বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘প্রো লিবারেশন ফোর্স ‘ ও ‘এন্টি লিবারেশন ফোর্স ‘- এ দুটি ধারাকে ভুলে গেলে চলবেনা।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- স্বাধীনতা-ধর্মনিরপেক্ষতা – এ ধারায় একটি রাজনৈতিক শক্তি।

অপরদিকে মুসলিম জাতীয়তাবাদ তথা ইসলামকে নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সামনে এনে যারা রাজনীতি করেন তারা। এদের মধ্যে কেউ কেউ মাঝে মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মনে করেন ধর্মহীনতা।

এরা আবার নিজেদেরকে বাংলাদেশী বলে পরিচয় দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন। দুটি ধারা রাজনীতিতে স্পষ্ট।

গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে আমেরিকান ডিপষ্টেট ও ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে সামরিক-জঙ্গী ক্যু সেই বিভাজনকে আরো বেশি করে স্পষ্ট করে দিয়েছে। কেউ কেউ হয়তো বলবেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কেন বিভাজন? কেন বিভেদ? বিদ্বেষ? এসব ভুলে গিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দিকেই এগিয়ে যাওয়া দরকার এখন।

এদের মতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনেতো ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করেন তাদের ভরাডুবি হয়েছে। বরং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের শক্তির উত্থান হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এদের অনেকে খুশী।

আবার কেউ কেউ এত বেশি গদগদ হয়েছেন যে তারাতো তারেক রহমানকে নতুন গণতন্ত্রের মানসপুত্র হিসেবেও আখ্যা দিতে চাইছেন। ইতিমধ্যে তারেক রহমানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছেন।

ইলেকশনের ক্যাম্পেইন করার সময় তারেক রহমান ও বিএনপি’র নেতারা আওয়ামীলীগ সমর্থকদের ভোট পাওয়ার জন্য একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করায় খুশীতে আটখানা হয়ে গেছেন।

কিন্তু এটি যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মাঠ গরম করা ও জনসমর্থন আদায় করার কৌশল মাত্র সেটি আর বুঝতে পারেননি। তারা ঠিকই বুঝবেন , তবে তা কিছুদিন পরে।

কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অধিক সংখ্যক সংসদীয় আসন এই ধর্মাশ্রয়ী বা ধর্মব্যবসায়ী জামায়াতে ইসলামী বা তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো পেয়েছে কিনা তা একটু ভেবে দেখতে বলি।

এবার ১২ ফেব্রুয়ারির একটি ইলেকশনের নামে সিলেকশনের মাধ্যমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট দখল করে নিয়েছে ।

এবার অবৈধ-দখলদার ইন্টেরিম ইউনুস সরকারের অধীনে হওয়া ইলেকশন নামে সিলেকশনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হওয়া এই ক্যারিকেচারের নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসন দখল করেছে।

এটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জোটগত হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭। ফলে সরকার গঠনের পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত।

বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে এবং জোটগতভাবে ২১২টিতে জয় পেয়েছে। তবে ৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।

এর আগে ১৯৯১ সালে জোটগতভাবে ১৮টি, ২০০১ সালে জোটগতভাবে ১৭টি ও ২০০৮ সালে এককভাবে ২টি আসন দখল করতে পেরেছিল জামায়াত। সেই তুলনায় এবারতো তাদের ভূমিধ্বস বিজয় বলতে হবে।

এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য চরম অশনি সংকেত। অবশ্য অনেকেই মনে করেছিলেন যে ইন্টেরিম সরকারের সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে জামায়াতের এতবেশি আধিপত্য থাকায় তারাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দখল করে নেবে।

পাশাপাশি তারা সরকারও গঠন করবে। তবে সেই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ ও জাতি।

১৭ বছর পর জামায়াত নিজস্ব নেতৃত্বে জোট গড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সরকার গঠন করার মতো সংসদীয় শক্তি বাগাতে না পারলে জোটগতভাবে ৭৭ টি আসন দখল কিন্তু ইসলামী মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অিপশক্তির উত্থান। এ বিষয়টি ভুলে গেলে চলবেনা।

বাংলাদেশের ইলেকশনের ইতিহাসে একাত্তরের খুনী-রাজাকারের দল জামায়াতে ইসলামী রাজধানী ঢাকায় কিন্তু একটি আসনও পায়নি। কিন্তু এবার ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিই তারা দখল করেছে। ঢাকা-৪, ৫, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬।

এছাড়াও তাদের জোটভুক্ত এনসিপির ক্যান্ডিডেট ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ সংসদীয় আসন দখল করেছেন।

আসলে ক্যাডারভিত্তিক এই জামায়াত অনেকদিন ধরেই তাদের নীলনকশা করে আসছিল ভোটের রাজনীতিতে কি করে তারা আধিপত্য বিস্তার করে ক্ষমতা দখল করবে। এজন্য অত্যন্ত কঠোর অধ্যবসায়, আর্থিক ভিত মজবুত করা, দেশের অন্য অংশ থেকে তাদের নিজস্ব ভোটারদেরকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভোটার করা, স্থানীয়ভাবে নিজেদের জনশক্তি বৃদ্ধি করার দিকে অধিক মনোযোগী হয়েছিল। আর সেই রেজাল্টও তারা পেয়েছে।

রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই ইসলাম ধর্মব্যবসায়ী দল জামায়াত ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলো জোর দিয়েছে বেশি।

পাশাপাশি চরাঞ্চল ও নদী-সমুদ্র বিধৌত এলাকার দিকেও তারা তাদের অবস্থানকে সাংগঠনিকভাবে সুসংহত করেছে।

তবে আওয়ামীলীগ এবারের ইলেকশনে অনুপস্থিত থাকায় জামায়াতের জন্য অনেক বেশি সুবিধের হয়েছে। আর বিএনপিও কিন্তু আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিকে শতভাগ কাজে লাগিয়েছে। তাই এবারের ভোটের সমীকরণটা বেশ ভাবনার।

আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সরাসরি নেতা কর্মীরা ভোট বর্জন করেছেন ঠিকই, কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সফট আওয়ামী লীগাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন।

আপাতত দেশ রক্ষায় মানে জামায়াতকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগের এই সমর্থকরা ভোট দিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক শত্রু বিএনপিকে মানে ধানের শীষে।

এমনকি কৌশলে তারা ধানের শীষের পক্ষে প্রচার প্রচারণাও করেছেন। এমন অনেক সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, যিনি ভোট দেবেন কি না ভাবতে ভাবতে শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিকিয়ে রাখার জন্য,নারীদের সমমর্যাদার জন্য।

তারা বলেছেন,জীবনে প্রথমবার ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।

পাশাপাশি আরেকটি বিষয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের নিয়ে। দেশের কমপক্ষে ৮০ টি সংসদীয় আসনের জয় পরাজয় নির্ধারণ করে এই হিন্দু সংখ্যালঘু ভোটাররা।

এর মধ্যে অন্তত ৩০ টি আসনে ২০ থেকে ৩০ পার্সেন্ট ভোটার হিন্দু। আওয়ামী লীগ সব সময় হিন্দু ভোটারদের তাদের রিজার্ভ ভোট হিসেবে ধরে রাখে। হিন্দুরাও নৌকাকেই তাদের প্রথম পছন্দ মনে করেন—মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল হিসেবে।

তাছাড়া আওয়ামীলীগ অন্তত ধর্মনিরপেক্ষতাকে এখনো ত্যাগ করেনি। পুরোপুরি প্র্যাকটিসের জায়গায় না হোক অন্তত কিছুটাতো পালন করে আওয়ামীলীগ, তাই বিশ্বাস ও আস্থাটি এই দলের ওপর হিন্দুদের।

তবে এবার আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতে যেসব হিন্দু ভোট দিয়েছেন তারা অধিকাংশই ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জামায়াত প্রার্থীকেও দিয়েছেন।

যেমন সুনামগঞ্জ -২ আসনে জামায়াতের শিশির মনির প্রচুর ভোট পেয়েছেন, তার আসনে হিন্দু ভোটও প্রচুর। একই অবস্থা খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল গোলাম পারোয়ারের ক্ষেত্রেও। তার এলাকায়ও হিন্দু ভোটার প্রচুর। তিনি না জিতলেও বিপুল ভোট পেয়েছেন।

খুলনার আরেকটি আসন(খুলনা-১) আসনটি পুরোটাই হিন্দু অধ্যুষিত। সেখানে আওয়ামীলীগের কলাগাছ দাঁড়ালে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী বিজয়ী হন। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। ভোট বর্জন করেছে। আশংকা ছিলো হিন্দুরা ভোট দিতে যাবে কি না!

কিন্তু বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষের আমীর এজাজ খান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। হিন্দুরা দলে দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন। এমন ঘটনা দেশের সর্বত্রই ঘটেছে। হিন্দুরা যে কারো ভোট ব্যাংক নয় সেটা এবার দেখা গেলো।

কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক নিজের মাতৃভূমির, নিজের দেশের মর্যাদা,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর অসাম্প্রদায়িক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকতে বিশ্বাসী হিন্দুরা। সবাই মিলে বাংলাদেশ। হিংসা হানাহানি সবার অপছন্দ।

হিন্দু হলেই ভোট পাবে এটা যে মিথ্যা তার প্রমাণ হলো জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। হিন্দুরা তাকে গড়পড়তা ভোট দেয় নি, পরাজিত করেছেন। তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছে।

বিএনপির কাঁধে এতো বছর জামায়াত ভর করেছিল। জামায়াত এবার ক্ষমতায় আসার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলো। সর্বোচ্চ সুযোগও তাদের ছিলো। এটা ধরে নিয়ে গুপ্তভাবে যারা বিএনপিতে ছিলো তারা নিজ দলে সরে যাওয়ায় পর বিএনপি ভোটের মাঠে একা হয়ে যায়।

সেই দুঃসময়ে বিএনপির জন্য এগিয়ে আসে আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটাররা। তারাই বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখে। বিএনপির ফিফটি পার্সেন্ট ভোট এসেছে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও হিন্দু ভোটারদের কাছ থেকে। বাকি ফিফটি পার্সেন্ট এসেছে বিএনপি থেকে। বিএনপিকে এটা মনে রাখতে হবে।

একই সঙ্গে হিন্দুরা যে কোনো দলের কোটারি নয়, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে বিশ্বাসী সেটাও প্রমাণিত হলো।

বিএনপি যে ভোট পেয়েছে, সেটাও তার নিজস্ব ভোটের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। নির্বাচনে বিএনপি হারতে যাচ্ছে এটা অনেকেই ধারণা করেছিলো।

অথচ, নির্বাচনের দিনে ঘটেছে পুরো বিপরীত ঘটনা। শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না, একেবারে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে গেছে তারা। এটা কি তারেক ম্যাজিক? পুরোপুরি না। আসল রহস্য লুকিয়ে আছে আওয়ামী লীগ আর স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের মধ্যে।

জামাতকে ক্ষমতায় যাওয়া থেকে ঠেকাতে এই অংশটা মরিয়া ছিলো। এরা জানতো জামাত একবার ক্ষমতায় গেলে তাদের প্রিয় বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না, পূর্ব পাকিস্তান হয়ে যাবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে তাই তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছে আপাতত শেষ আশ্রয় হিসাবে।

এই যে বিএনপির রাজনীতি তা কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার নীতি- আদর্শকে ধারণ করে ? সোজা কথায় না।

জিয়াউর রহমান বাইচান্স ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করে বনে গেলেন “স্বাধীনতার ঘোষক”। আর সেটিকেই পুঁজি করে বিএনপি নিজেদেরকে স্বাধীনতার পক্ষের দল হিসেবে দাবি করে।

কিন্তু এই দলটির জন্ম ইতিহাস অনেক বেশি সমালোচিত। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেয়া, মুক্তিযদ্ধে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারণা চালানো, হিন্দুদেরকে অবজ্ঞা ও তাদেরকে অত্যাচার-নিপীড়ন করাসহ অসংখ্য নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিষয় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেই জামায়াতকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ-অধিকার এমনকি রাজাকারদেরকে তার মন্ত্রীসভায় স্থান দিয়েছেন।

শাহ আজিজুর রহমান জিয়ার মন্ত্রীসভার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

সেই ধারাবাহিকতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও করেছেন। তিনি শুধু মন্ত্রী নয় দেশের প্রেসিডেন্ট বানিয়েছিলেন এক রাজাকারকে। যার নাম আবদুর রহমান বিশ্বাস।

তাদেরই উত্তরাধিকার তারেক রহমান বা তারেক জিয়া। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী ও ধারাবাহিকতায় তিনি প্রধানমন্ত্রী । কিন্তু তারেক জিয়াও কি এবারের সাজানো ইলেকশনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও তাদের বংশধরদের এমপি বানাননি? বানিয়েছেন।

তাহলে বিএনপিকে আমরা ‘প্রো লিবারেশন ফোর্স’ বলবো কিভাবে বলুন !? বরং দলটিকে একটি জগাখিচুরি মার্কা দল বলতে পারি।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের নামে সিলেকশনের নাটকে দেশের প্রো লিবারেশন ফোর্স বাধ্য হয়ে এই বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে লাখো শহীদের রক্ত ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই দেশ ও জাতিকে আপাতত রক্ষার জন্য।

উপায়হীন জনগণের কাছে আগে দেশ বাঁচানো জরুরী হয়ে পড়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি জঙ্গী-জামায়াত-ওয়াকার-ইউনুসের কবল থেকে। তবে তারেকের বিএনপি কি প্রো লিবারেশন ফোর্স এর রক্ষক হয়ে উঠতে পারবেন সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশবাসীর মনে।

সমালোচকগণ বলেন- জিয়াউর রহমানও যেমন একাত্তরে বাইচান্স মুক্তিযোদ্ধা তেমনি তারেক রহমানের বিএনপিও এবারের ইলেকশন নামক সিলেকশনে বাইচান্স জিতে গেছে।

দেখা যাচ্ছে বিএনপি’র জন্য “বাইচান্স” শব্দ-সময়-পরিবেশ অনেক বেশি সুপ্রসন্ন। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সত্যিকার অর্থে যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-স্বাধীনতার পক্ষে , গণতন্ত্রের পক্ষে ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দাঁড়াতে পারে তাহলে তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলকর।

সেইসাথে বিএনপির জন্যও অধিকতর সফল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে।

#রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *