ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি হবেনা তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।কিন্তু আওয়ামীলীগ ছাড়া বাকি দলগুলো ইতিমধ্যেই নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে।

বিএনপি’র সাথে ছোট ছোট কিছু দল যোগ দিয়ে নির্বাচনী জোট করেছে।অপরদিকে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিত এনসিপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে ফেলেছে। আসলে এনসিপিতো জামায়াতেরই ‘বাই প্রোডাক্ট ‘ রাজনৈতিক দল।

এদের কেউ কেউ বিশেষ করে নারী নেত্রীরা জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনকে বিরোধিতা করে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সবই হচ্ছে জামায়াতের নীলনকশা অনুযায়ী।

আর সেই সাথে রাজনৈতিক নেতাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার চূড়ান্ত আর কিছু দেখার বাকী আছে বলে মনে হয়না। বিশেষ করে যখন দেখি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতারুজ্জামান(অবসরপ্রাপ্ত)যখন বলেন, আমরাতো একাত্তরে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি নাই।এবং সেই সাথে তিনি যোগ দেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীতে।

আর সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক সেনাপ্রদান-সেনাশাসক ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের অন্যতম ঘনিষ্ট সহযোগী কর্নেল অলি আহমদ (অবসরপ্রাপ্ত) জামায়াতের জোটে যোগ দেন সহাস্যবদনে। স্বাভাবিক ভাবেই তখন প্রশ্ন জাগে আখতারুজ্জামান ও অলি আহমদ কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?

নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের যে শিডিউল ঘোষণা করেছেন তা নিয়ে সংশয় জাগে। কারণ বাংলাদেশ নামক দেশটি সৃষ্টির জন্য যে আওয়ামীলীগের এত ত্যাগ-তিতিক্ষা ও যার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এ দেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই দলটিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা কতটুকু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে? কারণ আওয়ামীলীগেরতো কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার রয়েছে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নাকি ড. ইউনুস ‘সবাই যাতে ঠিকভাবে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে যেতে চান’- এমনটাই বলছেন বার বার। পাশাপাশি এমন একটি নির্বাচন করে যেতে চান যা পৃথিবীর ইতিহাসে নাকি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

যে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটানোর জন্য ইউনুস মার্কিন ‘ডিপষ্টেট’ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী তার “মেটিকুলাস ডিজাইন” এর মধ্য দিয়ে নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছেন তাতে এই দেশটিকে ধ্বংসই করেছেন।

ইসলামী জঙ্গীবাদকে সামরিক সহায়তায় একটি রাষ্ট্রীয় রুপ দিতে চাইছেন ইউনুস।সেজন্য তিনি জামায়াতের ‘বাই প্রোডাক্ট’ সৃষ্টি করেছেন ‘এনসিপি’ নামে।যার পেট্রেনাইজার তিনি নিজে।

জামায়াতের নেতারা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে বলেই ফেলেছেন যে, এনসিপির নেতাদেরকে তারা অনেকদিন ধরে তৈরী করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে।এসব গজায়মান তরুণ নেতাদেরকে দিয়ে জামায়াত তাদের একটি খেলা দেখিয়েছে গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে।

আবার সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনী খেলাতেও নতুন খেলা খেলতে চাইছে।আর এর মধ্যে কিন্তু জামায়াতে ইসলামী তার ক্যাডারভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকটাই দখল করে নিয়েছে। তা কথিত ভোট হোক বা পেশীশক্তির মাধ্যমেই হোক।

আর এর সাথে যুক্ত হয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামানসহ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীতে থাকা জামায়াত-হিযবুত তাহরীর এর ইসলামী ফ্যানাটিক গোষ্ঠী।এরা নানাভাবে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

তাই জামায়াত সারাদেশে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচারনা চালালেও তারা কিন্তু নির্বাচন না হওয়ার জন্য যত ধরনের ষড়যন্ত্র আছে তার সবকিছুই করে যাচ্ছে।সেনাগোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যের সহযোগিতায় জামায়াত অত্যন্ত সুকৌশলে উঠতি ইসলামী জঙ্গীনেতা ইনকিলাব মঞ্চের হাদি’কে ফেলে দিলো। আর এটিকে ঘিরে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করলো।এমন আরো কিছু ‘হাদি’কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া যাতে বানচাল হয় সেটাই করতে যাচ্ছে তারা।

কারণ গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপরসন তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসায় জামায়াতের জন্য প্রচন্ড সমস্যার সৃষ্টি হয়ে গেছে। জামায়াত এখন প্রমাদ গুণছে তাদের ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে।

কারণ বিদেশী চাপে যদি সত্যি অর্থেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাহলে জামায়াত খুব বেশি হলে ২০ থেকে ৩০ টি আসন পাবে।কারণ আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের অনুপস্থিতির মধ্যে নির্বাচন হলেও সেই নির্বাচনে বিএনপি’র দিকেই বেশি ঝুঁকবে মানুষ। ফলে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়া দিবাস্বপ্ন হয়ে পড়বে।

জামায়াতের ক্যাডার ভিত্তিক জমায়েত দিয়ে হয়তো বড় সমাবেশ, রোড ব্লকসহ অন্যান্য নাশকতা করানো সম্ভব কিন্তু তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোটে জিতে সরকার গঠন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

এসব কিছু বুঝেই এরই মধ্যে জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা ইতিমধ্যে বলে ফেলেছেন, নির্বাচনে ডিজিটাল কারচুপি হওয়ার আশংকা করছেন তারা।অথচ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় তাদের লোক বসানো হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের ডিপষ্টেটের ভূমিকার কারণে যে ইউনুস শেখ হাসিনার পতনের জন্য তার মেটিকুলাস ডিজাইনের প্রয়োগ করেছিলেন তা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে আর কাজ করছেনা। ফলে বেকায়দায় পড়ে গেছেন সুদী ইউনুস।

তবে তিনি তুরষ্ক-পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম দেশের পরামর্শে দেশে একটি ইসলামী রেভুলিশনারি গোছের কিছু একটা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এজন্য দেশে ভারতবিরোধী একটি জিগির তোলানো হচ্ছে বার বার।

ভারতবিরোধীতার নামে দেশে ইসলামী জঙ্গীদেরকে পেট্রোনাইজ করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে অবিরাম।

তারেক রহমানও অনেক বছর ইংল্যান্ডে থাকার ফলে সেখানকার রাজনীতি-সমাজ সভ্যতা দেখে কিছুটা শোধরানোর চেষ্টা করেছেন নিশ্চয়ই।তাই দেশের মানুষের নজর কাড়তে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের ভোট কাটতে তিনি লন্ডনে বসেই জামায়াতের নাম না নিয়েই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন অত্যন্ত জোরালোভাবে।

তিনি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বলেছেন- “দেশের স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে বারবার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্র আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের বিষয় হলো মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় দিবস। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ধ্বংস করতে তখনও চক্রান্ত হয়েছে এখনো চক্রান্ত চলছে। হয়তো রূপ রং চেহারা বদলেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীকে তারাই গুলি করেছে, যারা দেশে গণতন্ত্র চায় না, যারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, যারা মনে করে নির্বাচন হলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত একটি শক্তি এখনও দেশকে পিছিয়ে দিতে নানা অপচেষ্টায় মেতেছে।”

এরপর তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর যে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ হয়েছে তা দেখে স্বাভাবিকভাবেই জামায়াতে ইসলামীর মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার দশা হয়েছে। তাই তারা ইসলামী দলগুলো ও ‘কিংস পার্টি” এনসিপিকে তাদের জোটভুক্ত করেছে।

আবার নানা কৌশলে এনসিপি থেকে কয়েকজন নেতাকে পদত্যাগও করিয়েছে।কিন্তু তাদেরকে নানাভাবে পেট্রোনাইজ করছে কিন্তু এই জামায়াতই।এরা জামায়াতের বিরোধীতা করে এনসিপি থেকে পদত্যাগ বা জামায়াত জোট থেকে নির্বাচনে অংশ না নিলে সাধারণ ভোটাররা হয়তো মনে করবেন, এরাতো বিপ্লবী এবং জামায়াতকে পছন্দ করছেনা, তাই এদেরকেই ভোট দেই। এই সাধারন ভোটারদের ভোট এনসিপি-জামায়াত বিরোধীদের বাক্সে পড়বে।

সেই সাথে জামায়াতের গোপন যেসব ভোটার রয়েছে তারাও কিন্তু ওই পদত্যাগী এনসিপি নেতাদেরকেই ভোট দেবে। ফলে তাদেরও জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই যে এবি পার্টি রয়েছে সেটিও কিন্তু জামায়াতের আরেকটি উইং বা গোপন শাখা।সেখানে যারা রয়েছে তাদের অতীত ঘাটলেই বের হয়ে পড়বে তারা একসময়ে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা ছিল।

এই এবি পার্টি মূলত জামায়াত আওয়ামীলীগ আমলে কৌশলে সৃষ্টি করেছিল। যদি সত্যিকার অর্থেই জামায়াতে ইসলামী কখনো বেকায়দায় পড়ে যায় বা তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেয় সরকার তাহলে যাতে এই এবি পার্টির মাধ্যমে তারা রাজনীতি করতে পারে।

এ কৌশল জামায়াতের নতুন নয়। ইতিপূর্বে বাংলাদেশে বিভিন্ন ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের যেসব ক্যাডার বা নেতা গ্রেপ্তার হয়েছিল তাদের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে ও তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দীতে দেখা গেছে যে তারা একসময়ে ইসলামী ছাত্র শিবির করতো।

কিন্তু তখন শিবির বা জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়ে বলতো যে, এসব কর্মী বা নেতাকে সংগঠন বিরোধী কাজ করার দায়ে অনেক আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে, সুতরাং তাদের দায় দায়িত্ব আর জামায়াত বা ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেই।কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঠিকই জামায়াত-শিবির তাদেরকে পেট্রোনাইজ ও তালিম দিয়ে যেতো।

তবে জামায়াতে ইসলামী যতই বিভিন্ন ইসলামী দল নিয়ে জোট করুক না কেন তাদের দৌড় খুব বেশি নয় নির্বাচনী দৌড়ের প্রতিযোগিতায়। যে যাই বলুক না কেন বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী রাজনীতিতে এখনো বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান। মানে নৌকা আর ধানের শীষ।বিশেষ করে পঁচাত্তর পরবর্তী যেসব জাতীয় নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলোতেই এই দুটি দলই প্রাধান্য পেয়েছে।

হ্যাঁ প্রশ্ন উঠতে পারে, এবারের নির্বাচনে তো আওয়ামীলীগ নেই,নৌকাও নেই। তাই বলে কি মানুষ ভোট দেবেনা? বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তির চেয়ে আবেগ অনেক বেশি কাজ করে-এটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

তাছাড়া বিকল্প কোন রাজনৈতিক দলও দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা কুড়োতে পারেনি।একসময়ে এদেশের মানুষ কমিউনিষ্ট পার্টিসহ বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ভরসা করার চিন্তা করতো।কিন্তু তাদের আন্দোলনের গতিধারা ও রাজনৈতিক কৌশলের দূরদর্শীতার অভাবে তাদেরকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয়।

গত চব্বিশের “জঙ্গী-সামরিক ক্যু” এর পর বাংলাদেশের মানুষ যেমন গালি দেয় ‘ জামাতি’ বলে তেমনি বাম দলগুলোকে গালি দেয় ‘ বামাতি’ বলে।

বাংলাদেশ এখন একটি মৃত অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ থেকে ৬২ শতাংশ বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যে চলে গেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে উগ্র জঙ্গীবাদী জামায়াতে ইসলামীর আবির্ভাব ঘটেছে।

ভারত এখনও বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কোন বক্তব্য দেয়নি। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী রাশিয়ার বক্তব্য স্পষ্ট নির্বাচন নিয়ে।তারা বার বারই বলছে-“ইনক্লুসিভ ইলেকশন”। অর্থাৎ সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন। সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন কোনভাবেই গ্রহণ করবে না ভারত ও রাশিয়া।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য মন্দের ভালো হলেও ভারতের উলফা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য চট্টগ্রামের সিইউএফএল (চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড) জেটিতে দশ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা নিশ্চয়ই ভারত ভুলে যায়নি।

ভারত নিশ্চয়ই তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে আবার নতুন করে কোন অশান্তি মেনে নেবেনা।সেই দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সেসময়কার শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামি, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-ডিজিএফআই এর বড় বড় অফিসার জড়িত ছিলেন।

সুতরাং তারেক রহমানকে একেবারে সেভাবে ভারত বিশ্বাস করবে বলে মনে হয়না, যদি তার সেই স্বভাবের পরিবর্তন না হয়। বরং নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ভারত। এরশাদ ও জিয়ার সাথে যেমন নাই মামা ও কানা মামা খেলেছে ঠিক তেমন করেই ঝুলে থাকবে তারেক ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

এরমধ্যে মার্কিন কয়েকজন কংগ্রেসম্যান ইন্টেরিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের কাছে চিঠি দিয়েছেন যাতে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন করা হয়। ভারত-রাশিয়াও একই কথা বলছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও আওয়ামীলীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন করাকে মেনে নিচ্ছেনা।ফলে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে গেলে আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়ার কোন বিকল্প নেই। আর আওয়ামীলীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই শেখ হাসিনাসহ অন্য নেতাদেরকে নিবিঘ্নে দেশে আসতে দিতে হবে। কোনটি করবে ইউনুস সরকার?

এমনিতেই অনেকটা ‘কর্নারড’ হয়ে আছে ইউনুসের ইন্টেরিম সরকার।তার ওপর যদি এভাবে অনেকটা একতরফাভাবে নির্বাচন করে ফেলে তাহলেতো আরো বেকায়দায় পড়তে পারে। কারণ ১৯৯৫ এর ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামীলীগকে ছাড়া একতরফা নির্বাচনে জিতেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন খালেদা জিয়া সরকার টিকতে পারেনি।

তো একই ধরনের ভুল কি আবার এই ২০২৬ এসে করবে ইন্টেরিম ইউনুস সরকার ও তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ? যদিও ইতিহাসের শিক্ষা ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না। আর যদি আওয়ামীলীগসহ সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে হয় তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি কোনভাবেই নির্বাচন তরা সম্ভব না।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *