জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একসময়ের চরম রাজনৈতিক মিত্র ও ক্ষমতার অংশীদার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এখন বিরোধ বেশ তুঙ্গে।
বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জামায়াতকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি ও নরঘাতকের দল ও ধর্ম ব্যবসায়ী হিসেবে গালিগালাজ শুরু করে দিয়েছে।
তবে একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতও কম যায়না বিএনপিকে কাবু করার ক্ষেত্রে। তারাও বিএনপিকে চাঁদাবাজ-দখলদার ও দুর্নীতিবাজের দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে নানা গালি দিচ্ছে।
অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারি প্রতারক-জঙ্গী ইউনুসের ইন্টেরিম সরকার ঘোষিত আগামী ফেব্রুয়ারিতে যদি সত্যিই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে এই দুটি দলের মধ্যে বিরোধ কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে বিষয় হচ্ছে আদৌ কি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে? এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের মনে।
কারণ সুদখোর ও বাংলাদেশ ধ্বংসের মেটিকুলাস ডিজাইনার মুহাম্মদ ইউনুস কখন যে কোন নতুন ডিজাইন মানে ষড়যন্ত্র হাজির করেন তা সত্যিই বোঝা দায় হয়ে পড়েছে। কারণ তার নিত্য নতুন ষড়যন্ত্র দেশবাসী গত ২০২৪ এর ৮ আগষ্ট থেকে দেখে আসছে প্রত্যক্ষভাবে।
যদিও বাংলাদেশবিরোধী ও মার্কিন ক্রীড়ানক হিসেবে তার এই ষড়যন্ত্র অনেক আগে থেকেই নানাভাবে চলে আসছিল, যা দেশবাসী বুঝতে দেরি করেছে।
তবে যার বোঝা দরকার, আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই চিনেছিলেন এই ষড়যন্ত্র পটিয়সী মুহাম্মদ ইউনুসকে। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় তাঁকে তো বটেই দেশবাসীকেও চরম খেসারত দিতে হচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক সচেতন মহলের অভিমত, একাত্তরের ঘৃণিত রাজাকার-আলবদর-আলশামস, খুনী ও নারী ধর্ষণকারি, হিন্দুদের গণহারে খুনী নির্যাতনকারি দল জামায়াতের বিরুদ্ধে বিএনপি যদি সত্যিকার অর্থেই রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়ায় তাহলে তারা বেশ ভালো জনসমর্থন পাবে।
কিন্তু তা যদি শুধুমাত্র নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত বিরোধিতা হয় তাহলে কিন্তু জনগণ সে চালাকি ধরে ফেলতে দেরি করবেনা।
অবৈধ ইউনুস সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সক্রিয় উপস্থিতি না থাকার সুযোগে বিএনপি হয়তো নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি কৌশল নিয়েছে- এমনটিও বলছেন কেউ কেউ।
অতিসম্প্রতি আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাকিস্তান ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী পতাকাযুক্ত স্টিকার লাগিয়েছে। এটি একটি শুভলক্ষণ যে বিএনপি’র ছাত্রসংগঠনের মধ্যে এই বিজয়ের মাসে কিছুটা দেশপ্রেমের চেতনা জাগছে।

বিজয়ের মাসে পাকিস্তান ও রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ফটকের সামনের মেঝেতে ও তিনটি হলের ফটকের মেঝেতে পাকিস্তানের পতাকাযুক্ত স্টিকার লাগিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
স্টিকারগুলোতে ‘নো কম্প্রোমাইজ উইথ রাজাকার’ (রাজাকারের সাথে আপস নয়) এবং ‘রাজাকারের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’—এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নিউজ অনুযায়ী- গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে শিক্ষার্থীরা ডাকসু ভবনের গেট ছাড়াও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং বিজয় একাত্তর হলের প্রবেশপথে এসব স্টিকার লাগানো হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রধান ফটকে স্টিকার লাগানোর নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের হল ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কারিব চৌধুরী।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) তিনি বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এটি পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের প্রতি আমাদের তীব্র ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমান গত ৭ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বিএনপির এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বলেছেন- “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী কী কী করেছিল, তা মনে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন না এদের (জামায়াত)। তাদের তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। তারা লাখ লাখ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল, এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে।”
ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।
তবে কোনো নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন জিনিসের কনফারমেশন (নিশ্চয়তা) দিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘দোজখ, বেহেশত, দুনিয়া—সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই বলতে পারেন, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই, আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে সেটি হচ্ছে শিরক। সেটি শিরকের পর্যায়ে পড়ে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনেছি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে (রাষ্ট্র ক্ষমতায়) অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন।
যাদের কথা বলে—অমুককে দেখুন, তাদের তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। একাত্তরে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। এই যাদের কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন না এদের। তাদের দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে।’

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল, এই কথা আমাদের মনে রাখতে হবে।’
উল্লেখ্য, ২০০১-০৬ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী ও তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ। সে সময় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে গলায় গলায় ভাব ছিল।
এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর শনিবার সিলেটে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান বলেছেন, একদল চাঁদাবাজির কারণে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেক দল আবার তার চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। “একদল দখলদার বনতে গিয়ে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, আরেক দল বেপরোয়া দখলদার হয়ে উঠেছে।
একদল জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আরেক দল একই পথ ধরেছে, এমনকি নিজেদের মধ্যে মারামারিতে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে,” বলেছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে এই বক্তব্য দিয়েছেন।
উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতা করা ও যুদ্ধাপরাধ-গণহত্যা ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার দায়ে জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করে দেয় আওয়ামীলীগ।
কিন্তু সেই কুখ্যাত দলটিকেই আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জামায়াতের সমর্থন নিয়েই সরকার গঠন করেছিলো বিএনপি।

পরে ১৯৯৬ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জোটবদ্ধ হয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের পর জামায়াতকে সাথেই নিয়েই সরকার গঠন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। জামায়াতের দুজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী নেতা (মতিউর রহমান নিজামি ও আলী আহসান মুজাহিদ) প্রথমবারের মতো সরকারেও ঠাঁই পেয়েছিলো মন্ত্রী হিসেবে।
তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এক পর্যায়ে দূরত্ব তৈরি হয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যকার জোটও ভেঙ্গে যায়। এরপর ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দলের মতবিরোধ আরও বাড়তে থাকে।
বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করায় তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিলো জামায়াত।
এর মধ্যে জামায়াতসহ কয়েকটি দল পিআর পদ্ধতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তুললে তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলো বিএনপি। আবার নির্বাচন নাকি সংস্কার-কোনটি আগে কয়েক মাস আগে এমন বিতর্কেও দল দুটি একে অপরের অবস্থানের বিপরীতে ছিলো।
এরপর থেকেই মূলত জামায়াত নেতারা কখনো সরাসরি আবার কখনো ইঙ্গিতে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির বিরুদ্ধে। এর জবাবে বিএনপি নেতারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধিতার তথ্য দিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন জামায়াতের।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১১ই নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে এক বক্তৃতায় বলেন, “জামায়াতের টিকিট কাটলেই কি কেউ বেহেশতে যেতে পারবে? যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের কাছ থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে”।
এরপর ২০শে নভেম্বর খুলনায় এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। তারা বর্তমানে মাহফিলে বাধা দেয়, মা–বোনদের তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়। এটি করে তারা জামায়াতকে নয়, মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এরপর বিএনপি নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছেন। দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত বুধবার ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “জামায়াতের জন্য আওয়ামী লীগই ভালো ছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিরুদ্ধে ছিল, তারা এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে”।
এরপর শিবির নেতা ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ঠাকুরগাঁওয়ে দেওয়া এক বক্তব্যেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতাদের অনেকেই। সেখানে সাদেক কায়েম তার বক্তব্যে বলেছিলেন, “লন্ডন, দিল্লি, পিন্ডিতে বসে আর কোনো রাজনীতি চলবে না। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি—দেশেই হবে সিদ্ধান্ত”।
এদিকে বিএনপি-জামায়াত উভয় দলের সমালোচনা করে “কিংস পার্টি” এনসিপি’র কোন কোন নেতা অবশ্য তাদের ‘গজায়মান রাজনীতি’ চাঙ্গা করতে চাইছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, দেশের রাজনীতিতে নতুনভাবে ‘চেতনার ব্যবসায়ীরা’ আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি এও বলেন- জামায়াতের মিষ্টি কথার আড়ালে কী আছে, আল্লাহ জানে।
গত মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর পরীবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় যুব শক্তির জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৫–এ তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে একটি ‘চেতনার ব্যবসা’ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসা করেছিল। এখন নতুন চেতনার ব্যবসাদার (বিএনপির নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিতে বুঝিয়েছে) হাজির হয়েছে আমাদের সামনে। আমরা তাদের উদ্দেশ্য বলব, বাংলাদেশে চেতনা দিয়ে পলিটিকস হয় না।’
জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘আরেকটা নতুন দলের এখন পাখনা গজাইছে—জামায়াত ইসলামী। গণ–অভ্যুত্থানের এখন নতুন চেতনার কথা বলে তারা নতুন ধর্ম ব্যবসা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
তিনি জামায়াতকে ‘ভণ্ডামি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি রাজনীতি করতে চান, সোজা পথে আসুন। তাদের মিষ্টি মিষ্টি কথার আড়ালে কী আছে, সেটা তো আল্লাহ জানে।… পাকিস্তানেও এ ধরনের জামায়াতে ইসলামীর একটি পাখা গজায়ছিল। একটি আসনও তারা পায়নি।’
নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, ‘এ গণ–অভ্যুত্থানের পর জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি গণ–অভ্যুত্থানের নেতাদের (নির্বাচন) আসনের লোভ দেখিয়ে কিনতে চেয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, নব্বইয়ের ছাত্রনেতারা বিক্রি হয়েছে, চব্বিশের কোনো ছাত্রনেতা ইনশাআল্লাহ, বিক্রি হবে না, হবে না, হবে না, হবে না।… আমরা কোনো শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করার জন্য পলিটিকসে নামি নাই। আমরা কোনো চেতনা ব্যবসা করতে চাই না।’
কিন্তু এই এনসিপি ও এর নেতারা যে কি জিনিস তা ইতিমধ্যেই দেশবাসীর আর বুঝতে বাকী নেই। মূলত এরা জামাত-হেফাজত-হিযবুত তাহরীর এর বাই প্রোডাক্ট । নিন্দুকদের অনেকে অবশ্য এদেরকে পিতৃপরিচয়হীন সন্তান বলে আখ্যা দেন।
তবে একাত্তরের ঘৃণিত-পরাজিত অপশক্তি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ৮টি ইসলামী দলের সমন্বয়ে একটি “ ইসলামী জোট “ হয়েছে। এই দলগুলোর মধ্যে লিয়াজোঁ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদকে সমন্বয়ক করা হয়েছে।
এই জোটে যেসব অন্ধকারের অপশক্তি রয়েছে সেগুলো হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে এরই মধ্যে দেশের আট বিভাগে সমাবেশ করেছে ইসলামী দলগুলো। জামায়াত এই ৮ দল নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে উঠেছে।
এরই মধ্যে এক কথিত ব্যারিষ্টার যিনি টাকলা ফুয়াদ নামে অধিক পরিচিত সেই নব্য রাজাকার বলেছিলো— ক্যান্টনমেন্ট গুঁড়াইয়া দিবো, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উড়াইয়া দিবো, জাতীয় সঙ্গীত বদলাইয়া দিবো, পতাকা পাল্টাইয়া দিবো। কিন্তু সেই রাজাকার এরই মধ্যে বৃহত্তর বরিশালের বাবুগঞ্জে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনগণের হাতে দৌড়ানি খেয়েছে। চাইলে জনগণ তাকে মারতে পারতো, ট্রিট করতে পারতো একাত্তরের রাজাকারদের মতো, কিন্তু দয়া করে ছেড়ে দিয়েছে। গায়ে হাত না তুলে শুধু মুখে ভুয়া ভুয়া, রাজাকার রাজাকার বলে তাড়িয়ে দিয়েছে।
তো এখন সেই রাজাকার কান্নাকাটি করে বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন গল্প শুরু করেছে। বিএনপি নাকি হামলা চালিয়েছে! সে ভালো করেই জানে, বিএনপি হামলা চালালে তার প্রাণে বাঁচার কথা নয়। রাজাকার জামায়াতের ফাঁদে পড়ে দলটি মুক্তিযুদ্ধের কথা ভুলে গিয়েছিলো।
কিন্তু অতি সম্প্রতি তাদের মধ্যে আবার কিছু বুদ্ধি-শুদ্ধি দেখা দিচ্ছে বোধ হয়। মুক্তিযুদ্ধকে নতুন করে চিনতে শুরু করেছে। বিএনপি যদি আন্তরিকভাবেই রাজাকারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলে বাংলার মানুষ তাদেরকে স্বাগত জানাবে নিশ্চয়ই।
বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ ও অধিকার রাজাকারদের নেই। জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে। সাপের গলা আর বেশি লম্বা হতে দেয়া যাবে না। কী অদ্ভুত সময়, মেম্বারি ইলেকশন জিততে পারবে না লোকেরা ক্যান্টনমেন্ট গুঁড়াইয়া দিতে চায়, বিজয় দিবস উড়াইয়া দিতে চায়!”
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
