একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বিরোধীতাকারি-খুনী রাজাকার-আলবদর-আলসামশ এর দল ঘোষিত মুরুব্বিদল জামায়াতে ইসলামী নানাভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ পুরো মুক্তিযুদ্ধকেই নানাভাবে বিকৃত করেছে।

আর গত চব্বিশের আগষ্টে “জঙ্গী ইসলামী সামরিক ক্যু” এর পর থেকেতো তাদেরই পোয়াবারো। এখন তারাই সেজে গেছে মুক্তিযোদ্ধা, আর একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তারা দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে নানা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।
তা সংবাদমাধ্যম হোক আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোক সবজায়গাতেই তাদের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা অত্যন্ত সুকৌশলে সেই কাজগুলো করে যাচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের যত সংগঠন আছে সবই তারা দখল করে নিয়েছে ইতিমধ্যে।
আর এই দখলের মধ্য দিয়ে তারা আগেও যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদানকারি ভারতের বিরুদ্ধে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে নানাভাবেই ইনিয়ে বিনিয়ে নতুন নতুন গল্প ফাঁদছে।
নতুন নতুন গল্প হাজির করছে জাতির কাছে। সবই করছে তারা গোয়েবলসীয় কায়দায়। বার বার একই কথা এই স্বাধীনতাবিরোধী-মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একাত্তরে গণহত্যাকারি গোষ্ঠী নানা সভা-সমাবেশে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের কারণে নতুন প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের বিভ্রান্তি তৈরী হচ্ছে।
এটি বেশ সফলভাবে করার মিশন নিয়েছে এই জামায়াত-শিবির-আলবদর-রাজাকারের দলটি। এজন্য তারা তাদের দলের বাইরেও নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলেছে। যে ফ্রন্টগুলো বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের কাছে জামায়াতের দলীয় পরিচয়ের বাইরে হওয়ায় বিভ্রান্তি ছড়াতে সহায়তা করছে।
নানাভাবেই অবৈধ ইউনুসীয় সরকার ও জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীকে ক্যামোফ্লেজের মধ্যে রাখছে। এজন্য যখন যেভাবে ষড়যন্ত্র অর্থাৎ সেই ইউনুসীয় ভাষায় বলতে হয় “মেটিকুলাস ডিজাইন” এ চালানো হচ্ছে। তাতে দেশের মানুষ মরুক তাতে তাদের কি! এদের চাই টাকা আর ক্ষমতা।
এই যে “ইনকিলাব মঞ্চ” এটিও তার একটি নতুন ভার্সন মাত্র। এমন আরো অনেক সংগঠন তারা তৈরী করেছে যেগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সহায়তাকারি অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর ভারত বিরোধীতার নামে এরা অত্যন্ত সুকৌশলে এদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে।
বাংলাদেশে একধরনের প্রচারণা আছে যে, হিন্দু মানেই ভারতীয় সমর্থক ও ভারতের পক্ষে কাজ করছে। আর সেই সাথে আওয়ামীলীগ বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন লোককে পেলেই তাকে ফ্যাসিবাদের ট্যাগ লাগিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যত ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় তার সবই করা হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হয়েছে। খুন করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে স্বপরিবারে। কয়েকদিন আগেই রংপুরে এমন একজন মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে রংপুরের তারাগঞ্জে নিজ বাড়িতে অত্যন্ত পৈশাচিকভাবে খুন করা হলো।

সেটিকে কাজে লাগিয়ে গত ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রশাসন মানে সরকারি- আধাসরকারি- স্বায়ত্বশাসিতসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকেও অনেক হিন্দু চাকরিজীবীকে চাকরিচ্যুত, শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে ও হচ্ছে।
বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন ক্যাডার, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যাংকিং সেক্টরসহ হেন কোন সেক্টর নেই যেখানে এই নিপীড়নের শিকার হতে হয়নি বা হতে হচ্ছেনা হিন্দুদেরকে। এই প্রক্রিয়া এখনো চলছে। ফলে হিন্দুদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা-ভীতি কাজ করছে। নিজের জন্মভূমি ও চৌদ্দ পুরুষের ভিটে-মাটিকেও এখন তাদের কাছে বড় অচেনা আর শ্বাপদসংকুল মনে হচ্ছে।
চব্বিশের আগষ্টে “ জঙ্গী-সামরিক ক্যু” এর পরে সারাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সবার ওপর যেভাবে অত্যাচার-নিপীড়ন-খুনসহ নানামুখী অত্যাচার করেছিল এদেশের ইসলামী গোষ্ঠী তা সত্যিই কেউ দেখেনি এর আগে বাংলাদেশে।
এসব অত্যাচার-নিপীড়নের প্রতিবাদে সংসারত্যাগী সাধু চিন্ময় দাসের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদী জোট গড়ে উঠেছিল সারাদেশে তাকেও অত্যন্ত কৌশলে ও নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে জঙ্গী তোষণকারি ড. ইউনুসের অবৈধ ইন্টেরিম সরকার।

চিন্ময়কে চট্টগ্রামে তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরবর্তীতে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হলো। এখনো তাকে জেলেই কাটাতে হচ্ছে চরম অমানবিকভাবে।
কোনভাবেই জামিন মিলছেনা এই সাধু চিন্ময়ের। অথচ চট্টগ্রামে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে আইনজীবী আলিফ যখন আহত হন তখন চিন্ময় ছিলেন পুলিশের প্রিজন ভ্যানে আদালত চত্বরে। তিনি কি সিন্দাবাদের দৈত্যের মত সবার অলক্ষে প্রিজন ভ্যানের লোহার গারদের ফাঁক গলে এসে এই হত্যায় অংশ নিয়ে আবার সেই প্রিজন ভ্যানে ঢুকে গেছেন!?
মোদ্দা কথা তাঁকে কোনভাবেই কারাগারের বাইরে যেতে দেয়া হবেনা, জামিন দেয়া হবেনা। কারণ তাহলে আবার তাঁকে ঘিরে হিন্দুরা তাদের আন্দোলন সংগ্রামে নেমে পড়তে পারেন এই ভীতি কাজ করছে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য চরমপন্থী ইসলামী দল ও ইন্টেরিম ইউনুস সরকারের মধ্যে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের এতই ভয় এসব স্বাধীনতা- মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের!
আসলে ভয়টি হলো হিন্দুদের মেধার কাছে এসব কথিত জুলাই যোদ্ধারা হেরে যাবেন যুক্তি-তর্কের জায়গায়। তাই দৈহিকভাবে, চাকুরিচ্যুতি ও নানাভাবে দমন করার কৌশল নিয়েছে তারা।
এই যে ইনকিলাব মঞ্চের হাদী সেও কিন্তু জামায়াত ব্যাকড প্রোডাক্ট মাত্র। জামায়াত অত্যন্ত ধীরেসুস্থে তাকে দিয়ে আওয়ামীলীগ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের বিরুদ্ধে চরমভাবে বিষোদ্গার করার জন্য প্রেট্রোনাইজ করেছে।
কিন্তু যখন দেখলো যে এই হাদী ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে প্রার্থী হতে যাচ্ছে এবং প্রচারণাও শুরু করে দিয়েছে তখনই তারা ভীত হয়ে পড়ে। কারণ সেখানে জামায়াত তাদের একেবারে নিজেদের লোক ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর সেজন্যই অত্যন্ত কৌশলে হাদীকে সরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় প্রফেশনাল খুনীকে কাজে লাগিয়েছে। আর হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম দ্রুতগতিতে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে লক্ষ্য করে তীব্র আন্দোলন ও হামলার হুমকি দেয়।
এরমধ্যে সোমবার ইসলামের চরম খেতমদগার হাদীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি অনৈসলামিক দেশ সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছে ইন্টেরিম সরকার।
এই যে “ ইনকিলাব জিন্দাবাদ” শ্লোগান দেয় ইসলামী দলগুলো তারা তো এটি চুরি করেছে ব্রিটিশ আমলের বৃটিশবিরোধী বাম সংগঠন কমিউনিষ্ট পার্টির কাছ থেকে।
একসময় সেই সর্বভারতীয় কমিউনিষ্টরা “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” শ্লোগান দিতো সমাজ বদলের আশায়।
মূলত পাকিস্তানপন্থী বামদের আদিখ্যেতায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ছিনতাই করেছে গত ২০২৪ জুলাই-আগষ্টের ষড়যন্ত্রের ধান্ধাবাজরা। সর্বহারা বিপ্লবের ‘লাল’ রঙটিও এরা চুরি করেছে । বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে যে লাল রঙ ছিল গর্বিত উত্তরাধিকার, তা এখন চরম ঘৃণার ‘লালবদর’।
জামাত-হিযবুত তাহরীর এর ফাঁদে পা দিয়ে এই বাংলাদেশী বামেরা যে নিজেদের সবকিছু হারিয়েছে তা কি বুঝতে পেরেছে তারা ?
তাই গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টের “জঙ্গী-সামরিক ক্যু” এর পর থেকে এসব বামেরা একাত্তরে জামায়াতের “আলবদরের” মত “লালবদর” হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। এটি এখন একটি গালি হিসেবেই বহুল প্রচলিত শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশে।
এরমধ্যে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিএনপি সাংসদ মেজর আখতারুজ্জামান যোগ দিলেন জামায়াতে ইসলামীতে।
অথচ এই আখতারুজ্জানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীসহ তাদের এদেশীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী ও তার অংগসংগঠন সমূহের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন।
তিনি বিভিন্ন সময়েই নানা বিতর্কিত কথাবার্তার জন্য বিএনপি থেকে ৫ বার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানের বিপক্ষে কথাবার্তা বলতেন তাতে অনেকের কাছেই মনে হতো সত্যিকার অর্থেই তিনি ধর্মান্ধ –সাম্প্রদায়িকতার বিরোধী একজন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তিনি যে ভেতরে ভেতরে এতটা সাম্প্রদায়িক ও ইসলামী মৌলবাদী তা অনেকেই বুঝতে পারেননি।
প্রাবন্ধিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হক তার উষ্মা প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন এভাবে-“অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামায়াতে যোগ দেওয়ায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। আগেও উওরপাড়ার অধিকাংশই মৌলবাদের সমর্থক ছিল এখন আরও বেশি।
আখতারুজ্জামান আগাগোড়াই জামাতি ছিলেন। ২০২৪ এর পর বিএনপির উপর খাপ্পা হয়ে যা বলতেন তা ইউনূসবিরোধীতা মনে হতো। তাতেই অনেকে মনে করতেন তিনি লীগের পক্ষে! অবাক হওয়ার একটাই বিষয়- তিনি তফশিল ঘোষণার আগে জামায়াতে যোগ না দিয়ে পরে যোগ দিলেন কেন”?
এখনতো জামায়াত সদম্ভে ঘোষণা করতেই পারে জামায়াতই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছিল মুক্তিযুদ্ধ করে। কারন তাদের দলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান যোগ দিয়েছেন। তাকে দেখিয়েই জামায়াত হয়তো বলবে- দেখেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশ স্বাধীন করেছেন।
তারপর বেশ কয়েকবার বিএনপি’র এমপি ছিলেন। কিন্তু সেই বিএনপি’র ওপর তিনি তীব্র অসন্তুষ্ট হয়ে “আল্লাহর পথে অর্থাৎ জামায়াতের সাথে” যোগ দিয়েছেন। তাহলে জামায়াততো মুক্তিযোদ্ধাদের দল- এমন কথাই তারা বলা শুরু করবে শীঘ্রই- এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন দেশবাসী।
ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ওপর রোষ যাচ্ছেনা কোনভাবেই ইউনুসীয় ইন্টেরিম ও তার দোসরদের।
এরমধ্যে আমরা দেখলাম সাংবাদিক ও ইউটিউবার আনিস আলমগীরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রথমে তাকে রাতে ডিএমপি’র ডিবি পুলিশ নিয়ে গেলো তার সাথে কথা আছে বলে। তারপর যথারীতি তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

যখনই আনিস আলমগীরকে ডিবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তখনই বুঝতে বাকী ছিলনা যে, তার কপালে খারাপি আছে। জেলের ভাত খেতে হবে তাকে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছে একজনকে ডেকে এনে।
এটাই স্বাভাবিক এই জঙ্গী-জামাতী-সুদখোর অবৈধ ক্ষমতালোভী ইউনুসের পক্ষে।
অথচ এই আনিস আরমগীর গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে কথিত আন্দোলনের সময় সেই জঙ্গী আন্দোলনের সময় ঘোরতর সর্মথক ছিলেন। যেমন ছিলেন সাংবাদিক-ইউটিউবার মনজুরুল পান্না।
কিন্তু সেই পান্নাকেও জেলের ঘানি টানতে হয়েছে হঠাৎ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আয়োজনে ঢাকা রিপোরটারস ইউনিটিতে সমাবেশে যাওয়ায়। এরপর থেকে পান্না অবশ্য আর সেই কথিত জুলাই বিপ্লবিদের পক্ষে না বলে উল্টোটাই বলছেন।
আনিস আলমগীরও গত কয়েকমাস ধরে কথিত জুলাই বিপ্লবীদের প্রতি তার যে মোহ ছিল তা থেকে বোধ হেয় কিছুটা সরে এসেছিলেন। তার রৈখা ও বিভিন্ন টিভি টকশোতে ইউনুস সরকার ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে নানা সময়েই কথাবার্তা বলঅ শুরু করেছিলেন। আর যায় কোথায়? তাকেও জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বে “ ইসলামী বিপ্লব” এর ইউনুসীয় সরকার।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল বাবু, সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী ফারজানা রুপা, লেখক,-চলচিত্র নির্মাতা- একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবিরসহ আরো অনেকেই কারা প্রকোষ্টে চরমভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ইউনুস সরকারের রোষানলে পড়ে।
বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিকদের অধিকার সংরক্ষণে কাজ করেন এমন অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান বার বারই তাদের মুক্তির জন্য শান্তিতে নোভেল আদায়কারি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে দাবি জানিয়েছে।
কিন্তু এসবে কোন কান পাতছেন না মহামান্য ইন্টেরিম প্রধান বিশ্বপ্রতারক ইউনুস।
ওদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়ে “শহীদ জিয়া”র সৈনিকেরা। তাকে উত্তম মধ্যম না দিয়ে কর্তব্যরত ইউনুসীয় পুলিশ অবশ্য সাংবাদিক-জনতার রুদ্ররোষ থেকে রক্ষা করে “পরম নেকী কাজ” করেছেন। এমনটাই চলছে বাংলাদেশের সমাজে-রাষ্ট্রে।

হয়তো এই বিজয় দিবসে মানে ১৬ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিবে সদম্ভে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযোদ্ধারাই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এমনটি যদি হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। কারণ এই বাংলাদেশ হচ্ছে সব সম্ভবের দেশ।
# ইশরাত জাহানঃ লেখক, প্রাবন্ধিক ও নারী সংগঠক।
