সংবাদমাধ্যম-সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে এদেশের দুজন ‘সম্পাদক-মালিক’ সবসময়েই নিজেদেরকে খুব সোচ্চার হিসেবে প্রচার করতেন। জাহিরও করতেন বলা যায়। তাদের আচার-আচরণে মনে হতো তারাই বাংলাদেশের মিডিয়ার হর্তা-কর্তা-বিধাতা।
তারা কুলীন, অন্যরা নীচু জাতের এবং অচ্ছুত। তারা যা বলবেন তাই কোরআন-বেদ-বাইবেল-ত্রিপিটক বা পবিত্র গ্রন্থের বাণীর মত। কিন্তু তাদের সেই অহংকার-দর্পচূর্ণ হয়েছে নিশ্চয়।
তবে আমরা পাঠক হিসেবে এভাবে এই দর্পচূর্ণ হওয়া কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনা। কারণ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় এ প্রচণ্ড রকমের আঘাত। আশংকা-ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
যে চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গী গ্রুপ বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা, ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে তাদেরকে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পাওয়ার বিষয়। কেউ কেউ হয়তো কিছুটা খুশী হতে পারেন এই হামলায়। কিন্তু সামান্যতম বিবেকবোধ সম্পন্ন কোন নাগরিক এতে খুশী হতে পারেন না।
কারণ এই দুটি সংবাদ মাধ্যমের আদর্শের সাথে নীতিবোধের সাথে একমত না হতে পারলেও তাদের ওপর হামলাকে কোনভাবেই সায় দিতে পারিনা। তা শুধু ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠীর হামলা বলে নয়। এটি যদি অন্য কোন শক্তিও করতো তাতেও সায় দেয়ার কোন কারণ নেই। কারণ এরা অপশক্তি।

যেকোন অপশক্তিই সমাজ-রাষ্ট্র-গণতন্ত্র-মানবতা ও শুভচিন্তা-মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই অপশক্তির বিষবৃক্ষ এখন আমাদের দেশে প্রচন্ড রকমের বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ধ্বংসকারি বিষবৃক্ষ যত দ্রুত উপড়ে ফেলা যায় ততই দেশ ও সভ্যতার জন্য মঙ্গল।
কেউ কেউ তালি বাজিয়েছেন বা বাজাচ্ছেন অথবা বাজাবেন এই দুটি “সুশীলীয় মিডিয়া’র চরম সংকট দেখে। সেই তালি বাজানোতে অবশ্য কেউ বাধা দিতে পারেন না। সেটিও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু সেখানেও একটু ভাবতে হবে। কারণ ঢালাও স্বাধীনতা আবার চরম বিপদ ডেকে আনে।
যে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ-জাতি-রাষ্ট্র-সমাজ-গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হানে সে স্বাধীনতা দিয়ে আমরা কি করবো বলুন? এমন স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আমরা চাইবোনা।
সোমবার ২২ ডিসেম্বর সব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সভায় আমরা দেখলাম অত্যন্ত মনোকষ্ট নিয়ে আবেগতাড়িত কন্ঠে মাহফুজ আনাম সাহেব সেদিনকার (১৮ ডিসেম্বর) ঘটনার বর্ণনা করেন অসহায়ভাবে। সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক এ পরিস্থিতি।
সেদিন রাতে ডেইলি স্টারে সংঘটিত ভয়াবহ পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আগুনের লেলিহান শিখায় সাংবাদিক সহকর্মীদের জীবন শঙ্কার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। যে কারোই ( মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন) সেদিনের জঙ্গী হামলা-আক্রমন ও জিঘাংসার পরিস্থিতি দেখলে ঠিক থাকার কথা নয়।

যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেক সমালোচনা চলছে। সেটি হতেই পারে। আশা করি এ সমালোচনা সইবার সক্ষমতা আছে জনাব মাহফুজ আনামের।
অবশ্য এর আগে সেই ওয়ান ইলেভেনের সময় হাসিনা-খালেদার বিরুদ্ধে ডিজিএফআই এর নির্দেশিত ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় ছাপিয়েছেন এই মাহফুজ আনাম-মতিউর রহমান সুশীল সম্পাদক-মালিক সম্পাদক মহোদয়গন।
পরবর্তীতে অবশ্য মাহফুজ আনাম সাহেব একটি টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন অকপটে। কিন্তু দোষ স্বীকার করলেই কি সব হয়ে যায়? প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রীর মানসম্মানে ক্ষতি যা করার তাতো করেই ফেলেছেন তারা।
একটু বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ভূমিকা। এরা এই সমাজে নতুন একটি “জাত” তৈরী করতে চেয়েছেন। যা “সুশীল” নামে পরিচিত। এই সুশীলদেরকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন নানা কৌশলে। তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তারা লেখা দেন এ দুটো পত্রিকাতে। নানা সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করেন।
সবই চলে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে। তবে মজার বিষয় এ দুটো পত্রিকাই আজীবন আওয়ামী বিরোধী ভূমিকা রাখায় সোচ্চার কন্ঠস্বর ছিলো। তাদের মূল শত্রু যেন আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনা।
কিন্তু সেই শেখ হাসিনার সময় কিন্তু কখনো এ দুটো পত্রিকার ওপর এ ধরনের বা অন্য কোন হামলাই হয়নি। সমালোচনা করতেন অবশ্যই আওয়ামীলীগ নেতা- কর্মীরা, তবে হামলা কখনোই নয়। মতি-মাহফুজ গং যে অপপ্রচার করেন, আওয়ামীলীগ আমলে তারা স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে পারেননি।
তাহলে তারা কি বিএনপি বা এখনকার জঙ্গী সমর্থিত ড. ইউনুস এর সময়কালে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে? আর সেই স্বাধীনতার সুফল কি গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন লাগানোর পরে ভোগ করেছেন!!
তারা দাবি করেছেন, গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশে কোন মিডিয়াতে হামলা, ভাংচুর আগুন লাগানো হয়নি। কিন্তু জনাব মাহফুজ ও মতিউর রহমান সাহেবকে স্মরণে করিয়ে দিতে চাই, গত ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের পর বিটিভি, একাত্তর টিভি, এটিএনসহ আরো কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে আগুন লাগানোসহ নানাভাবে হামলা করা হয়েছিল।
অসংখ্য সংবাদ মাধ্যমকে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত-ক্যাডাররা তাদের নিয়ন্ত্রণে
নিয়েছেন। এখনো তারা সেসব প্রতিষ্ঠান তাদের মত করেই নিয়ন্ত্রণ করছে। নাটুকে ড.ইউনুস কয়েকমাস আগে পদত্যাগ এর একটি বার্তা দিয়ে তার অবস্থার পরিস্থিতি দেখতে চেয়েছেন।
তবে তা তিনি দিয়েছিলেন তখনকার “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” এর নেতাদের মাধ্যমে। আর এর পর পরই আমাদের এই বর্ষিয়ান মালিক-সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার পত্রিকাতে বিশাল এক আকুল আবেদন ছাপেন-প্লিজ আপনি যাবেন না হে মহান ইন্টেরিম ড. ইউনুস সাহেব—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে। তার তখনকার সেই আবেদন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তা নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যাননি।
আমরা সেই এক এগারোর সময়কার অবস্থা এবং ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে ডেইলি স্টার-প্রথম আলোর নানা প্রতিবেদন-সম্পাদকীয়-উপ সম্পাদকীয় নানা আলোচনায় দেশে রাজনীতির বিরুদ্ধে বরং বিরাজনীতিকরনের স্বপক্ষে নানা ষড়যন্ত্র চলেছে। এটিকে ষড়যন্ত্রই বলবো।
কারণ যাই ঘটুক না কেন শেষ অবধি রাজনীতিই দেশকে চালিত করবে। কোন সামরিক বা অরাজনৈতিক শক্তি আমাদের এই বাংলাদেশ শাসন করুক তা নিশ্চয়ই মঙ্গলজনক কোন কিছু বয়ে আনবেনা।
একটু পেছনের দিকে তাকাই। গত ৪ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৫ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, “বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা সহিংসতা সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। এটা কীভাবে সম্ভব? এটা আমাদের জন্য অসম্মানের। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও ২০০ বা কিছু বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল”।
সেই সভায় তিনি বলেন, “ ১৩ জন সাংবাদিক গ্রেফতার আছেন। তারা যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু তারা জামিন পাচ্ছেন না। তাদের আইনি কোনও প্রক্রিয়া চলছে না। বিচার হচ্ছে না। তাহলে এটা কি চলতে থাকবে? এখন মামলার যে প্রবণতা, তাতে ১০০ জন, ৫০ জন, ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তার মধ্যে একজন সাংবাদিকের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।”
কিন্তু তিনি বা তার অপর সহযোগী মতিউর রহমানও এসব ব্যাপারে এতটুকু বলেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। আর কিছু বলেননি বা করেননি। করতে চাননি আসলে। নাহলে তারা কিন্তু একটি জনমত তৈরী করতে পারতেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী ফোরাম গঠন করতে পারতেন।
সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন নিয়ে এই ‘মতি-মাহফু ‘ নেতৃত্বাধীন ‘প্রথম আলো-ডেইলি স্টার’ তেমন কোন অবদানই রাখেননি। অথচ তারা প্রভাবশালী সম্পাদক- সংবাদমাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত ভালো ভূমিকা রাখতে পারতেন। নাহ তা তারা করেননি।
কিন্তু এখন যখন নিজেরা আক্রান্ত হয়েছেন তখন তাদের আবেগ উথলে উঠেছে। এখন তারা কান্নাজড়িত কন্ঠে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন মাত্র।
গত ৯ অক্টোবরই লিখেছিলাম- “সাংবাদিকতা-বাকস্বাধীনতা-গণতন্ত্র সবই কবরে ইউনুসীয় শান্তির জ্বালায়। কথা বলার অধিকার! বাক স্বাধীনতার অধিকার! সংবাদপত্র তথা মিডিয়ার অধিকার! ছিঃ ইউনুস ছিঃ!” শিরোনামে।
এই সরকারের আমলে বিনা বিচারে জেল খাটছেন কমপক্ষে ১৫ সম্পাদক-সাংবাদিক। আর খুন, হত্যাপ্রচেষ্টা, বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা অভিযোগে অন্তত ৩০০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফলে সাংবাদিকেরা মহা আতংকের মধ্যে আছেন।কারান্তরে নির্যাতিত সাংবাদিকেদের পক্ষে আদালতে কোন কিছু বলতেও দেয়া হচ্ছেনা। আর যেসব সাংবাদিকদের নামে মামলা রয়েছে নানা মিথ্যা অভিযোগে তারাও আগাম জামিন নেবেন তেমন কোন উপায়ও নেই।
এতে গত ৩রা মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আরএসএফ এর গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৫তম, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।
আগের বছর ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ছিল ১৬৩তম।
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংগঠন উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে গত তিন মাসে একাধিক বিবৃতি দেয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সাত মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাধা ও হামলায় আহত হয়েছেন ২৭৪ জন সাংবাদিক। সম্প্রতি টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনজন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনকালে হামলায় নিহত হয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে এদেশের বহুল পঠিত পত্রিকাগুলো সব সময়েই স্বাধীনতা এনে দেওয়া একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি এত প্রতিশোধপরায়ণ কেন ? অবশ্যই পত্রিকার কাজ সরকারের সমালোচনা করা, রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করা, রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করা, এতে কোন সমস্যা নাই, বরং সেটাই কাংখিত ও গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চার অংশ। কিন্তু প্রতিশোধপরয়ায়ণতা তো ভিন্ন জিনিষ, সেটা অসুস্থ চর্চা।
সেটা কেন? সেটা নিশ্চয় ক্ষতি করার জন্য প্রতিশোধের স্পৃহা বা ইন্টারেস্ট থেকে। এই ভিনডিকটিভ ইন্টারেস্ট থেকে প্রতিশোধপরায়ণতা ভূরাজনৈতিক ডিপ স্টেটের স্বার্থেও হতে পারে, বা গ্লোবাল কর্পোরেট উদ্দেশ্যেও হতে পারে, আবার হতে পারে সংখ্যাগুরুর কালেকটিভ সাইকি থেকে।
তবে আমরা সেই এক এগারোর পরে বায়তুল মোকারমের সাবেক খতিব ওবায়দুল হকের কাছে নতজানু হয়ে প্রথম আলোর মালিক-সম্পাদক মতিউর রহমানের নতজানু হয়ে ক্ষমা চাওয়াও দেখেছি। এরা দুজনেই এধরনের ক্ষমা চাইতে ওস্তাদ।
আবার পরক্ষণেই উল্টে যায়।তবে আওয়ামীলীগের বিরোধীতা তাদের যেনো মজ্জাগত অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মূল টার্গেট হলো আওয়ামীলীগ।
গত ৫ আগষ্ট’২০২৪ এর আগ থেকে অত্যন্ত কৌশলে ও পরবর্তীতে নগ্নভাবে জঙ্গী সমর্থিত “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” এবং এরপর থেকে ইউনুসসহ এনসিপি’র একনিষ্ঠ পেট্রোনাইজার হয়ে গেছে পত্রিকাদুটি। একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে একসময়কার সাবেক কমিউনিষ্ট ( যদিও তা ছিল তোর মুখোশ) নেতা মতিউর রহমান এনসিপি নেতাদের সাথে এত আন্তরিক আর হৃদ্যতার সাথে আলাপচারিতায় মশগুল।
কিন্তু গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে হামলা ও আগুনে রোস্ট হওয়া ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মাহফুজ-মতি তাদের ভোল পাল্টে ফেলেছেন। এরই মধ্যে তারা তারেক রহমানের বন্দনায় বিগলিত হয়ে উঠেছেন।
লন্ডনে পলাতক অবস্থা থেকে ফিরতে যাওয়া বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকেই এই দুই প্রবীন মালিক-সম্পাদক বাংলাদেশের তথা এই দুই প্রতিষ্ঠানের ত্রাতা হিসেবে দেখছেন। যা তাদের কথাবার্তা ও আচার আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। এমন দুই বাঘা সাংবাদিক-সম্পাদক-মালিকের জন্য অনেকটা করুণা হয়।
## ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক, নারী সংগঠক।
