এই স্বাধীন বাংলাদেশে আস্ফালন দেখিয়ে ‘পাকিস্তান দিবস’ পালন করলো একদল কুলাঙ্গার। এরা নিশ্চয়ই পাকি ঔরসে জন্ম নিয়েছে, বা সেই উত্তরাধিকারই বহন করছে তাদের শরীরে ও মননে। না হলে এমনটি হওয়ার কথা নয় নিশ্চয়ই।

এরা যে কোন গোপন বৈঠকে করেছে তা কিন্তু নয়। প্রকাশ্যে এবং দম্ভভরে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক সেক্টর কমান্ডারের দল যারা এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তারা তা নীরবে চেয়ে চেয়ে দেখলো!

কোন প্রতিক্রিয়া দেখিনি আমরা তাদের।
রাজধানী ঢাকায় কতগুলো পাকি নব্য রাজাকারের বংশধর এই মার্চ মাসেই গত ২৩শে মার্চ ‘পাকিস্তান দিবস’ পালন করলো সোৎসাহে ও দম্ভের সাথে।

নাহ্  এই দিবসটি পাকিস্তানী দূতাবাসে নয়, বা দূতাবাসের উদ্যোগে পালন করা হয়নি বাহ্যত। এরা নিজেদের উদ্যোগে একটা কর্মসূচী করে পাকিস্তান সৃষ্টি এবং এই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মহিমা বর্ণনা করেছে, গৌরব করেছে ইত্যাদি।এসব নব্য রাজাকার কারা ?

শুধু প্রশ্ন করেই এদের ছেড়ে দেয়া ঠিক হবেনা। এদের ডিএনএ টেষ্ট জরুরী হয়ে পড়েছে। এদেরকে একটু বিস্তারে চিহ্নিত করা প্রয়োজন- একদম প্রজন্ম ধরে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে জেনোসাইড চালানো সেই পাকিস্তানের প্রতি এত পেয়ার-মহব্বত দিলে পুষে রাখে এমন লোক ১৯৭১ সনেও বেশ কিছু ছিল, এখনো আছে।

একাত্তরের ডিসেম্বরে এদের চরম পরাজয়ের পরেও এরা ছিল এবং গত ৫৫ বছর ধরেও এরা আছে। আরো বেশি জেঁকে বসেছে। এদের শেকড় অনেক গভীরে এই স্বাধীন বাংলার মাটিতেই।

নাহলে তারা এমনভাবে আস্ফালন করে ঘটা করে ২৩শে মার্চ পাকিস্তান দিবস পালন করতে পারতোনা। এদের পেছনে শক্তি যোগানোর জন্য নিশ্চয়ই শক্ত সামরিক-রাজনৈতিক অপশক্তি রয়েছে।

এই গোষ্ঠীর সঙ্গে এই বাংলাদেশেরই সামরিক বেসামরিক আমলা রাজনীতিবিদ ওদের সাথে মেলামেশা ওঠাবসা রয়েছে।

তাই যদি না হবে তো সেই অসভ্য-খুনীর দেশ পাকিস্তানের জন্যে ওদের এত মহব্বত ভেসে যাচ্ছে কেন?

কারণ এরা সবসময়ই মুসলমানদের জন্যে একটা আলাদা দেশ চায়। একাত্তরে যে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিকামী জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছিল সেই বাংলাদেশটিকে তারা আবার পাকিস্তান বানাতে চায়। এবং তারা এটিকে পুরোপুরি ইসলামী রাষ্ট্র করতে চায়।

তাই এসব পাকি ঔরসজাতদের কাছে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা শত্রু, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাষ্টারদা সূর্যসেন,বীরকন্যা প্রীতিলতা,ক্ষুদিরাম বসু এরা হলো সন্ত্রাসী।

কিন্তু মুসলিম তীতুমীর আবার এদের কাছে বীর। হাবিলদার রজব আলীর কথা বলতে গিয়ে এদের চোখেমুখে আগুন ঠিকরে বের হয় ‘ইসলামী’ জোশের ঠেলায়।

অপরদিকে যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের প্রায় ১৩ টি বছর পাকিস্তানী শাসনামলে কারাগারে কাটিয়েছেন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে সেই বঙ্গবন্ধু তাদের কাছে চরম শত্রু।

আওয়ামীলীগ যে দলটি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল সে দলটিই শত্রু।

কারণ বঙ্গবন্ধু নিজের জীবন বিপন্ন করে একাত্তর সালে পাকিস্তানী অত্যাচার-নীপিড়নের বিরুদ্ধে এ বাঙ্গী জাতিকে এ বঙ্গকে স্বাধীনতার, মুক্তির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। চরমভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

অথচ তাঁর নামে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ, মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনী ও তার এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে অকাতরে প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশ নামে একটি দেশের জন্ম দিয়েছিলেন।

সেই বঙ্গবন্ধু যিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তিনি হয়ে গেলেন এদেশের শত্রু!!

অনেকেই বলে থাকেন- যে কারণে এরা আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে অপছন্দ করে ঠিক সে কারণটাই ওদের পাকিস্তানী পেয়ার-মহব্বতের ভিত্তি। এটা হচ্ছে ইংরেজদের তৈরি সাম্প্রদায়িক বিভাজন, তথা অন্তরে পুষে রাখা সাম্প্রদায়িকতা তথা মনের মধ্যে কিলবিল করা হিন্দু বিদ্বেষ।

আর ধর্মনিরপেক্ষতাকেও তাদের বড় ভয়।তাদের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা বা হিন্দুপ্রীতি।এমন একটি  বিরোধ তাদের মধ্যে সারাক্ষণ কাজ করে।

একই সাথে কাজ করে চরম ভারত বিদ্বেষ। কারণ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে বাংলাদেশকে স্বাধীন হতে সবধরনের সাহায্য করেছে তা কখনোই এরা মানতে পারেনি।তাদের কাছে ভারততো হিন্দু রাষ্ট্র।

অথচ সেই ভারতেই যে পরিমাণ মুসলিম বাস করে তা বাংলাদেশের এখনকার মোট জনসংখ্যার চেয়েও অন্ততপক্ষে ১০ কোটিরও বেশি- এ চরম সত্যটি তারা ভুলে যায়।

এই পাকি জারজ কুলাঙ্গারেরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কোন আদর্শগত বৈরিতা দেখে না। এদের কাছে বাংলাদেশ একটি ইসলামি রাষ্ট্র।

পাকিস্তানতো অনেক আগে থেকেই ইসলামী রাষ্ট্র। এমনকি তারা এমন খোয়াবও দেখে যে, ভারতকেও তারা ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করবে একদিন। সেজন্য অবশ্য তাদের অখন্ড ইসলামী ভারতরাষ্ট্র কায়েমের সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রও চলছে। দিল্লীর মসনদে তারা একদিন চানতারা খচিত সবুজ পতাকা ওড়ানোর খোয়াবও দেখছে।

এখন যেসব লোক, যারা পাকিস্তান ডে পালন করছে বা ঐরকম একটা সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে, ইনকিলাব মঞ্চ যেমন, এইগুলি নতুন কিছু না। এরা মূলত নানা মাত্রার সাম্প্রদায়িক লোকজন, যারা বাংলাদেশকে কেবল একটা মুসলমানের দেশ হিসাবে দেখে।

এরা সবসময়ই ছিল, স্বাধীনতার পর গা ঢাকা দিয়ে ছিল, ১৯৭৫এর পর আবার নানা পরিচয়ে বেরিয়েছে। ২০০৯ থেকে চব্বিশ সক্রিয় ছিল, কিন্তু মাস্তানি করার সুযোগ পায়নি। গত চব্বিশের পর ইসলামী জোশ দেখিয়ে  মব আকারে বেরিয়েছে।

লক্ষ্য করলে দেখবেন যা কিছু সেক্যুলার এবং যা কিছু বাঙ্গালিয়ানার সাথে সম্পৃক্ত সেগুলিকেই এরা আক্রমণ করে।

