মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা নানা তথ্য-ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, বঙ্গবন্ধু যাদুঘর, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরসহ বাঙ্গালীর আত্মপরিচয়ের যেসব ইতিহাস তার সবকিছুকেই চরমভাবে ভয় একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির।

ধানমন্ডির ৩২ কে বড় ভয় তাদের। সেইসাথে ভয় ৭ ই মার্চকে। ভয় ১৭ মার্চকে। ভয় ২৬ শে মার্চকে। ভয় ১৬ ই ডিসেম্বরকে। ভয় ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে।

ভয় ১৭ এপ্রিলকে। যেমন ভয় ১০ জানুয়ারিকে। তেমনি ভয় ১৫ আগষ্টকেও।

এমন আরো কিছু কিছু দিবসকে তাদের বড় ভয়। আতংকের। কি এক অজানা আতঙ্ক সেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তিকে যেনো তাড়া করে বেড়ায়।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ও দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও অবিচ্ছেদ্য দিবসগুলো নিয়ে আর আলোচনা নাইবা করলাম।

কারণ এগুলো সম্পর্কে সবাই জনেন।
কারা সেই অপশক্তি ? জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, রাজাকার- আলবদর-আলশামস-নেজামে ইসলামীসহ তাদের আরো কিছু দোসর।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে কেন এই অপশক্তির কাছে এসব বিশেষ বিশেষ দিনগুলো চরম আতংকের। এই অপশক্তির কাছে শুধু এসব দিনই আতংকের নয়। এরা ভয় পায় মুক্তিযুদ্ধের সেই রণহুঙ্কার জয় বাংলাকে। ভয় পায় জাতীয় সঙ্গীতকে।
শুধুমাত্র আমার সোনার বাংলা গাইতে গাইতে বাঙ্গালী যে দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আর জয় বাংলা শ্লোগান ধরে অকাতরে প্রাণ দিতে পারে হাসতে হাসতে সেই চরম শক্তিকে এই অপশক্তির বড্ড ভয়।
কারণ এরা জানে – এই বাঙ্গালী যদি একবার জোট বেঁধে লড়াইয়ে নেমে পড়ে গগনবিদারি জয় বাংলা শ্লোগান দেয় তাহলে তাদের আর রক্ষা নেই।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে খুনী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ ধ্বংসকারি, সদ্য ক্ষমতা থেকে যাওয়া নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তাদের দোসরদের পেয়ারে পাকিস্তানের কাছে এসব দিবস যেন মূর্তিমান আতংকের। স্বাভাবিকভাবেই তা তাদের কাছে আতংকের হবে।
কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবিদার রাজনৈতিক দল ও নেতা তাদেরতো ভয় পাওয়ার কোন সঙ্গত কারণ দেখিনা। আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলো সেই চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর থেকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। শুধু যে নিষিদ্ধ তা নয়। তাদের নাম মুখে আনাও যেন চরম অন্যায়।
১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর থেকে বেশ কয়েকবছর এদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া যেতোনা। জয় বাংলা ছিল নিষিদ্ধ শ্লোগান। বঙ্গবন্ধু যেনো চরম শত্রু ছিল এ দেশের।
শুধু বঙ্গবন্ধুই নয়, আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এমনকি তাদের সমর্থকরাও ছিল নিজদেশে চরমভাবে অচ্ছুৎ। যেনো এরা চরম শত্রু। অনেকদিন-অনেকবছর লেগেছিল সেই চরম সংকটময় অবস্থার মধ্য থেকে একটু একটু করে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে।
কিন্তু সেই পঁচাত্তর উত্তরকালীন সময়ের চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখা দেয় গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের পরের বাংলাদেশে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশন নামের সিলেকশনের পরে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার পরিচালনার ক্ষমতা পাওয়াতে দেশবাসী মনে করেছিল একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা ফিরে আসবে দেশে।

যেহেতু বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তা সেক্টর কমান্ডার হিসেবে এই যে তার অবস্থান সেটি বাইচান্স হলেও তারও একটি বড় গুরুত্ব ছিল দেশ-জাতির সেই চরম সংকটময় সময়ে।
এমনকি তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মেজর র্যাং কের অফিসার হয়েও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেছিলেন ১৯৭১ এর ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে।
যদিও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার সেই ঘোষণাপত্র পাঠটি অনেকটা অনিচ্ছাসত্ত্বে ছিল বলে মন্তব্য করেন অনেকে। তারপরও তার সেই ঘোষণা পাঠটিও কিন্তু সে সময় দেশের মুক্তিকামী মানুষ ও সামরিক সদস্যদের মধ্যে একটি বড় প্রভাব রেখেছিল-এটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই ঐতিহাসিকভাবেই ।
তবে ঢাকায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর সেই মন্ত্রমুগ্ধ করা ভাষণটি ছিল মূল দিকনির্দেশনা। তাঁর সেই বজ্রকন্ঠে ঘোষিত .. “এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম.. জয় বাংলা” যে বাঙ্গালীকে সেই হানাদার পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধে, স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল সেটিকে অস্বীকার করা হবে নিজের আত্মপরিচয়কেই অস্বীকার করা।
স্বয়ং জিয়াউর রহমান এর লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রবন্ধ দৈনিক বাংলা পত্রিকার ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এরপর ২৬ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বিচিত্রা’-য় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তদানীন্তন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এর সেই লেখাটি পুনঃ প্রকাশিত হয়।
এ লেখাটিতেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতাযুদ্ধে কার কি অবদান বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর অবস্থানটি অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তা বললেও তার দলের উত্তরসুরী প্রধান দুই কান্ডারি তার তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের পুত্র এখনকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানাভাবেই বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার ও খাটো করার অপপ্রয়াস করেছেন বার বার।
কিন্তু এই অপপ্রয়াস যে কখনোই কারো অবদানকে খাটো করতে পারেনা বা বাড়াতে পারেনা সে বিষয়টি হয়তো এসব নেতৃত্বের মস্তিষ্কে কাজ করেনি বা এখনো করছেনা।
অথবা করলেও তারা ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ যে গোয়েবলসীয় কায়দায় একটি মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপপ্রয়াস করে গেছেন। এখনো করছেন। আমরা দেখেছি ১৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে জন্মদিন পালন করেছেন।
অথচ ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে সেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি সপরিবারে হত্যা করেছিল। যেটি বাঙ্গালী জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনার। অত্যন্ত কষ্টের ও শোকের।
কিন্তু এ দিনটিকে হেয় করতে বেগম জিয়া তার জন্মদিন পালন করেছেন। যদিও এ দিনটি যে তার জন্মদিন নয় তা নানা তথ্য উপাত্তই প্রমাণ করে।
ন্যুনতম সভ্য-ভব্য হলে কেউ এভাবে জাতির জনকের মৃত্যুদিবসটিতে তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালন করতেন না।
অবশ্য বেগম জিয়ার স্বামী তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও পরে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট লে: জেনারেল জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের বিচার যাতে করা না যায় সেজন্য ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশকে সংসদে আইন পাশ করে বৈধতা দিয়েছিলেন।

সেই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য (!!) পুত্র তারেক রহমান কিন্তু আরো অনেক নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নানাভাবে খাটো করার অপপ্রয়াস করেছেন বিভিন্ন সময়ে। তার এই যে অপপ্রয়াস তা কোনভাবেই যে রাজনৈতিক দূরদর্শীতার পরিচায়ক নয় সেটি তাকে কে বোঝাবে?
এরই মধ্যে আমরা দেখলাম বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭মার্চ এর ভাষণকে ম্লান করতে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দী দিবস (৭ই মার্চ) পালন অনুষ্ঠান ।
২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ২০২৪ সালে তার গ্রেপ্তারের ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ৭ মার্চ তার ২০তম কারাবন্দী দিবস হিসেবে পালন করেছে বিএনপি।
১/১১ এর সেনা-সমর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৭ মার্চ, ২০০৭-এ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিএনপি এই দিনটিকে তারেক রহমানের ওপর ‘নির্যাতন ও গণতন্ত্র অবরুদ্ধ’ বা ‘কারাবন্দী’ দিবস হিসেবে স্মরণ করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তিনি কারাবন্দী অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের কাছে একপ্রকার মুচলেকা দিয়েই চিকিৎসার নামে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান।
দীর্ঘ ১৭ বছর সেখানে কাটিয়ে নানা দেন দরবার ও নানা সমঝোতার মধ্য দিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
তারেক রহমানের কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ই মার্চ বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে। তা পালন করুক। অসুবিধে নেই। কিন্তু যে ৭ ই মার্চ এর ভাষণটি বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। ফলে ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সেই বিশ্ব স্বীকৃতি কিভাবে মুছবেন আমাদের এখনকার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তার দল? চাইলেই কি তা সম্ভব?
এই বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে বড় ডিসাইডিং ফ্যাক্টর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর ভর করেই কিন্তু বিএনপি বিপদ কাটিয়েছে। তখন তারা নানাভাবেই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রপাগান্ডায় মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করেছে।
কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়— ক্ষমতায় গিয়েই তারা তা ভুলে গেছে। অথচ ‘এক মাঘে শীত যায় না’ এ প্রবাদটি তারা হয়তো ভুলে গেছেন।
মূলত বাংলাদেশকে বাঁচাতেই এ দেশের ভোটাররা উগ্র সাম্প্রদায়িক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামী মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। কিন্তু প্রাপ্তিটা কী?
গত দেড় বছর বিএনপি তৃণমূল যাদের সাথে পূর্ণশক্তি নিয়ে লড়াই করলো, দেশবাসীও সমর্থন দিলো, সেই অশুভ শক্তির সাথেই তারেক রহমান শপথ নিয়ে ঢলাঢলি শুরু করলেন। তাদের বাসায় যাচ্ছেন, ইফতার করছেন, কানাকানি করছেন, মাথা পেতে দোয়া নিচ্ছেন—এমনটিও দেখে হজম করতে হচ্ছে এ দেশের বাঙ্গালিকে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চরমভাবে সাহায্য করেছিল।
এখনকার যে বিএনপি ৭ ই মার্চে বঙ্গবন্ধু ভাষণকে বাঙ্গালীর আত্মনিয়ন্ত্রণের ভাষণ, বাঙ্গালীর প্রতিরোধের ভাষণ, বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের ভাষণ, বাঙ্গালীর স্বাধীনতার ভাষণ হিসেবে মনে করে বাঁচাতে পারলো না, উল্টো আক্রমণ করলো, আক্রমণে সহযোগিতা করলো এর রেজাল্ট কার পক্ষে গেলো ?
সেই একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানের পক্ষে ও তাদের এদেশীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী ও চরম সাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষেইতো গেলো।
বিএনপির ওপর মানুষ কিছুটা হলেও ভরসা করতে শুরু করেছিল আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে। আওয়ামীলীগের বিকল্প হিসেবে। কিন্তু বিএনপির নিজস্ব আচার-আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তারা বদলায়নি। বদলাবেও না। তারেক জিয়া ১৭ বছর লন্ডনে থাকলেও তিনি তার পিতা-মাতার সেই সুবিধেবাদী চরিত্রকে ঠিক আঁকড়ে ধরেছেন। আধুনিক হতে পারেননি।
এদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-নীতি-নৈতিকতা বাঁচাতে তারা আবার বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগকেই খুঁজবে।
ইউনুসের অপশাসন থেকে বাঁচতে এদেশের আওয়ামীপন্থী জনগণ ও হিন্দুরা যে চোখ বুজে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে তাদের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা কোন জায়গায় ? তা কি ভেবেছেন তারেক জিয়া ও বিএনপির নেতারা?
যে-নারীরা উগ্র মৌলবাদ থেকে বাঁচতে বিএনপি’র উপর ভরসা করলো, সেই নারীরা মৌলবাদীদের সাথে তারেক রহমানের ঢলাঢলি দেখে কী ভাবছে?
এখনকার বিএনপি সরকারে অবস্থান দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পথেঘাটে অনেকেই সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন।
তারা বলতে শুরু করেছেন এভাবে- “মামলা করে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করলো, ৭ ই মার্চের ভাষণ বাজানো কেবল অপরাধ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড! আদালতে দেওয়া চালানপত্রে পুলিশ লিখেছে— “তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু প্রতিনিধি এবি জুবায়ের, এবং মোহাম্মদ মোসাদ্দেক এর নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী ধৃত ২ ও ৩ নং আসামীকে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর কারণে আটক করিয়া পুলিশ হেফাজতে প্রদান করেন।”
কল্পনা করুন বিষয়টা। ক্ষমতায় বিএনপি, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র যেটির নেতৃত্বে ছিলেন একজন নারী শিক্ষার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। যেই ইমি পুরো ছাত্রজীবনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে রাজপথে শ্লোগান দিয়েছেন, সংগ্রাম করেছেন !

কিন্তু সেই তাদেরকেই কেবল মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ ৭ ই মার্চের ভাষণ বাজানোর কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো ! পুলিশে দেয়া হলো রাজাকারদের দোসরদের দিয়ে! কী বলবো ? ক্ষমতায় কে? বিএনপি নাকি রাজাকাররা ?
অনেকে মন্তব্য করছেন এভাবে- ‘জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে, কিন্তু বিএনপি মনে হচ্ছে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে-বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের উপর ভর করে বিপদ পার করলো, সে-বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ বাজানোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে মামলা দিলো !মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের সন্তান প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এটা ঘটলো।’
সেজন্যই অনেকে বলেন- ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না। অনেকেই বলছেন, বিএনপি সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। কিন্তু আমি বলি- এটাই বিএনপির আসল পরিচয়। ইসলামী সাম্প্রদায়িক-জঙ্গী দলগুলোই বিএনপি’র আসল মিত্র।

বিএনপি অনেক আগেই সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তির পেটের মধ্যে ঢুকে আছে। সুতরাং এদেশের জনগণ যতই বিএনপিকে টেনে ডাঙ্গায় তুলতে চায় বিএনপি ততই ইসলামী জঙ্গীদের পেটের মধ্যে ঢুকে যেতে চায়। আত্মবিনাশী-আত্মধ্বংসী একটি দল বিএনপি।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
