো লালবদর ছিল।

এসব লালবদর আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আলবদরদের মধ্যে খুব একটা তফাৎ কি দেখতে পান আপনারা? আমি অন্তত: পাইনা। কারন এরা চব্বিশের জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর ইন্ধন যুগিয়েছেন। বিবৃতি দিয়েছেন। বুদ্ধি পরামর্শ ( ষড়যন্ত্র) করেছেন কিভাবে শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিতে দমন করা যায়। তারা রাজপথেও নেমেছেন।

এই সুশীলরাই কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে তেল-গ্যাস-বন্দর সম্পদ রক্ষার জন্য লাল কাপড়-ব্যঅনার ফেষ্টুন নিয়ে সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন একসময়। তাই এসব সুশীলদের জন্য করুনা হয় মাত্র!

একদলা “থু” দেয়া ছাড়া আর কি ইবা করার আছে বলুন ? তবে সময় আসবে যেদিন এদেশের মানুষ এসব সুশীলদেরকে ধরে ধরে রাস্তায় পেটাবে ( যদিও তাকে কখন কেউ কেউ মব সন্ত্রাস বলে তার বিরুদ্ধে তারস্বরে চিৎকার করবেন )। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তখন মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ও প্রতিবাদী হয়ে উঠবে। হায়রে সুশীর ! হায়রে মানবাধিকার সংগঠন !

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনকে কব্জায় রাখতে আমেরিকার কাছে কৌশলগত কারণে চট্টগ্রাম বন্দর ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। চীনের রফতানি পণ্যের প্রায় ৬০ ভাগের গেটওয়ে মালাক্কা প্রণালী। অঞ্চলটি চীন-ভারত-জাপান-মিয়ানমার সকল পক্ষই নিয়ন্ত্রণ রাখতে মরিয়া।

এই অঞ্চলে আমেরিকা এসে মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটে, কক্সবাজারের শিলখালিতে ঘাঁটি গাড়তে পারলে বাকি দেশগুলোর ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে পারবে। আর সে কারণেও তাদের চট্টগ্রাম বন্দরকে আগে ‘হাত করা’ দরকার।

এর পাশাপাশি মিয়ানমারের উপর থেকে চীনের কর্তৃত্ব হটিয়ে সেখানে নিজেরা গেড়ে বসে রেয়ার আর্থ মিনারেল কব্জা করতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের মত এমন একটি পোতাশ্রয় দরকার আমেরিকার, যেখান থেকে চীন, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনামসহ আশেপাশের গোটা ইন্দোপ্যাসিফিক জোনে খবরদারি করতে পারবে।

যতটুকু জানি, রাখাইন আর্মি পুরোপুরি আমেরিকার সাহায্যে চলে। তাদের অধীনে প্রায় দেড়শ’ মাইল লম্বা সামুদ্রিক অঞ্চল। সেখানে সহজেই আমেরিকা ঘাঁটি বানাতে পারে। তার পরও তাদের চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এরই আশেপাশে করিডোর-ঘাঁটি বানাতে হবে কেন ?

এখানে আরো প্রশ্ন উঠবে বা উঠছে- চট্টগ্রাম বন্দর কব্জা করে এই অঞ্চলে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে বাণিজ্যের সিংহভাগ দখল করতে চায় আমেরিকা। কিন্তু বন্দর তো লিজ দেওয়া হচ্ছে ডেনমার্ক, আরব আমীরাত, সুইজারল্যান্ড ও সৌদি আরবকে। তার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কি?

সেখানেই রয়ে গেছে শুভঙ্করের ফাঁকি। ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, আমীরাত, সৌদি আরবের এইসব কোম্পানির গোঁড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এইসকল কোম্পানি শুধু যে পোর্টবিজনেস করে তাই নয়, এরা সামরিক দিক থেকেও একটি জোটে আবদ্ধ। আজকে একটি কোম্পানির কিছু হোক, দেখা যাবে সবার আগে আমেরিকাই তার জন্য জবাব চাইছে।

শুধু তাই নয়, এই ইজারা দেয়া টার্মিনাল পরিচালনার বিরোধীতা আজ না হোক কালতো হবেই। আন্দোলন হবে নানামুখী। তখন টার্মিনালের নিরাপত্তার কথা বা অজুহাত তুলে বিদেশী সৈন্য যদি মোতায়েন করা হয় তখন কি বাংলাদেশ কোন প্রতিবাদ করতে পারবে ? বা সেই শক্তি-সাহস-হিম্মত কোনটি আছে?

মাত্র দুইটি টার্মিনাল নয় আরো যেসব টার্মিনাল রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সবই একে এক দিয়ে দেয়া হবে বিদেশীদের হাতে। বন্দর দিয়ে দেয়া মানেইতো বাংলাদেশ দিয়ে দেয়া। কারণ বন্দরের মাধ্যমেই বাণিজ্য-রাজস্ব আয় হয়।

অপরদিকে এ অঞ্চলে সামরিক কৌশলগত নজরদারি-খবরদারি সবই চলে। সুতরাং বন্দর দিয়ে দেয়া মানেতো বাংলাদেশকেই দিয়ে দেয়া। এটি একেবারেই সহজ সমীকরন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও জনগনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি আবারো সরাসরি বিদেশীদের অধীনে থাকবে নাকি স্বাধীন সত্বা বজায় রাখবে?

তবে তা করতে গেলে আরেকজন চট্টলবীর দরকার। একজন মহিউদ্দিন চৌধুরীর দরকার খুব বেশি। সেই সাথে দেশের আপামর দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

# নুরুল ইসলাম আনসারি, লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *