ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যেভাবেই হোক বিএনপি এককভাবে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। কিন্তু এতে করে বিএনপি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে নিঃসন্দেহে।
ইলেকশনের নামে সিলেকশন হোক আর যাই হোক বিএনপি’র যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে সংসদে তাতে করে বিএনপি আইনগতভাবেই যে কোন আইন সংশোধন করতে পারার ক্ষমতা পেয়েছে।
সংবিধান থেকে নানা বিষয় ফেরে দিতে পারে, আবার সংযোজন করতে পারবে। কিন্তু আসলে কি তাই মনে হয়? বিএনপি’র সবধরনের ক্ষমতা থাকলেও তাদের হাত পা বাঁধা আছে জামায়াত-এনসিপিসহ ইসলামী দলগুলোর কাছে।
বিএনপিকে চাপে ফেলে সংবিধানের মূল চরিত্রই বদলাতে সক্রিয় জামায়াত জোট।
মনে হচ্ছে ঠিকই যে ক্ষমতায় বিএনপি। কিন্তু প্রশাসনসহ নানা জায়গায় সেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসররা বসে আছে। তারা অনেক কলকাঠি নাড়ছে।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারে রয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত কৌশলে বিএনপি সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে। যে চাপের কথা তারেক রহমান বা বিএনপির কোন নেতাই এখনো তা বুঝতে দিচ্ছেননা। কারণ এতে করে তাদের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাবে।
সরকার পরিচালনায় বিএনপি যে চরম ফাঁপড়ে পড়েছে এবং তাতে তারা গুমরে গুমরে কাঁদছে সে কান্না কিন্তু কেউ দেখতে পারছেন না।
কারণ বিএনপি’র একসময়ের পেয়ারের দোস্ত বা ‘একই মায়ের পেটের খালাতো ভাই’ জামায়াতে ইসলামী কিন্তু বিএনপির ভেতরকার সব খবরই জানে। ফলে জামায়াতে ইসলামী ভেতরে ভেতরে নানা ধরনের প্যাঁচ কষছে বিরোধী দলে থেকেও।
জামায়াত বিরোধী দলে আছে ঠিকই, কিন্তু তার আচার-আচরণ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কিন্তু সরকারি দলের মতই। কারণ জামায়াত জানে সে যদি এমন আচরণও করতে থাকে বিএনপি আপাতত তাকে কোন কড়া কিছু বলার সাহস পাবেনা।
কারণ সেই ২০০১ থেকে বা তারও আগে থেকে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির ভেতরের অনেক কিছুই জানে। তাই সেই গোমর ফাঁস হয়ে যাক তা নিশ্চয়ই বিএনপি বা তারেক রহমান চাইবেননা।

আর এই সুযোগে রাজনীতির মাঠে জামায়াতে ইসলামী নিজেরাতো বিএনপি’র সমালোচনা করছেই পাশাপাশি তাদের নতুন ফ্রন্ট এনসিপি’র কিশোর গ্যাংকে লাগিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকারের ওপর নানাবিধ চাপ দেয়ার জন্য। আর এনসিপি’র বেয়াদপ কিশোর গ্যাং এমপিরাতো সমানে ব্যাটিং করে যাচ্ছে।
রানরেটও বাড়ছে তাতে জামায়াত-এনসিপিসহ ইসলামী জঙ্গী জোটের। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিএনপি খুব ভালো ফিল্ডিং করতে পারছেনা, যদিও তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর ক্রিকেট ও গণতন্ত্রের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত ইংল্যান্ডে কাটিয়ে এসেও। কারণ তার ফিল্ডাররা খুব বেশি যুৎসই পারফর্মেন্স করতে পারবে বলে মনে হয়না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সবচেয়ে বড় দল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ত্রয়োদশ ইলেকশনের নামে যে সিলেকশনের খেলা হলো তাতে আর যাই হোক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ হবেনা।
যে যত কিছুই বলুক না কেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বাইরে তেমন কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেনি যারা সংসদীয় রীতিনীতি মেনে রাজনৈতিক চর্চা করবে।
জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে বিএনপির কাঁধে ভর করে সংসদে এমনকি সরকার পরিচালনার অংশীদারিত্বও পেয়েছিল।
কিন্তু যে রাজাকার-আলবদরের দলটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে তারা আর যাই হোক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা।
তাদের কাছে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি আশা করা যায়না। আর তারাতো বলেই বেড়ায় যে- তারা আল্লাহর আইন চায়, কোরআন তাদের সংবিধান। আলকোরআন যদি সংবিধানই হয়ে থাকে জামায়াতের তাহলে তারা সেই খ্রীষ্টানদের প্রবর্তিত পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ধাঁচের সংসদীয় রীতিনীতিই মানতে হচ্ছে বাংলাদেশের এখনকার সংবিধান অনুযায়ী।
বাংলাদেশে এখন যে আইন চলছে তাতো জামায়াতের সেই আরাধ্য আল্লাহর আইনে চলছেনা। পাশাপাশি কোরআনের শাষনও চালানো যাচ্ছেনা। তো জামায়াত ও তাদের জোটভুক্ত ইসলামী দলগুলো এই যে খ্রীষ্টানদের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে চলছে বা মানতে বাধ্য হচ্ছে তাতে কি তাদের গুনাহ হচ্ছেনা? এই গুণাহ্ করে কি তারা বেহেশতে যেতে পারবে ?
কিন্তু তাদের নেতারাতো ইলেকশনের আগে খুব করে বলে বেড়িয়েছিল যে জামায়াতকে ভোট দিলে তারা বেহেশতের টিকেট দেবেন বা যারা জামায়াতকে ভোট দেবে তারা বেহেশতে যাওয়ার টিকেট পাওয়ার অধিকারি হবেন।
এই ‘বেহেশতের টিকেট’ নিয়ে বিএনপির নবীন চেয়ারম্যান ও এখনকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কিন্তু বেশ সমালোচনামুখর ছিলেন।
বিএনপির অন্য নেতারাও তাদের ইলেকশন ক্যাম্পেইনে এটিকে কাজে লাগিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসররা তাদের জন্মলগ্ন থেকে সবসময়েই জনগণের সাথে প্রতারণা করে আসছে ধর্মের নামে।
তো এদেশের জনগণ তাদের এই ধর্মের নামে রাজনীতির ফাঁদে পড়েছে বার বার। গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টেও সেই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরেছে। তা বুঝতে পারলেও এ বাংলার জনগণের আর কিছু করার নাই।
কিন্তু বাংলাদেশতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে অর্জিত সমাজব্যবস্থাও কমবেশি অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের। তা কতটুকু মানছে রাষ্ট্রকাঠামো পরিচালনাকারি সংস্থাগুলো সে ব্যাপারে অনেক বিতর্ক রয়েছে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য সব দলকেই বলতে হচ্ছে তারা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি অনুযায়ী দেশ চালাতে চায়, সব ধর্মের নাগরিকদের শান্তিতে বসবাস করার অধিকার রয়েছে।
মূলত এগুলো হচ্ছে তাদের কথার কথা বা জনগণকে প্রলোভন দেখানো, যা আসলে প্রচন্ড প্রতারণার ফাঁদ। এই প্রতারণার জন্য ইসলামে কি বিধান রয়েছে তা নিশ্চয়ই এদেশের ইসলামপ্রিয় জনগণ যাচাই করবেন।
লেখাটি শুরু করেছিলাম বিএনপির ওপর জামায়াতী আছর নিয়ে। সেই আছর যে কি আছর তা একটু জামায়াত ও তাদের ঔরসজাত জারজ সন্তানদের রাজনৈতিক দল এনসিপির টোকাই নেতাদের হম্বিতম্বিতে বোঝা যায়।
তাই জামায়াত-এনসিপি জঙ্গী জোট বার বার সেই ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির ওপর চাপ দিচ্ছে। যাতে করে তারা এসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে মূল সংবিধান রয়েছে তাকে উৎপাটন করে তাদের খুশীমতো একটি ইসলামী সংবিধান তৈরী ও তা দিয়েই একটি ইসলামী বাংলাদেশ গড়তে পারে। যা হবে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বা ইরান মডেলে।

সেই কুখ্যাত সাদা শকুন মানে আমীরে জামায়াত শফিকুর রহমান গত ২৬ মার্চ
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে জামায়াত কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, ‘আপনি (বিএনপি) সংবিধানের এক অংশ মানবেন, আরেক অংশ মানেন না। ভারি মজা।
তিনি এমনও বলেন- একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দুইটা ভোট একই দিনে হয়েছে। আপনি গোশত মানেন, কিন্তু ঝোল খাইতে রাজি না। একই তরকারি, একই বাসনে পাকানো হয়েছে। গোশতটা খেয়ে নিলেন, বলতেছেন ঝোলটা হারাম।… জনগণকে এত বোকা মনে করার কারণ নাই। জনগণ সব বুঝে। হ্যাঁ, আপনারা মানবেন। তবে সহজে মানবেন না আমরা বুঝতেছি। এ রকম অতীতেও কিছু কিছু বিষয় সহজে মানেননি, কিন্তু পরে ঠিকই মেনেছেন।’
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনি সংবিধানের কথা বলতেছেন, ওই সংবিধানেই তো লেখা আছে, স্থানীয় সরকারের সকল স্থলে একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দায়িত্ব পালন করবেন। এদের কে নির্বাচন করল? এদের দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এগুলো মানি না।’
গণভোট নিয়ে বিএনপির উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘এখন একবার ওনারা বলেন যে, আমরা অক্ষরে অক্ষরে মানব। আবার বলেন, জনগণ না বুঝে রায় দিয়ে দিছে। আরে ভাই! জনগণ বুঝুক না বুঝুক, ভোটের অধিকারটা তার, আপনার না। …আজকেও যদি সেই পুরোনো কায়দায় চিন্তা করা হয় জনগণের ভোটকে অস্বীকার করার, অগ্রাহ্য করার, অপমান করার, তাহলে দেশবাসীকে অপমান করার খেসারত গোনার জন্য তৈরি থাকতে হবে। যেই দেশবাসী রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ হটানোর রাস্তা চিনে ফেলেছে, এই দেশবাসীকে আর দমানো যাবে না।’
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল উল্লেখ করে এই সাদা শকুন বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচার মানুষ খুন করেছে, মানুষের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, সম্পদ ধ্বংস করেছে, দেশকে পোড়ামাটির দেশে পরিণত করেছে। কিন্তু নির্যাতন চালিয়েও মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত দেশ স্বাধীন হয়েছে।
তবে এই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর সহযোগী কারা ছিল? কারা পাকিদেরকে এদেশের মুক্তিবাহিনীর ঠিকানা দেখিয়ে দিয়েছিল? কারা এদেশের মা-বোনদেরকে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল?
রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী কারা গঠন করেছিল এবং তাদের কি ভূমিকা ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে? এসব কিছু জিজ্ঞেস করলে কিন্তু জামায়াতের নেতারা অত্যন্ত সযতনে এড়িয়ে সটকে পড়েন।
আপনাদের নিশ্চয়ই খেয়াল আছে- এবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতের এই সাদা শকুন যখন শহীদ মিনারে গিয়েছিল তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে অত্যন্ত কৌশলে পালিয়েছিল অন্য কথা বলে।

এই হলো জামায়াতে ইসলামী। যার প্রতিটি পদে পদে পদে প্রতারণা ও মুনাফেকীর রঙ্গিন নাচে গানে ভরপুর। দুঃখজনক বলবো না এটিই আমাদের বাংলাদেশের কিছু মুসলিমদের জন্য স্বাভাবিক বলবো বুঝতে পারছিনা।
সেটি হলো জামায়াতের ওই আলোচনা সভায় জামায়াত নেতারা ছাড়াও দুইজন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছেন। শুধু বক্তব্য দেননি।
পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
এজন্যই বলি- সকল মুক্তিযোদ্ধা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না। কিন্তু রাজাকার-আলবদর-আলশামস সবসময়েই তাদের সেই সেই খুন-ধর্ষণ-ইসলাম নিয়ে মিথ্যা ও প্রতারণার বেসাতি অন্তরে ধারণসহ রাজনীতি করে সবসময়।
জামাতিরা শুধু নিজেরাই সমালোচনা করছে বিএনপি’র তা কিন্তু নয়। তাদের ঔরসজাত জারজ সন্তানদের রাজনৈতিক দল এনসিপি’র কিছু টোকাই গ্যাং লীডারদেরকেও মাঠে নামিয়ে দিয়েছে নানা ধরনের গালিগালাজ করার জন্য।
সেই টোকাই দলের নেতা এনসিপি’র আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন- সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করছে।
২৮ মার্চ শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় এনসিপির এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন এই টোকাই নেতা।
‘সম্প্রতি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে একজন ইউএনও বিতর্কের মধ্যে পড়লেন, তাঁকে বদলি করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমানকে বলা আছে। জিয়াউর রহমানকে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক বলতে পারেন না।
সংবিধানের ইচ্ছা কোথাও মানছেন, আবার কোথাও মানছেন না—এই দ্বিচারিতা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।’
দ্রুত গণভোটের রায় মেনে নিয়ে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ তৈরি করে সব সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ।
‘সরকারি দলে যারা আছেন, তারা গণরায় মানছেন না মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা (বিএনপি) সংবিধানকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে, তাদের পক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে আছে, তাদের বিপক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই দ্বিচারিতা ও সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করার রাজনীতি আমরা কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে দেখেছি। আমাদের সংগ্রাম সংসদ ও রাজপথ—সব জায়গায় থাকবে।
তার মানে জামায়াত-এনসিপিসহ তাদের ইসলামী জোট যারা বিরোধী দলে আছে তারা মোটামুটি বিএনপিকে যেখানে পারছে সেখানেই সাইজ করার সংকল্প নিয়েই সংসদে ও মাঠে থাকবে। আর বিএনপি’র ভেতরেও জামায়াতপ্রীতি অত্যন্ত প্রবল সেতো আর নতুন করে বলার কিছু নেই।
সবকিছু মিলিয়ে বলতে হয়, জামায়াত ক্ষমতায় নেই ঠিকই কিন্তু সরকারের অনেক কিছুই কলকাঠি নাড়ছে প্রকাশ্যে ও অন্তরালে। বিএনপি যদি তা বুঝতে পারে তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গল।
কারণ একটি স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গী জোটকে নিয়ে বিএনপি আর যাই হোক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা করতে পারবেনা।
# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার নেত্রী।