এদের আচার-আচরণে ও স্বভাবের দিক দিয়ে এরা কিন্তু হিটলারের চেয়েও ফ্যাসিস্ট। এটিও অনিবার্য, কেননা সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি সবসময়ই ফ্যাসিস্ট।

ইরানের ইসলামী শাসনের দিকে তাকালেই বোঝা যায় তারা ইসলামী রাজত্ব কায়েম করতে গিয়ে কি পরিমাণ ফ্যাসিষ্ট হয়েছে। কত হাজার তরুণ-তরুণী ও ইরানের সাধারণ প্রতিবাদী মানুষকে তারা ইসলাম রক্ষার নামে খুন করেছে!

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বছর, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর ১৯৭১ এর  ২৩শে মার্চ পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী জোর করে ‘পাকিস্তান দিবস’ পালন করতে চাইলেও তা করতে পারেনি এই বাংলায়।

পাকিস্তান আমলে এই দিনটিতে ‘পাকিস্তান দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও ১৯৭১ এর ২৩ মার্চ কিন্তু বাংলাদেশের পতাকা, জনগণের প্রতিরোধ ও আমার সোনার বাংলা গানের মধ্যে চাপা পড়েছিল তথাকথিত ‘পাকিস্তান দিবস’।

সে সময়কার পত্রিকাগুলো দেখলে বোঝা যাবে আসলে মুক্তিকামী বাঙ্গালী  সেই দিনটি কোনভাবে পালন করেছিল।

১৯৭১ সালের  ২৩ মার্চ দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় ‘আজ প্রতিরোধ দিবস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আজ ২৩শে মার্চ বাংলাদেশে প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন নামে এই দিবসের পৃথক কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন।’

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘আজ ২৩শে মার্চ’ শীর্ষক শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আজ (মঙ্গলবার) ২৩শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব দিবস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিন ছুটি ঘোষণা করিয়াছেন। স্বাধীন বাংলা দেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান এই দিবসটি ”প্রতিরোধ দিবস” হিসাবে পালন করার আহ্বান জানাইয়াছেন।’

ন্যাপ (ভাসানী) দিবসটিকে ‘স্বাধীন পূর্ববঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করে। এর মধ্য দিয়ে কার্যত মুছে যায় ‘পাকিস্তান দিবস’-এর আনুষ্ঠানিকতা। সেদিন রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় পতাকার নগরীতে।

প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এদিন ভোর ৬টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতা প্রভাতফেরি বের করে। প্রভাতফেরিটি আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবর, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করে। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

রাজধানীর সচিবালয়, হাইকোর্ট, সব সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকাও উত্তোলন করা হয়। একমাত্র প্রেসিডেন্ট ভবন, গভর্নর হাউস, ক্যান্টনমেন্ট ও তেজগাঁও বিমানবন্দরেই কড়া নিরাপত্তার মাঝে এদিন পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ওই সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ছিলেন পিপিপি প্রধান ভুট্টো। ওই হোটেলেও সেদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলার পর প্রভাত ফেরি বের করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্র-ছাত্রী ও সাবেক বাঙালি সৈনিকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জয় বাংলা বাহিনী’র আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও মহড়া। এ বাহিনীর সদস্যরা সামরিক কায়দায় জাতীয় পতাকার প্রতি অভিবাদন জানান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাজানো হয়, যা পরে পরিণত হয় জাতীয় সঙ্গীতে।

পরে জয় বাংলা বাহিনীর গার্ড অব অনার নেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন।

পতাকা উত্তোলন করেন জয় বাংলা বাহিনীর কমান্ডার হাসানুল হক ইনু। গান ফায়ার করেন ডেপুটি কমান্ডার খসরু।

ভোর থেকেই ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, চাকরিজীবী, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনতার একের পর এক মিছিল বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে।

মিছিলে শামিল হওয়া সর্বস্তরের জনতার হাতে হাতে ছিল বাঁশ, লাঠিসহ নানা দেশীয় অস্ত্র। জনতার কণ্ঠে ছিল সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান এবং জয় বাংলা স্লোগান।

স্বাধীন বাংলা ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে পল্টন ময়দানে ২৩ শে মার্চ মিছিল আকারে ৩২ নম্বরে এসে বঙ্গবন্ধুর হাতে পতাকা তুলে দিয়ে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। একইসঙ্গে উড়ানো হয় কালো পতাকাও। এ সময় সমবেত কণ্ঠে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি পরিবেশিত হয়। বঙ্গবন্ধু উপস্থিত সর্বস্তরের জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলার দাবির প্রশ্নে কোনো আপস নাই। বহু রক্ত দিয়েছি, প্রয়োজনবোধে আরও রক্ত দেবো, কিন্তু মুক্তির লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাবই। বাংলার মানুষকে আর পরাধীন করে রাখা যাবে না। আমরা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয়, সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকার লক্ষ্য অর্জনের সংগ্রাম আমাদের চলবে। এই সংগ্রামের পন্থা কী হবে তা আমিই ঠিক করে দেবো, সে ভার আমার উপরই ছেড়ে দিন। শাসক-কায়েমি স্বার্থবাদীদের কীভাবে পর্যদুস্ত করতে হয় আমি জানি। ‘

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররমের সামনে এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে ঐতিহাসিক বক্তব্য রাখেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের (নিউক্লিয়াস) প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান। সমাবেশে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করেন এবং আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ডাক দেন, যা ছিল সশস্ত্র সংগ্রামের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ।

২৩ মার্চ ঢাকা টেলিভিশনে পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান থাকলেও ঢাকা টেলিভিশনের বাঙালি কর্মীরা পাকিস্তান দিবসের কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করতে দেননি। পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতের বদলে এদিন প্রচারিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা। পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার বদলে পর্দায় ভেসে উঠেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

২৪ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছিল ‘আমরা শুনেছি ও‌ই, মাভৈঃ মাভৈঃ মাভৈঃ’। মাভৈঃ অর্থ ভয় করো না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, …বাংলা দেশের রাজধানী ঢাকায় সরকারী-বেসরকারী ভবনসমূহে, বাড়ি-ঘরে, যানবাহনে কালো পতাকার পাশাপাশি গতকাল সংগ্রাম পরিষদ পরিকল্পিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উড্ডীন করা হয়।

সকাল হইতে রাত পর্যন্ত ঢাকার রাস্তায় বীর বাঙালীর অগণিত মিছিল শুধু কামনা-বাসনা ও আকাঙ্ক্ষার ধ্বনিকে প্রতিধ্বনিত করিয়া গিয়াছে।

সেই একাত্তরের পেক্ষাপট আর গত চব্বিশের ‘জঙ্গী-সামরিক ক্যু’ এর পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিন্তু বদলে গেছে।আমরা দেখেছি অবৈধ ইউনুস সরকার জামায়াতী জঙ্গী দোসরদের নিয়ে কিভাবে পাকিপ্রেম দেখিয়েছেন। তারপর নানা ঘাত প্রতিঘাতের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের বৃহত্তম দল আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে ইলেকশনের নামে সিলেকশনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেন তারেক রহমান।

কিন্তু তার সরকারের আমলেই ঢাকার বুকে প্রকাশ্যে আবার সেই পাকিস্তান দিবস ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে পাকিস্তানী পতাকা নিয়ে কত তরুণের আস্ফালন কি সরকারের চোখে পড়েনা ?

অগ্নিঝড়া মার্চ মাসেতো নয়ই কোন মাসেই বাঙ্গালী কথিত পাকিস্তান দিবসকে গ্রহণ করবেনা- এটিই শেষ কথা।

কারণ এ বাংলা পাকিদের নয়। লাখো শহীদের পবিত্র রক্তের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশ। এটি জয় বাংলার দেশ। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশ চিন্তা করা যায়নি, যাবেনা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার নেত্রী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *