দ্রুত ঘনিয়ে আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত! মাঠে-ঘাটে সবজায়গাতেই একটিই বিষয় আলোচনা- ইলেকশন কি হচ্ছে? আদৌ কি হবে? আর যদি ইলেকশনের নামে ‘সিলেকশন’ হয় তাহলে সেই ‘সিলেকশনে’ কাদেরকে জয়ী করা হবে?

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চরমপন্থী সামরিক-জঙ্গী-ইসলামী জোট না বিএনপি? কারণ যত ধরনের সিলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং রয়েছে তার সবকিছুই ইউনুস-সেনাবাহিনীর কিছু অংশ ও জামায়াতে ইসলামী করে রেখেছে।
কিছু প্রশ্ন ও সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে সবজায়গায়–আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশনের নামে সিলেকশনই কি স্থগিত হচ্ছে?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ এবং ইলেকশনের রোডম্যাপ নিয়ে বাড়ছে চরম অনিশ্চয়তা। নাকি ইলেকশনের নামে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের অজুহাতে তা স্থগিত হতে যাচ্ছে ?
রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নটিই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি বা অন্যান্য জোটগুলো কি এই বিলম্ব মেনে নেবে? নির্বাচন স্থগিত হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে চরম সাংবিধানিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
তবে যত সংকট তৈরী হবে ততই ইউনুস-ওয়াকার-জামায়াত গংয়ের নানা ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতা প্রলম্বিত হবে।
তবে কেউ কেউ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট হবে- এমন ধারণা পোষণ করে আছেন।
আমি গত ২১ জানুয়ারি লিখেছিলাম- “ইলেকশন নামে সিলেকশনের সর্বাত্মক ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশে, যত সন্ত্রাস হচ্ছে সবই মেটিকুলাস ডিজাইন অনুযায়ী।”
এখনও সেই কথাই বলছি দায়িত্ব নিয়ে। অনেকে বলবেন যে, কেন সারা দেশেইতো ইলেকশনের ক্যান্ডিডেটরা নানামুখী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।
বিশেষ করে দুইটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নানাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেতার। এনসিপির কথা কেউ কেউ তুলবেন।
কিন্তু ইতিমধ্যেই সবাই দেখতে পেরেছেন ও বুঝতে পেরেছেন যে, এই এনসিপি ও এনসিপি থেকে বের হয়ে যাওয়া নেতারা মূলত জামায়াতের বাই-প্রোডাক্ট টীম মাত্র।
আর জামায়াতের জোটে যেসব ইসলামী দল রয়েছে সেগুলোও জামায়াতের দয়া-দাক্ষিণ্যে বেঁচে রয়েছে। আওয়ামীলীগ অনুপস্থিত এই ইলেকশনে, অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম এই দলটিকে নিষিদ্ধ করে ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হচ্ছেনা।
এখন যে পরিস্থিতি বাংলাদেশের তাতে যদি আওয়ামীলীগ ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতে পারতো ও ও ইলেকশন অবাধ-গণতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষভাবে হতো তাহলে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হতো।
কারণ দেশের মানুষ গত দেড় বছর ধরে চরমভাবে নিষ্পেষিত-নিপীড়িত হচ্ছে। বাকস্বাধীনতা-সংবাদপত্রের মানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ধুলায় মিশে গেছে।
ফলে এই যে জঙ্গী-সামরিক ইউনুস গংয়ের অবৈধ-অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে যে নেতিবাচক মনমানসিকতা-ক্ষোভ তৈরী হয়েছে জনমানসে তার প্রতিফলন হতো আবার সেই আওয়ামীলীগের পক্ষে।
মোট ভোটারের অন্ততঃপক্ষে ৬০ ভাগ ভোট পড়তো আওয়ামীলীগের পক্ষে। এটি মূলত এই ইউনুস-জামাতীদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ ভোট আওয়ামীলীগের পক্ষে পজেটিভ ভোট হিসেবে বিজয় সুনিশ্চিত করতো।
ওদিকে বিএনপি একটি ভ্রান্ত ধারণা বা ক্যালকুলেশন নিয়ে বসে আছে যে, আওয়ামীলীগের যে ভোটব্যাংক রয়েছে তা এবার আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতে বিএনপির পক্ষে পড়বে। আর সেই ভোটের সঙ্গে বিএনপির নিজস্ব ভোট মিলে দ্বারা বিশাল জয় পাবে।
কিন্তু বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রমতে তাদের মাঠ জরীপ বলছে মোট ভোটারদের ২৫ শতাংশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। ইতিমধ্যে সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সামরিক -বেসামরিক বাহিনীর হুমকি ধামকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে কোন কারণে যদি ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশনের নামে সিলেকশন হয়েই যায় বাইচান্স তাহলে কিন্তু এই সনাতনীদের কপালে চরম পরিণতি নেমে আসবে।
এরই মধ্যে জামায়াত নানা ইলেকশন বা সিলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফেলেছে সেনা গোয়েন্দা ও ইউনুসীয় নীলনকশা অনুয়ায়ী। তারা ইতিমধ্যেই ঠিক করে নিয়েছে কোন কোন আসনে তারা কোন প্রতিক্রিয়ায় জিতে আসবে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বা এনএসআই এর একটি গোপন চিঠি পাওয়া গেছে। যদিও এর সত্যতা পুরো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটিকে ফেলে দেয়ারও কোন ভিত্তি নেই। কারণ এমন ষড়যন্ত্র করে থাকতেই পারে তারা।
কারণ এ ধরনের অশনি সংকেত অনেক আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। সেই চিঠিতে কি কি ষড়যন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে তা আর বিস্তারিত না লিখে তা শুধু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
তবে মূল বিষয়টি একটু বলি- “এতে ষ্পষ্ট করে বলা হয়েছে কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে জয়ী ঘোষণা করা হবে ।”
তবে এই গোয়েন্দা সংস্থার অফিস আদেশটি যদি সত্য নাও হয় তারপরও এমন ষড়যন্ত্রই হচ্ছে এ বিষয়টি নিশ্চিত। কারণ প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন আলামত দেখা গেছে।
যার বহিঃপ্রকাশ জামায়াত-এনসিপি- ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। একটিবার স্মরণ করুন তো ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেদিন বিশেষ উড়োযানে করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হলো তার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বক্তব্যটি।
তিনি তার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন-‘ আমীরে জামায়াত।’
পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই এই আমীরে জামায়াত সম্বোধনটি শুধুমাত্র জামায়াতের নেতারাই ব্যবহার করে থাকেন। সেনাপ্রধান এই সম্বোধন করে তার নিজের পরিচয়টি কিন্তু লুকোতে পারেননি।
যার ফলে গত দেড় বছর ধরে জামায়াতের বাই প্রোডাক্ট দল সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরবর্তীতে এনসিপি নামে যে ‘অপ-রাজনৈতিক’ দলটি তৈরী করা হয়েছে তাদের বেয়াদব নেতারা সেনাবাহিনীকে যেভাবে অপমান করেছে, যেভাবে সেনানিবাস মানে ক্যান্টনমেন্ট গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বার বার।
শুধু তাই নয় চরম বেয়াদব কালো পাঠা হিসেবে পরিচিত হাসনাত আবদুল্লার নামে এমন শ্লোগানও দেয়া হয়েছে- ওয়াকার না হাসনাত, হাসনাত হাসনাত ! একটিবার ভাবুন কি পরিমাণ অপমান সেনাবাহিনীকে করা হয়েছে !!
এরই মধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেটি কয়েকদিন আগের।
তাতে আমরা দেখেছি- যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা -১৭ আসনের প্রার্থী, স. ম. খালিদুজ্জামান সেনানিবাসে গানম্যান নিয়ে ঢুকে, সেনানিবাসের আইন অমান্য করে মিলিটারি পুলিশকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিষোদ্গার করে বলেছেন ” দেশটাকে বাংলাদেশ আর্মি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে”।
তিনি সুস্পষ্টভাবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় জানিয়েছেন যে তিনি “তারেক রহমানের বিপরীতে সংসদ সদ্য পদপ্রার্থী। ”
এরই মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র্যাব এর নাম-পোষাক বদলে ফেলা হয়েছে। কালো পোশাকের র্যাবকে আর দেখা যাবে না।
পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটকে ডাকাও হবে নতুন নামে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অব: লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
র্যাবের নাম বদলে হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাকের পাশাপাশি এই বাহিনীর কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে। ইতিমধ্যে পুলিশের পোষাকও বদলে ফেলা হয়েছে।

র্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে পুলিশ ও র্যাবের এই যে পোষাক বদলে ফেলা হয়েছে সেক্ষেত্রে এই দুই বাহিনীর সঠিক সদস্যদের চাইতে কয়েকহাজার পোষাক বেশি বানানো হয়েছে ও হচ্ছে।
আর এসব পোষাক ও ব্যাজ জামায়াত-শিবির-হিযবুত-হেফাজত- জঙ্গীদের দেয়া হয়েছে ও হবে। সেই সাথে অস্ত্র। কারণ অবৈধ অস্ত্রতো বেশ ঢুকেছে ইতিমধ্যেই তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে। এই যে অবৈধ প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হয়েছে তা চরম আশংকার বিষয় হচ্ছে এই জাতির জন্য।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৭৪টি। সেনাপ্রধান ওয়াকার বলেছেন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ জন করে সেনাসদস্য পাহারা দেবে।
তার মানে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পাহারা দেয়ার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৭০ জন। সত্যিকারভাবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সংখ্যা কত সেটি বড় জানতে ইচ্ছে করে।
আর যদি এই পরিমাণ থাকেও মানে সেনা-নৌ ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে তাহলে তাদের সবাইকেই কি এই ইলেকশনে ডিউটিতে নিয়োজিত করা হবে?
যদি কোন কারণে দেশে যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয় মোনে বিদেশী শত্রু যদি আক্রমণ করে তাহলে কি হবেগো !! কারণ সবতো ইলেকশন ডিউটিতে, দেশ রক্ষা করবে কে ?
আচ্ছা এসব নিরাপত্তার কথা না হয় বাদই দিলাম। কারণ আমাদের যে হাসনাত-সারজিস-টাকলা ফুয়াদ-ইনকিলাব মঞ্চের ‘শহীদ হাদী’ ভাইয়ের বীরপুঙ্গব লাখো লাখো শহীদী কাফেলার যোদ্ধারা রয়েছেন তারাইতো রয়েছেন দেশ রক্ষার জন্য।

তারা এক ঘোষণা দিলেইতো কোটি কোটি ইসলামজোশ-পছন্দ বান্দারা হাজির হয়ে যাবেন দেশ রক্ষায়। আর তাদের পেয়ারে আব্বাহুজুর পাকিস্তানতো রয়েছেই।
অন্তত এক হাজার মাইল দূর থেকে আসতে তাদের মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে। কারণ তারা এখন শব্দের নয় আলোর চেয়েও দ্রুতগতিসম্পন্ন ক্ষমতাবান।
যতদূর জানতে পেরেছি নানা মাধ্যম থেকে, তাহলো গত দেড় বছরে জামায়াত নানা ক্যারিকেচার মানে জালিয়াতির ইঞ্জিনিয়ারিং করে ঢাকাসহ সারাদেশেই কয়েক লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়েছে।
আর দেড় বছর আগেও তারা ঢাকা শহরের প্রতিটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের একনিষ্ঠ ভোটারদেরকে ( যারা জেনুইন ভোটার দেশের আইনগতভাবে) সেখান থেকে বদলী করে ঢাকায় স্থানান্তর করেছে।
প্রতিটি সংসদীয় আসনে তারা ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার ভোটার এভাবে স্থানান্তর করেছে অত্যন্ত কৌশলে। এর মাধ্যমে জামায়াত স্বাভাবিক ভোট হলেও কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকবে।
এর পাশাপাশি এবার যে বিপুল পরিমাণ পোষ্টাল ব্যালটের ভোট রয়েছে তাতেও নানা জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াত তাদের পক্ষে নেয়ার সব ব্যবস্থাই করে ফেলেছে।
জাল ব্যালট পেপার, জাল সীল বানানো সবই হয়ে গেছে তাদের। বিশাল ক্যাডার বাহিনী ইতিমধ্যেই নানা পেশার পরিচয়ে, নানা বাহিনীর পরিচয়ে মাঠে নেমে পড়েছে।
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে বিএনপি কি কিছুই বুঝতে পারছেনা? যতদূর জানা গেছে, বিএনপি ঠিকই বুঝতে পেরেছে। কিন্তু তাদের করার কিছু নেই।
বিএনপির নবীন চেয়ারম্যান তারেক জিয়ারও হাত-পা বাঁধা আইনগতভাবে। যার ফলে তিনি নিজেও গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে হলেও ইউনুস-জামায়াত গংয়ের চাপে পড়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট এর পক্ষে বাধ্য হচ্ছেন।

অথচ বিএনপির উপর থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত অধিকাংশ নেতাকর্মী ‘না’ ভোট এর পক্ষে। কিন্তু তারেকসাহেব ও বিএনপি বাধা রপড়েছে অন্য জায়গায়। কারণ তারেককে যে কোন সময় আইনগতভাবে আটকে দেয়া হতে পারে। তাকে যদি আটকে দেয়া হয় তাহরৈ বিএনপি’র রাজনীতির জন্য তা হবে চরম দুঃসময়।
তবে বিএনপি এখনো যে স্বপ্ন দেখছে তারা জিতে সরকার গঠন করবে। একসময়ের ‘ যুবরাজ ‘ মি: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর যদি বিএনপি কোন কারণে এই সিলেকশনের ফাঁকে হঠাৎ দৈব কারণে জিতেও যায় তাহলেও তাদেরকে ক্ষমতা দেয়া হবেনা।
কারণ ইতিমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করা হবে এবং সংসদ সদস্যগণ শপথের মারপ্যাঁচে আটকে থাকবেন। “হ্যাঁ” এর কারণে ইউনুস-জামায়াত-ওয়াকার সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেনা। ফলে জিতলেই যে বিএনপি ক্ষমতা পাবে তাও নয়।
আর এমনও হতে পারে যে, বিএনপি যদি স্পষ্ট বুঝতে পারে যে, তাদেরকে কোনভাবেই জিততে দেয়া হচ্ছেনা তখন তারা ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই “ইলেকশন বয়কট” করার মত কড়া সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
আর তা যদি হয় তাহলে ইলেকশন হওয়ার কোন চান্সইতো নেই। আওয়ামীলীগ নেই, বিএনপি বয়কট করলো।
তাহলে ইলেকশন কাকে নিয়ে হবে ? শুধু জামায়াত আর এনসিপি নিয়ে? তখন ঠুঁটো জগন্নাথ ইলেকশন কমিশনের পক্ষে ইলেকশন সাসপেন্ড করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।
আবার এমন পরিস্থিতিওতো দাঁড়াতে পারে যে, বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হলো যে ‘ইনক্লুসিভ ইলেকশন” ছাড়া মানে সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া তারা ইলেকশন মানবেন না।
মানে হলো দেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামীলীগ ছাড়া তারা ইলেকশন মানবেনা-তখন কি করবে ইউনুসীয় সরকার? এমনটাও যদি ঘটে তাহলেও বিচিত্র কিছু হবেনা। কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বাংলাদেশের জন্য।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
