রোহিঙ্গা! বাংলাদেশে এই রোহিঙ্গারা হচ্ছে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া। তো সেই বিষফোঁড়া নিয়েই বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ চরমপন্থী ইসলামী দলগুলোর কাজ কারবার।

যত সুযোগ সুবিধে আছে তার সবই পাচ্ছে এই রোহিঙ্গারা- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মেনে, শরণার্থী হিসেবে। অথচ কক্সবাজার জেলার অনেক বাংলাদেশী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে তাদের অনেক সহায়-সম্পত্তি হারিয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের অত্যাচারের কারণে পুরো কক্সবাজারে স্থানীয় বাংলাদেশীদের জন্য এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে অনেকদিন ধরে। এই রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে অনেক আগে থেকেই। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা থেকে শুরু করে খুন খারাবি, ডাকাতি, চুরিসহ হেন কোন অপরাধ নেই যা এই রোহিঙ্গারা করছেনা।

কিন্তু এই রোহিঙ্গাদেরকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ মানবাধিকারের নামে। আর সে জন্য নানা বিদেশী ও দেশি বেসরকারি সাহায্য ও মানবাধিকার সংস্থা তাদের রমরমা বাণিজ্য খুলে বসেছে সেখানে।

রোহিঙ্গাদের দেখিয়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করছে এসব মানবাধিকার ও সাহায্য সংস্থাগুলো। জামায়াতসহ অন্য ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠীর অস্ত্র-গোলাবারুদ ও সন্ত্রাসী উৎপাদন ও সশস্ত্র জঙ্গী সরবরাহের অন্যতম ঘাঁটি এই রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারে ছড়িয়ে ছটিয়ে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এখন আদি বাংলাদেশীর চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ এরা একেকজনে দুই তিনটি করে বিয়ে করে।

আর সেসব ঘরে একেক বউ ৭/৮ জন করে ছেলেমেয়ে জন্ম দিয়ে নিজেদের জনসংখ্যা বাড়াতে ওস্তাদ এই রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী। ফলে স্থানীয় বাঙ্গালীরা এখন অনেকটা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গাদের তুলনায়।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের জনস্রোতে মিশে আছে অনেক বছর ধরে। আর সে সুযোগটি করে দিয়েছে তৎকালীন সামরিক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার পরে তার আরেক উত্তরসুরী এরশাদ। আর প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াতের লোকজন। তারা বেশ কৌশলেই এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে।

জামায়াত অত্যন্ত কৌশলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদেরকে নানা সন্ত্রাসী কাজে লাগিয়েছে। এখনও তাই করছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে জামায়াতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে যা তারা ব্যবহার করে তাদের সুবিধাজনক সময়ে।

বাংলাদেশের জনস্রোতে মিশে যাওয়া অবৈধ রোহিঙ্গাদের আলাদা করার কোন উদ্যোগই এখন অবধি কাজে লাগেনি। কারণ এরা নানাভাবেই বাংলাদেশী নাগরিক পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলেছে। এজন্য বাংলাদেশের নানা জনপ্রতিনিধি মানে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় জনসাধারণ এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা একটি অসাধু গ্রুপ কাজ করছে ও করেছে।

নানা সময়ে কিছু আইডি ধরা পড়েছে, কিছু সরকারি লোকজনও শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু।

তবে এবার দুটি বিষয়ে আলোচনাটিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। একটি হলো বিদেশে মানে সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট।

অপরটি হলো- প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুসের অফিসের অধীন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একটি চিঠির সূত্র ধরে।

যেই চিঠির বিষয় ছিল- “নির্বাচনকালীন সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী কর্মকান্ডে রোহিঙ্গাদের বিরত রাখা প্রসঙ্গে।”

কেন জানি হঠাৎ করে সরকারের মনে হলো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারে ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারে।

প্রথমত: সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেয়া প্রসঙ্গে আসি।

আতংকের বিষয় ও অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলেঅ একটি অপরাধপ্রবণ জাতি হিসেবে পরিচিতি এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরুপ। কিন্তু সেই রোহিঙ্গাদেরকেই বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে নাগরিক হিসেরেব স্বীকৃতি দিয়ে পাসপোর্ট দিতে যাচ্ছে।

এমনিতেই কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট বনিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তারা সেখানে নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে বাংলাদেশের বদনাম কুড়োচ্ছে।

আবার এখন নতুন করে প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

তার মানে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক না হয়েও সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট। ১৯৭৭ সালের দিকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে তারা সৌদি আরবে প্রবেশ করেন।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সৌদি সরকারের চাপের মুখে অনেকটা বাধ্য হয়েই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে চুক্তি করে সরকার।

চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে পাসপোর্ট হস্তান্তর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে বারবার তাগাদা দিচ্ছে রিয়াদ।

এমন পরিস্থিতিতে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাসপোর্ট হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিদিন ৪০০টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও আবেদনকারীদের উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম।

অনেককে মেসেজ বা কল দিয়েও কনস্যুলেটে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ৬৯ হাজার পাসপোর্টের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সৌদির শ্রমবাজারে অবস্থানরত ২৫ লাখ শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর চাপে পড়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বাধ্য হয়েই দিতে হচ্ছে সরকারকে।

সৌদিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের প্রধান অতিরিক্ত সচিব ফয়সল আহমেদসহ এই উইংয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যুতে সরকারের অবস্থান ও অগ্রগতি সম্পর্কে সৌদি সরকার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে এবং দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও কিছু সময় চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ খালিদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ মানবিক বিবেচনায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে তার দেশে আশ্রয় দেন।

শুরু থেকেই তাদের বাংলাদেশে থাকা বাস্তুচ্যুত নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে সৌদি সরকার। ওই রোহিঙ্গারা পরবর্তী সময়ে নানা কৌশলে সৌদির বাংলাদেশ মিশন থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে গেছেন।

সেই পাসপোর্ট দিয়ে তারা বাংলাদেশও ভ্রমণ করেছেন। সৌদি সরকার বাংলাদেশকে এমন বহু তথ্যপ্রমাণও দিয়েছে। ওই রোহিঙ্গারা কীভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো তদন্ত হয়নি।

যেখানে সাধারণ বাংলাদেশী নাগরিকদের পাসপোর্ট পেতে কত ঘাটের পানি যে খেতে হয় তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু রোহিঙ্গারা অতি সহযেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে !

এবার দ্বিতীয় বিষয়ে যা হলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও প্রধান উপদেষ্টার অফিসের চিঠি।

মূলত: এই চিঠির মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করলো যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র দল উপস্থিত রয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র মজুদ আছে। এবং নির্বাচনকালীন সময়ে কক্সবাজার এবং দেশের অন্যান্য স্থানে স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নাশকতামূলক কর্মকান্ডে ব্যবহার করতে পারে।

এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারীদের বিভিন্ন সময়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এবং এটাও আশংকা করা হচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করতে পারে।

প্রশ্ন হলো- সরকার যদি জেনেই থাকে যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা সশস্ত্র দল আছে – অস্ত্র আছে, তাহলে তাদের দমনে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এতদিনেও কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি? নির্বাচন পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করতে হলো ?

আর স্বার্থান্বেষী মহল নিশ্চই হঠাৎ করে তাদের ব্যবহার করবেনা, যারা স্বার্থান্বেষী তাদের সূদুর পরিকল্পনা থাকাই কি স্বাভাবিক নয়?

আর যদি এটা জানা সম্ভব হয় যে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাহলে কেন চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছেনা যে এ সকল রোহিঙ্গা ভোটার কারা এবং কারা কিভাবে এদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলো?

এই রোহিঙ্গা ভোটাররা যে ক্যাম্পে থেকেই ভোট দিতে যাবে বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। যারা একটি দেশে ভোটার হতে পারে, বা যাদের ভোটার হতে সহায়তা করা হতে পারে। তাদের যে ভোট দিতেও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী সহায়তা করবেনা সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ আমেরিকার নাগরিক মি: রজার ওরফে জনাব খলিলুর এতদিন তাহলে কি করলেন? এই হলো জঙ্গী ইউনুস সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা। এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তার অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। কেন হুমকি সে বিষয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছে রইলো।

#রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *